ঢাকা, মঙ্গলবার 23 April 2019, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নড়াইলে বোরো ক্ষেত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা

লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা :  নড়াইলে  কৃষকের বোরো ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে নেক ব্লাস্ট  রোগ।এ রোগে আক্রান্ত হয়ে  কৃষকের উঠতি ফসল পুড়ে নষ্ট হবার উপক্রম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বালাই নাশক প্রয়োগ করেও  কোনো প্রকার প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা।  তারপরও হাল না ছেড়ে দিনভর কৃষকরা ব্যস্ত থাকছেন ফসলি ক্ষেত রক্ষার কাজে।

কৃষক সূত্রে জানা যায়,বোরো ধানের ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ায় মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেতের পাতা পুড়ছে। পচন ধরছে গাছের গোড়ায়।মরছে উঁকি দেয়া কচি ধানের শীষ।কৃষকরা তাই দিশেহারা। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সদর উপজেলায় পড়েছে হুমকিতে।

নড়াইলের কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নড়াইলের সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর, লোহাগড়া ৮হাজার ১৭০হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায়  ১৬হাজার  ২৩৫হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। জেলায় এ বছর ১লাখ  ৯৪হাজার ৪৭৫মেট্রিক টন বোরো চাল  উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ মৌসুমে বোরো চাষ করতে কৃষকরা বীজ রোপন থেকে শুরু করে ধানের শীষ আসা পর্যন্ত ভালো ফলনের আশায় বেশ পরিচর্যা করে আসছিলেন।গত দু’সপ্তাহ আগে থেকে  বোরো  ক্ষেতে কারেন্ট পোকা, ন্যাদা পোকা আক্রমণ শুরু করে।এরপর হঠাৎ করেই রাতারাতি পুড়ে যেতে শুরু করে ধানের পাতা।সম্প্রতি ধানের গোড়ায় পচন ধরে ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। কোনো ক্ষেতে এসব রোগ দেখা দিলে তার পরেরদিন পাশের  ক্ষেতটিতেও  রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। হঠাৎ ফসলে এরকম চিত্র দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার  বনগ্রাম, কোড়গ্রাম, মুলিয়া বাহিরগ্রাম, মুশুড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে নেক ব্লাস্টে পুড়ে গেছে মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেত।  

জেলার সদর উপজেলার কোড়গ্রামের  কৃষক মৃত্যুঞ্জয় বলেন, গত ১৫ দিন থেকে হঠাৎ ফসলি জমির পাতা পুড়তে শুরু করে। এরপর গোড়ায় পচন ধরে মরতে থাকে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে বালাই নাশক প্রয়োগ করেও  কোনো প্রতিকার পাইনি। এ রোগ  দেখা  দেয়ায় অধিকাংশ ধানের শীষ দানাশূন্য হয়ে পড়েছে। 

নড়াইলের  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ চিন্ময় রায় বলেন,গত মাসের শেষ দুই সপ্তাহের টানা বর্ষণে ধানগাছে  ছেটানো বালাই নাশক ধুয়ে গেছে। আর এ কারণেই ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এ  রোগ  দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের ফসল রক্ষার্থে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ