ঢাকা, শনিবার 19 October 2019, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আজ পবিত্র শবেবরাত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আজ রোববার পবিত্র শবেবরাত। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত ও ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য। এ দুটি শব্দ নিয়ে ‘শবেবরাত’ বা সৌভাগ্যের রাত। আরবিতে একে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ১৪ শাবান দিবাগত রাতটিই পবিত্র শবেবরাত হিসেবে উদযাপন করে থাকেন। 

শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব আলাদা বাণী দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যম বন্ধ থাকবে। তাছাড়া আগামীকাল সরকারী ছুটি থাকায় সংবাদপত্র ও হাসপাতাল সহ জরুরী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে।

অবশ্য, শবে বরাত নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ রাতটি ভারতীয় উপমহাদেশের কয়েকটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত। এ রাতে আল্লাহতায়ালা বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ রাত সম্পর্কে বলেন, ইসলামে শাবান মাসের এই রাতকে ‘লাইলাতুল মিসফ মিন শাবান’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পক্ষ থেকে এই রজনীতে ইবাদত করার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এদিন বাড়াবাড়ি পর্যায়ের খাওয়া-দাওয়ার চেয়ে ইবাদত-বন্দেগির দিকে বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন। এশা ও ফজরের নামাজ অবশ্যই জামাতে পড়ার চেষ্টা করা উচিত। এছাড়া নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও তসবিহ পাঠ করা যেতে পারে। পটকাবাজি-আতশবাজি অবশ্যই করা যাবে না। এটি শবেবরাতের কোনো অংশ নয়।

তবে পবিত্র কুরআনে শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত নামে কোন রাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি।শবে বরাতের পক্ষের আলেমরা এ রাতের মাহাত্ম্য উল্লেখ করতে যেয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা দুখানের যে দুটি আয়াতের উদ্ধৃতি দেন (নিশ্চয় আমি এ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।) তা আসলে পবিত্র ক্বদরের রাত সম্পর্কে বলা হয়েছে।কারণ, এ সত্য সর্বজন বিদিত যে, পবিত্র কুরআন ক্বদরের রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। তাছাড়া সূরা আল ক্বদরে সরাসরি আল্লাহ বলেছেন যে, এই পবিত্র কুরআন মজিদকে তিনি ক্বদরের রাতে নাযিল করেছেন। পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে বরকতময় গ্রন্থ এবং পবিত্র এ গ্রন্থটি অবতীর্ণের রাতটিকেও অত্যন্ত বরকতময় ও ভাগ্য রজনি বলে উল্লেল করা হয়েছে।ক্বদরের রাতের মর্যাদায় পবিত্র কুরআনে ‌'আল ক্বদর' নামে একটি সূরাই নাযিল করা হয়েছে, যা শবে বরাত বা অন্য কোন রাতের নামে করা হয়নি।

তবে, দুয়েকটি হাদীসে এ রাতের উল্লেখ পাওয়া যায়, যে রাতে আল্লাহর রাসূল অন্য রাতের তুলনায় একটু বেশি নফল নামাজ পড়তেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

তাছাড়া এ রাতে তিনি কবর যিয়ারতও করেছেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।হাদীসে শাবান মাসকে রমজানের প্রস্তুতির মাস বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।প্রকৃত মুসলমানরা রমজান মাস আসার আগে এ মাস থেকেই যথাযথভাবে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদতেও মনোযোগি হন।আল্লাহর রাসূল নিজেও শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে থাকতেন।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হলেও শবেবরাত বাঙালি মুসলমানদের কাছে একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবেরও রাত। এই দিনে প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবার, নানা রকম মুখরোচক হালুয়া, রুটি ও পায়েস তৈরি হয়। ঘরে তৈরি এসব খাবার

আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠানো হয়, বিতরণ করা হয় গরিব-দুঃখীর মাঝে। মহিমান্বিত এ রাতে অনেকেই দান-খয়রাত করে থাকেন। আজ রাতে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, না’ত, জিকির, মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত।

আতশবাজি নিষিদ্ধ : এদিকে শবেবরাত উপলক্ষে আতশবাজিসহ সব ধরনের ক্ষতিকারক ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার ডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শবেবরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২১ এপ্রিল (আজ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২২ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত ক্ষারজাতীয় বা বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন ও ফোটানো নিষিদ্ধ।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ