ঢাকা, শনিবার 20 April 2019, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক?

আখতার হামিদ খান : লাভে থাকা গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানি তিতাস শিল্প ও আবাসিক খাতে গড়ে গ্যাসের দাম ১০২.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। উদ্বেগের বিষয় হল, সারা বিশ্বে জ্বালানির দাম কমলেও বাংলাদেশে গ্যাসসহ সব রকম জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
আর তিতাস কেবল গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়নি; একইসঙ্গে বিতরণ চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবনাও দিয়েছে। কোম্পানিটি বর্তমান বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে ৫৩ পয়সা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৫ পয়সা করার আবেদন জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বারবার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবে শিল্প খাতে ব্যয় উত্তরোত্তর বাড়ছে। তার ওপর গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্প খাতের বিকাশ রুদ্ধ হবে, সেই সঙ্গে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে, যা মোটেই কাম্য নয়।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এ সময় গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী।
গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এর ফলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ বিদেশি পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকবে। বস্তুত গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সার্বিকভাবে দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দুশ্চিন্তার বিষয় হল, গত কয়েক বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বছরে বিনিয়োগ ১ শতাংশও বাড়ছে না।
অর্থনীতি গতিশীল করতে হলে অবশ্যই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অথচ আমাদের এখানে এর বিপরীত চিত্রই পরিলক্ষিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ার অন্যতম কারণ হল চাহিদা অনুযায়ী শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রতুলতা। শুধু শিল্প খাতে নয়, আবাসিক খাতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
এসব বিষয় চিন্তা করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। আমরা মনে করি, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
নীতিমালার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোক্তাদের পক্ষে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে গ্যাসের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হলে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ত্রুটিহীন রেখে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে
গ্যাসের দাম ফের বাড়ানোর পথে সরকার। এ লক্ষ্যে গণশুনানির মাধ্যমে আইনি বাধ্যবাধকতা পালনও করেছে। মুনাফায় থাকা সরকারি কোম্পানিগুলো গ্যাসের গড় দাম বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। তাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গড়ে ১৪ টাকা ৯২ পয়সা পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। ফলে গ্যাসের দাম গড়ে ১০৩ শতাংশ বাড়াতে হবে। আগামী জুন মাস থেকে নতুন মূল্যহার অনুযায়ী গ্রাহকদের গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হতে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরে গ্যাসের মূল্য বাবদ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) গ্যাস বিতরণকারী ছয়টি কোম্পানির প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহকৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বর্তমান গড় মূল্য সাত টাকা ৩৫ পয়সা। এ মূল্য বাড়িয়ে গড়ে ১৪ টাকা ৯২ পয়সা নির্ধারণ করতে চায় কোম্পানিগুলো। বর্তমানে গ্যাস বিতরণকারী সব কোম্পানি লাভে রয়েছে। তবে ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে তাদের ব্যয় বেড়ে যাবে। সেই যুক্তি দেখিয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে তারা।
পেট্রোবাংলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ৩২ কোটি ঘনফুট। আগামী এপ্রিল থেকে আরো ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানির কথা রয়েছে। মূলত: এলএনজি আমদানি দৈনিক ৫০ কোটি থেকে বেড়ে ১০০ কোটি ঘনফুটে বেড়ে যাওয়ার ব্যয় সামাল দিতেই গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। তবে এই কর্মকর্তা জানান, নতুন এলএনজি আনার সব প্রস্তুতি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ভাসমান টার্মিনাল থেকে এলএনজি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও স্থাপন করা হয়নি। সব মিলিয়ে এই এলএনজি গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করতে আগস্ট মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
গত ১১ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিইআরসির গণশুনানিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে এলএনজি যাচ্ছে গ্রাহকদের কাছে। আগামী এপ্রিলে নতুন করে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আগামী অর্থবছরে দৈনিক ৮০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে ধরে গ্যাসের দাম প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজি ১০ মার্কিন ডলার দরে দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় সরবরাহ মূল্য পড়বে ১২ টাকা ১৯ পয়সা। এর সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ মার্জিন এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ গ্যাসের নতুন দর প্রস্তাব করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে গ্যাস সরবরাহ করা হবে তিন হাজার ৫৫ কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে হবে তিন হাজার ৪৭৪ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার। বর্তমান দর সাত টাকা ৩৫ পয়সা হিসাবে আগামী অর্থবছর গ্রাহকদের ব্যয় দাঁড়াত ২৫ হাজার ৫৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। তবে প্রস্তাবিত দর ১৪ টাকা ৯২ পয়সা হিসাবে সরবরাহকৃত গ্যাস বাবদ গ্রাহকদের গুনতে হবে ৫১ হাজার ৮৩৮ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রস্তাবিত হারে গ্যাসের দাম বাড়লে জনগণের ব্যয় বেড়ে যাবে ২৬ হাজার ৩০১ কোটি ২১ লাখ টাকা।
পেট্রোবাংলার এক পরিচালক বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণে গ্যাস আমদানি হচ্ছে তাতে ইতোমধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিতরণ কোম্পানিসহ অন্যান্য সিস্টেমকে সচল রাখার জন্য দামবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। আর দেশের শিল্প উৎপাদন বাড়াতে এলএনজি আমদানির চেয়ে ভালো বিকল্প আপাতত আমাদের হাতে নেই। এ প্রেক্ষাপটে দাম কিছুটা বাড়বে। শিল্পখাতকে এ ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি মেনে নিতে হবে। আর আবাসিকে এলপিজি ও পরিবহনে অটোগ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
তবে শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, পোশাক খাত যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে তার পেছনে তাদের ১৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বার বার গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে কিন্তু তারা দুই তিন বছর থেকে যে ইভিসি (ইলেকট্রিক ভলিউম কারেকটর) মিটার চাইছেন তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গ্যাসের নিম্নচাপ, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের পরও অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়লে কলকারখানা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, আগামী এপ্রিলে এলএনজি পাইপলাইনে আসবে না, এটি সবাই জানে। যে গ্যাস আসেনি তার ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক ও অন্যায়। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকা অলস পড়ে রয়েছে। সরকার যতদিন অর্থ না দেয় ততদিন সে তহবিল থেকে ঋণ দিয়ে এলএনজির ব্যয় নির্বাহ করা যায়। দেশের ভেতরে গ্যাস অনুসন্ধান-উৎপাদনে জোর না দিয়ে আমদানির জন্য তৎপর একটি পক্ষ। যার ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা জনগণের কাঁধে চেপে বসছে।
বিইআরসি’র প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলায় মাসিক বিল ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে এক হাজার ৩৫০ টাকা। জোড়া চুলায় মাসিক বিল ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৪৪০ টাকা হবে। মিটারযুক্ত আবাসিক সংযোগে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহার করা সিএনজির দাম প্রতি ঘন মিটার ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ টাকা ১০ পয়সা এবং সার কারখানায় ব্যবহার করা গ্যাসের দাম ইউনিট প্রতি দুই টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে আট টাকা ৪৪ পয়সা করার দাবি করা হয়েছে। শিল্প-কলকারখানায় প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম সাত টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৪ টাকা পাঁচ পয়সা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিট তিন টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৭৪ পয়সা এবং ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ১৮ টাকা চার পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাবনা দিয়েছে বিতরণ কোম্পানি।
বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, শুনানি শেষ হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে দাম নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর বিধি রয়েছে। এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দামবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বলে কমিশনও মনে করে। দাম পুনঃনির্ধারণে ও মূল্যায়নে এটিও বিবেচনায় থাকবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে একটা বস্ত্রকলও টিকবে না
নতুন করে আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টিকে আপনারা ব্যবসায়ীরা কীভাবে দেখছেন?
গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত দুঃসংবাদ। সে জন্য গত মঙ্গলবার বিইআরসির গণশুনানিতে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলামের পাশাপাশি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিটিএমএর পক্ষে আমি ছিলাম। সেখানে তিতাসের কর্মকর্তারা গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে যৌক্তিক কোনো কারণ দেখাতে পারেননি। তাঁরা বারবার তাঁদের শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা দেওয়ার কথা বলেছেন। তখন আমি প্রশ্ন করেছিলাম, আপনাদের পাবলিক শেয়ার কত শতাংশ? তিতাসের পক্ষ থেকে বলা হলো, ২৫ শতাংশ। তার মানে হচ্ছে, ৭৫ শতাংশের মালিক তিতাস গ্যাস। তিতাস ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে লাভ নিচ্ছে। আবার গ্যাসের দাম বাড়িয়েও মুনাফা ঘরে তুলছে। এ ছাড়া সঞ্চালন লাইনসহ অন্য যেসব কারণ কোম্পানিগুলো দেখাচ্ছে, তার কোনো যৌক্তিকতা আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। পৃথিবীর কোনো দেশের সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো পরিষেবা (ইউটিলিটি) নিয়ে ব্যবসা করে না। কারণ, সেবাগুলো দিয়ে পরোক্ষভাবে অন্য খাত থেকে লাভ পাওয়া যায়। গত তিন বছরে গ্যাসের দাম ১৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আমাদের নিজস্ব কোনো কাঁচামাল নেই। গ্যাস ও শ্রমই হচ্ছে আমাদের কাঁচামাল। তাই প্রতিযোগিতা করতে হলে ভর্তুকি মূল্যে আমাদের গ্যাস দিতে হবে।
বস্ত্রকলগুলো গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ক্যাপটিভের জন্য প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা ৪ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্যাসের দাম এত বাড়লে বস্ত্রকলগুলো টিকে থাকতে পারবে?
একটা বস্ত্রকলও টিকবে না। হয়তো নিবু নিবু করে জ্বলে একসময় বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে অনেক বস্ত্রকল লোকসানে আছে। সুতা উৎপাদনে যে খরচ হচ্ছে, সেই দাম পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রতি কেজি সুতায় ৫ শতাংশ উৎপাদন খরচ বাড়বে। সেই বাড়তি টাকা কে দেবে? বস্ত্র ও পোশাক খাত বন্ধ হলে প্রথম আঘাতটা আসবে ব্যাংক খাতে। পোশাক ও বস্ত্র খাতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে বিভিন্ন ব্যাংকের। দ্বিতীয় আঘাত আসবে কর্মসংস্থানে। কারণ, পোশাক ও বস্ত্র মিলে সরাসরি ৫৫ লাখ মানুষ জড়িত। তা ছাড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে উন্নয়নের চাকা বন্ধ হয়ে যাবে।
আপনি বললেন, গ্যাসের দাম বাড়লে বস্ত্রকল টিকবে না। তাহলে শীর্ষ রপ্তানি খাত পোশাকশিল্পের কী অবস্থা হবে?
গত অর্থবছর ৩ হাজার কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। সেই পোশাক তৈরির জন্য আমরা বস্ত্র খাত থেকে দেড় হাজার কোটি ডলারের কাপড় সরবরাহ করেছি। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ