ঢাকা, শুক্রবার 12 April 2019, ২৯ চৈত্র ১৪২৫, ৫ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দূতাবাসে পুলিশ ডেকে অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দিল ইকুয়েডর

১১ এপ্রিল, বিবিসি, সিএনএন : সাড়াজাগানো বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করেছে লন্ডন পুলিশ। লন্ডনস্থ ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। 

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় ২০১০ সালে। মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে উইকিলিকস উন্মোচন করে মার্কিন সাম্রাজ্যের নগ্নতাকে। সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করে মুক্তমতের পক্ষের অ্যাকটিভিস্টরা। ২০১৮ সালের জুনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুরক্ষার অবসান ঘটাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ মাসেই অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে লন্ডন দূতাবাস থেকে এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেয় ইকুয়েডর।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তার বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিলো পুলিশের। ইকুয়েডর সরকার তার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহারের পর ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত পুলিশকে দূতাবাসে ডেকে নেন।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেন, বারবার আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করায় অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করেছে তারা।

গুপ্তচরবৃত্তি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার : দুনিয়াজুড়ে সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর সরকারের গুপ্তচরবৃত্তি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন। এমনটাই অভিযোগ করেছে উইকিলিকস। বুধবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির এডিটর-ইন-চিফ ক্রিস্টিন র‌্যাফসন। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই তারা লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর ঘটনা উন্মোচন করেছেন। ২০১২ সালের জুন থেকে এই দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।

৪ এপ্রিল উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, ‘ব্রেকিং: ইকুয়েডর সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র উইকিলিকসকে জানিয়েছে, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কার করা হবে। অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আইএনএ পেপারস অফশোর স্ক্যান্ডাল। এরইমধ্যে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।’ পরে আরেকটি টুইটে বলা হয়, দ্বিতীয় আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে অ্যাসাঞ্জকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয় দফায় নিশ্চয়তা পেয়েছে তারা। ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জো ভ্যালেন্সিয়া অবশ্য তখন উইকিলিকস-এর দাবিকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। এরমধ্যেই ১০ এপ্রিল লন্ডনের সংবাদ সম্মেলনে ইকুয়েডর কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে অ্যাসাঞ্জের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তোলেন উইকিলিকসের এডিটর-ইন-চিফ ক্রিস্টিন র‌্যাফসন।

ক্রিস্টিন র‌্যাফসন বলেন, লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের বিভিন্ন মেডিক্যাল পরীক্ষার ফুটেজ এবং আইনি পরামর্শকদের সঙ্গে বৈঠক ও আইনি নথিসহ বিভিন্ন অডিও ও ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে।

উইকিলিকস মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইকুয়েডরের সঙ্গে এক হয়ে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকে বের করতে চাইছে। আর দূতাবাসের ওই নথিগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেও শেয়ার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এর সাপেক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

লন্ডনে ইকুয়েডরের সাবেক কূটনীতিক ফিদেল নারভায়েজ বলেন, তিনি মনে করেন ইকুয়েডর আর অ্যাসাঞ্জকে সুরক্ষা দিচ্ছে না।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় ২০১০ সালে। মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে উইকিলিকস উন্মোচন করে মার্কিন সাম্রাজ্যের নগ্নতাকে। সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করে মুক্তমতের পক্ষের অ্যাকটিভিস্টরা। ২০১৮ সালের জুনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুরক্ষার অবসান ঘটাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ মাসেই অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে লন্ডন দূতাবাস থেকে এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে নিয়েছে ইকুয়েডর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ