ঢাকা, মঙ্গলবার 16 April 2019, ৩ বৈশাখ ১৪২৬, ৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আমাকে চুপ রাখা যাবে না-ইলহান ওমর

১৫ এপ্রিল, পার্স টুডে : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর বলেছেন, আমার মুখ কেউ বন্ধ রাখতে পারবে না। মুখ বন্ধ করে বসে থাকার জন্য কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টুইটের জবাবে গত শনিবার তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ভিডিও চিত্রের সঙ্গে কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বক্তব্য যোগ করে তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প ওই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে সবাইকে বোঝাতে চেয়েছেন, ইলহান ওমর ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহতদেরকে গুরুত্ব দিতে চান না।

এর আগে ইলহান ওমর একটি মুসলিম সিভিল রাইটস গ্রুপে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন মুসলিমদের অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে বলেছিলেন, কিছু লোক ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘটিয়েছে, আর এরপর থেকে আমরা মুসলমানরা স্বাধীনতা হারাতে শুরু করেছি।

তার এই বক্তব্যকে অপব্যবহারের চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ইলহান ওমর আরও বলেন, ‘আমি চুপ থাকার জন্য কংগ্রেসে যাইনি। আমি মার্কিন কংগ্রেসে প্রবেশ করেছি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে এবং এর জন্য যুদ্ধ করতে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে অবমাননাকারী ভিডিও টুইটারে প্রকাশ করার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

এর আগে প্যাট্রিক কারলিনিও (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন কার্যালয়ে ফোন করে তাকে হত্যার হুমকি দেন। ইলহান ওমরকে তিনি মিসরের নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে দাবি করেন। গুলি করে তার মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন।

ইলহান ওমরের জন্মস্থান সোমালিয়া। সে দেশ থেকে আসা প্রথম আমেরিকান-মুসলিম আইনপ্রণেতা তিনি। ২০১৬ সালে মিনেসোটার হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য নির্বাচিত হন এই নারী। অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যু নিয়ে কাজ করেন তিনি।

ইসরাইল ও মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইলী লবির প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করায় কয়েক সপ্তাহ আগে নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে ও বাইরে তোপের মুখে পড়েন ইলহান ওমর। তার বক্তব্য ইহুদিবিদ্বেষী-এই অভিযোগে ডেমোক্র্যাটিক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে (ইলহান ওমর) কংগ্রেসের বৈদেশিক কমিটি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

তবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল সদস্যরা ইলহান ওমরের পাশে রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ