ঢাকা, মঙ্গলবার 16 April 2019, ৩ বৈশাখ ১৪২৬, ৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পাটকল শ্রমিকদের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু

৯ দফা দাবিতে গতকাল সোমবার ডেমরায় পাটকল শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: প্রস্তাবিত মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি ও পাট ক্রয়ের টাকাসহ ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করছেন পাটকল শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে গতকাল নরসিংদীতে  জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করে।
গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। খুলনা অঞ্চলের ৯টিসহ সারা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকল একযোগে এই কর্মসূচি পালন করছে।
এর আগে দুই দফায় রাজপথে কর্মসূচি পালন করলেও পাটকল শ্রমিকদের দাবি পূরণে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় নতুন করে এ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক নেতারা জানান।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, মজুরি বাড়ানোর দাবি পূরণ তো হয়ইনি, বকেয়া টাকা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তারও কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। সে কারণে গত ১২ এপ্রিল বিকালে খুলনা মহানগরের খালিশপুর বিআইডিসি সড়কে পিপলস জুট মিল গেটে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশ থেকে ৯ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি হচ্ছে-১৪ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রতিটি মিলের গেটে সভা ও রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল।
১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল টানা ৯৬ ঘন্টা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন ও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ। এরপর বিরতি দিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রত্যেক মিলে শ্রমিক সভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল টানা ৭২ ঘন্টা ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানান, খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইস্টার্ন এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলে বর্তমানে ১৩ হাজার ২৭১ শ্রমিক কাজ করছেন। মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে নরসিংদীতে একই দাবিতে পুনরায় আন্দোলনে নেমেছে ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকরা। জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশসহ টানা ৯৬ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করছে তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টা থেকে শ্রমিকরা জুট মিলের প্রধান ফটকের সামন জড়ো হতে থাকে। প্রথমে তারা মিল গেইটের সামনের সড়কে বসে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। পরে উত্তেজিত হয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। পরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, ইউএমসি জুট মিল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
খুলনায় রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি : নয় দফা দাবিতে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট ও প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে রাজপথ-রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি শুরু করেছে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা। সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করেন।
শ্রমিকরা নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নিয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক, নতুন রাস্তা মোড় থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সড়ক, বিআইডিসি সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে রাখে। এছাড়া তারা বিক্ষোভ মিছিল, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশ করেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে খুলনার শিল্পাঞ্চল আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে। সড়ক অবরোধ থাকায় মহাসড়কের যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে খুলনার ক্রিসেণ্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ণ, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা এ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা বলেন, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পি এফ গ্রাচ্যুইটি ও মৃত শ্রমিকের বিমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনঃবহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মওসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ নয় দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলো। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা রাজপথে আবার নামতে বাধ্য হয়েছি।
শ্রমিক নেতারা জানান, ৬ এপ্রিল ঢাকায় বিজেএমসি’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিক লীগ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় বিকেলে আবারও বিজেএমসি’র চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যদের নিয়ে ছোট পরিসরে বৈঠক করা হয়। কিন্তু সেখানেও দাবি মেনে নেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা দিতে পারেননি। সরকার টাকা দিলে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দেওয়া হবে বলে জানান কর্মকর্তারা। কিন্তু কবে নাগাদ ওই টাকা পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত নয়। যার কারণে তারা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেণ্ট জুটমিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, মজুরি ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকদের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি মানা না পর্যন্ত আমরা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, সোমবার থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা করে টানা ৯৬ ঘণ্টা পাটকল ধর্মঘট এবং সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে। এরপর বিরতি দিয়ে আগামী ২৫ এপ্রিল গেটসভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ৭২ ঘণ্টার পাটকল ধর্মঘটসহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ৬৪ সপ্তাহের বেতন ও মজুরি ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে ৩১ কোটি ১৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
এদিকে পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ভোর ৬ টা থেকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। একই সঙ্গে নগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় খুলনা-যশোর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পরেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
খুলনা স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, সকাল ৬টা থেকে ট্রেন ছাড়া সম্ভব হয়নি। অবরোধ সকাল ৮টা থেকে শুরু হলেও যাত্রী ও ট্রেনের নিরাপত্তা চিন্তা করে ভোর ৬টা থেকেই ট্রেন ছাড়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ভোর ৬টার কমিউটার, সাড়ে ৬টার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে, সোয়া ৭টার রূপসা এক্সপ্রেস, সকাল ৮টা ৪০ এ চিত্রা এক্সপ্রেস, ৯ টা ১০ এ রকেটসহ দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনও ট্রেনই ছাড়া সম্ভব হয়নি।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল টানা ৯৬ ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন ও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ। এরপর বিরতি দিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রত্যেক মিলে শ্রমিক সভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল টানা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ। গত ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় পিপলস গোল চত্বরের শ্রমিক সভা থেকে শ্রমিক নেতারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে গত ৬ এপ্রিল ঢাকায় বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভা সফল না হওয়ায় শুক্রবার বিআইডিসি রোডের পিপলস গোল চত্বরে ধর্মঘট, রাজপথ রেলপথ অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ ৯ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, জাতীয় মজুরি কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ, পাটক্রয়ের অর্থবরাদ্দ, বদলি শ্রমিক স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সব বকেয়া পরিশোধ, শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে মজুরি পরিশোসহ বকেয়া মজুরি প্রদান, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের ন্যায় সব সুযোগ, সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। সর্বশেষ চলতি মাসের ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সব পাটকলে একযোগে ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট ও ৪ ঘণ্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে মিলসহ শিল্পাঞ্চল খুলনা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৯ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে পাটকলের শ্রমিকরা। এ সময় খুলনা যশোর মহাসড়কের পাবলা পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও ৪ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলন চলাকালে ৩ এপ্রিল বিজেএমসির পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের আলোচনায় ডাকা হয়। ৬ এপ্রিল ঢাকায় বিজেএমসির কার্যালয়ে বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ নাসিমের সঙ্গে ৯ দফা দাবি নিয়ে বৈঠকে বসেন পাটকল শ্রমিক লীগ নেতারা। সেই বৈঠককে শ্রমিকদের স্বার্থ আদায় না হওয়ায় বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান শ্রমিক নেতারা। ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জাতীয় মুজরি কমিশন বাস্তবায়ন, প্রতি সপ্তাহে মুজরি প্রদান, বদলি প্রমিকদের স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্তদের সব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে নতুন আন্দোলন কর্মসূচি পালন শুরু হয়।
চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম ব্যুরো : নয় দফা দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি সোমবার  চট্টগ্রামের কয়েকটি স্থানে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা টায়ার, কাঠ জ্বালিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। দুর্ভোগে পড়ে মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন রুটের যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
নগরের বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খন্দকার জানান, ১২টার মধ্যে শ্রমিকরা সড়ক ও রেলপথ ছেড়ে চলে যাবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ আমিন জুটমিল এলাকায় রয়েছে।
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদ যৌথভাবে এ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ। ২৬ এপ্রিল শ্রমিক সমাবেশ, ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ চলবে বলে জানা গেছে।
পাটকল শ্রমিক নেতারা জানান, তাদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি ও বেতন প্রদান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ-গ্রাচ্যুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বিমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, মৌসুমে পাট কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা প্রভৃতি।
পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১ এপ্রিল থেকে পাটকল শ্রমিক লীগ, সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদ লাল পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ, ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট, রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ চারদিনের কর্মসূচি পালন করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ