ঢাকা, রোববার 14 April 2019, ১ বৈশাখ ১৪২৬,৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অ্যাসাঞ্জকে আটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক ফোরামে নিয়ে যাবে রাশিয়া

১৩ এপ্রিল, আলজাজিরা, টাইমস অব ইন্ডিয়া : অনুসন্ধানী ওয়েবসাইট উইকিলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের আটকের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর উচিত অ্যাসাঞ্জের অপ্রত্যাশিত গ্রেফতারের ঘটনাটির প্রতিবাদ করা।

আমেরিকার বহু অপকর্মের গোপন তারবার্তা প্রকাশ করে দিয়ে বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন উইকিলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ।

জাখারোভা মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারের ঘটনায় বাক স্বাধীনতা ও তথ্য প্রকাশের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং এটি সাংবাদিকদের অধিকারকে মারাত্মকভাবে পদদলিত করেছে।  লন্ডনস্থ ইকুয়েডরের দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনার ঘটনায় তার অবমাননা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

  উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডরের দূতাবাস থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১২ সালে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইকুয়েডর সরকার ৪৭ বছর বয়সি অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিল করার পর দেশটির দূতাবাসে পুলিশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত এ আমন্ত্রণ জানান। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েক ব্যক্তি জোরপূর্বক অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাসে ভেতর থেকে বের করে অঙ্গনে রাখা পুলিশের গাড়িতে তুলছেন।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ২০১২ সালের ১৯ জুন লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন। গ্রেফতার এবং তার পরিণামে আমেরিকায় ফেরত পাঠানোর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এমনটি করেছিলেন তিনি।

 যুক্তরাষ্ট্রে বহিঃসমর্পণে আপত্তি লেবার পার্টির : যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা জেরমি করবিন বলেছেন, ইরাক ও আফগানিস্তানে যে বর্বরতা হয়েছে, তা ফাঁস করার দায়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বহিঃসমর্পণ চাওয়া হচ্ছে; ব্রিটিশ সরকারের উচিত এর বিরোধিতা করা।

শুক্রবার টুইটারে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতার বহিঃসমর্পণের বিরোধিতা করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বহিঃসমর্পণের বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই লেবার পার্টির শীর্ষ নেতার এ মন্তব্য এল।

 কেবল তিনিই নন, তার দলের আরও অনেক প্রভাবশালী নেতাও অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে না দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

২০১২ সালে কম্পিউটার হ্যাকার গ্যারি ম্যাককিনোনের প্রত্যর্পণ রুখে দেয়া হয়েছিল, সেভাবেই অ্যাসাঞ্জের বহিঃসমর্পণ প্রক্রিয়া আটকে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেবার পার্টির নেতা ডায়না অ্যাবোট।

মানবাধিকারের কারণ দেখিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে হ্যাকার ম্যাককিনোনের প্রত্যার্পণ আটকে দিয়েছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত মে টোরি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

২০১০ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই সৃষ্টি করা উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে ধরতে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

২০১২ সাল থেকে অ্যাসাঞ্জ লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। একুয়েডরের বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে তার আশ্রয় বাতিল করা হয়। লন্ডন পুলিশ বৃহস্পতিবার তাকে একুয়েডর দূতাবাসের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে।

গ্রেপ্তার এ অস্ট্রেলীয়র বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে জামিনের শর্ত লংঘনের বিচার চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১২ মাসের সাজা হতে পারে।

উইকিলিকসের এ সহ-প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কম্পিউটারে আড়িপাতার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রও। দোষী প্রমাণিত হলে এ অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কম্পিউটারে আড়িপাতার এ অভিযোগ মূলত মার্কিন প্রশাসনের ‘কৌশল’।

বড় কোনো অভিযোগ দিলে অ্যাসাঞ্জের বহিঃসমর্পণ আটকে যেতে পারে, সে কারণে আপাতত আড়িপাতার অভিযোগেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা চলবে; বহিঃসমর্পণের পর তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ দায়ের হবে বলেও ভাষ্য তাদের

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ