ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 October 2019, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১১

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ফিলিপিন্সের প্রধান দ্বীপ লুজনে  রিখটার স্কেলে ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১১ মিনিটে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি হয় বলে ফিলিপিন্স ইনিস্টিটিউট অব ভলকানোলজি এন্ড সিসমোলজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খবর বিবিসির।

ভূমিকম্পে একটি বিমানবন্দর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের সময় চোখে ধাঁধা লেগে পড়ে যাই। কোনও রকম প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। ধ্বংসস্তুপে এখনও বহু মানুষ আটকে বলে জানান তিনি।

বছর একুশের ফেলিজা ভিলিয়ানিউভা বলেন, আমার জীবনে দ্বিতীয় বার এমন তীব্র কম্পন অনুভব করলাম। ভয় না পেলেও চিন্তায় রয়েছি বলে জানান ফেলিজা। 

আরও মৃদু কম্পন হওয়ার জেরে আতঙ্কে রয়েছেন ফিলিপিন্সের মানুষ। 

রাজধানী ম্যানিলার উত্তরপশ্চিমে পামপানগা প্রদেশে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভিতরে বহু লোক আটকা পড়ে আছেন বলে শঙ্কা কর্তৃপক্ষের।

ভূমিকম্পে এ প্রদেশটিতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আটকা পড়াদের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি আহত জানিয়ে প্রদেশটির গভর্নর লিলিয়া পিনেদা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “তাদের কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। ব্যথায় কাঁদছেন তারা। তাদের বের করে আনা কঠিন হবে।”

ভূমিকম্পের পর একটি দোকান থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং লুবাও শহরে এক নারী ও তার নাতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে পিনেদা এবিএস-সিবিএন টেলিভিশনকে জানিয়েছেন।

এ পর্যন্ত ২০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানী ম্যানিলায়ও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়েছে। ম্যানিলার বাণিজ্যিক এলাকার আকাশচুম্বি ভবনগুলোকে কয়েক মিনিট ধরে দুলতে দেখা গেছে। 

গাড়ি পথে ম্যানিলা থেকে এক ঘণ্টা দূরত্বের ক্লার্ক ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানে অন্তত সাত জন আহত হয়েছেন।

লুজনের সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন। একটি ভিডিওতে একটি আকাশচুম্বি ভবনের একপাশ দিয়ে ছাদের সুইমিংপুল থেকে ঝরনার মতো পানি ঝরতে দেখা গেছে। 

ভূমিকম্পের কারণে ম্যানিলার দে লা সাল বিশ্ববিদ্যালয় মঙ্গলবার বন্ধ রাখা হয়েছে। ভূমিকম্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। 

দক্ষিণ চিন সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি সাধারণত ভূমিকম্পন প্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকার সন্নিকটে এই দেশ হওয়ায় ছোটোখাটো ভূমিকম্প হামেশাই হয়। 

এখানে কমপক্ষে সাড়ে ৪০০ টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এই ভূমিকম্পের সূত্রপাত সেখান থেকেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিবিএ/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ