ঢাকা, মঙ্গলবার 16 April 2019, ৩ বৈশাখ ১৪২৬, ৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান খালেদা জিয়ার

জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে গতকাল সোমবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ শেষে মিডিয়া ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। রোববার দলেল মহাসচিব তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। বেগম জিয়া বলেছেন, দল ও দেশের জনগনের যে ঐক্য, সেই ঐক্য যেন অটুট থাকে। গতকাল সোমবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তিনি বলেণ, দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে আমরা আজকে শপথ নিয়েছি যে, আমরা আন্দোলন বেগবান করব। প্রতিটি আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ, ধরণ ও কৌশল থাকে। আন্দোলন বলতে শুধু হরতাল ও অবরোধ যদি বুঝেন তাহলে আপনাদের এ বিষয়ের সঙ্গে আমরা একমত হতে পারি না।
আন্দোলনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আন্দোলন বলতে বুঝি, জনগনকে সঙ্গে নিয়ে সোচ্চার হতে হবে, জনগনের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করতে হবে। এর জন্য আমরা কাজ করছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা মনে করি, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে আমরা সক্ষম হবো এবং আমরা দেশ থেকে নির্বাসিত গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারবো।
রোববার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বাইরে যে গুঞ্জন রয়েছে সে বিষয়ে কোনো কিছু আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রথম হচ্ছে, প্যারোল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এছাড়া প্যারোল আমাদের দলের বিষয় নয়। এটা বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিষয়। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করি নাই।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বাস্থ্য এবং তার যেন আরও ভালো চিকিৎসা হয়, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়া তার মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। দলের অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানতে চেয়েছেন এবং দলের নেতা-কর্মীদেরকে বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দল ও দেশের জনগনের যে ঐক্য, সেই ঐক্য যেন অটুট থাকে।
সংসদে শপথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। আমরা তো এই সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচরের ফলাফল প্রত্যাখান করেছি।
গতকাল সকাল ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রধান মাওলানা শাহ নেছারুল হক, সদস্য সচিব মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারসহ নেতা-কর্মীদের নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেরে বাংলা নগরে জিয়ার কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন এবং মরহুম নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। ওলামা দলের কমিটি ভেঙে দিয়ে গত ৪ এপ্রিল শাহ নেছারুল হকে আহ্বায়ক করে ১৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বিএনপি।
নিন্দা ও শোক: রোববার রাতে বগুড়া জেলাধীন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহ্বুবুল আলম শাহীনকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের মহাভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দুঃশাসন যেন আরও তীব্র মাত্রা লাভ করেছে। সরকার দেশকে বিএনপিশূন্য করতে এখন বেপরোয়া ভূমিকায় মাঠে নেমেছে। স্বৈরাচারী সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং প্রতিবাদী মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত করে চারিদিকে ভীতির বিস্তার ঘটাচ্ছে, যাতে সরকারের বিরুদ্ধে কেউ আওয়াজ করারও সাহস না পায়। বিশে^র গণধিকৃত সকল স্বৈরাচারকে টেক্কা দিয়ে জনসমর্থনহীন আওয়ামী সরকার এখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর মহাসমারোহে মধ্যরাতে ভোট ডাকাতির পর সরকারের আশকারায় দুস্কৃতিকারিরা দেশব্যাপী লাগামহীন খুন জখমে মেতে উঠেছে। স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ দু:শাসনের হিং¯্ররূপ দেশের মানুষকে নির্বাক করে ফেলেছে। অজানা আশঙ্কা, আতংক আর ভয়ের এক বিষাদময় পরিবেশ মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
মির্জা ফখরুল বলন, রোববার রাতে দুস্কৃতকারিদের দ্বারা বগুড়া সদর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহ্বুবুল আলম শাহীনকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা আবারও প্রমান করলো-বর্তমান স্বৈরশাহী দেশে বিরোধী দলের অস্তিত্ব রাখতে চায় না। তবে জনগণ তাদের এই মনোবাঞ্ছা কোনদিনই পূরণ হতে দেবে না। মত প্রকাশ ও স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে অতীতের সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারায় বাংলাদেশের মানুষ যেকোন ত্যাগ স্বীকার করতে দ্বিধা করবে না। বগুড়া সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি, তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। একইসাথে মাহ্বুবুল আলম শাহীনকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
শোকবার্তা: নওগাঁ জেলাধীন আতরাই উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এস এম জামসেদুর রহমান জামসেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণে গভীরভাবে আস্থাশীল থেকে আতরাই উপজেলা বিএনপি-কে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে মরহুম জামসেদুর রহমান জামসেদ যে অবদান রেখেছেন তা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনে চিরস্মরণীয় থাকবে। বিএনপি মহাসচিব মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদেরকে সমবেদনা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ