ঢাকা, বুধবার 24 April 2019, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তিনটি ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

খুলনা অফিস : উপকূলীয় উপজেলা দাকোপে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্ব্াসের কবলে তিনটি ইউনিয়নের সহ¯্রাধিক পরিবার অবর্ণনীয় ক্ষতির শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অধিকাংশ গৃহহীন পরিবার এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। সরকারিভাবে দেয়া যৎসামান্য সহায়তার বন্টন নিয়েও আছে বিতর্ক। জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপজেলার তিলডাঙ্গা ও সুতারখালী ইউনিয়নের ৯ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। তিলডাঙ্গার কামিনিবাসীয়া এবং সুতারখালীর কালীবাড়ী গুনারী ও সুতারখালী মডেল গ্রামে ঝড়ের ব্যাপকতায় বসত ভিটের চিহ্ন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২০ জন কমবেশী গুরুতর আহত হয়। ঝড়ের পরে অধিকাংশ পরিবারের খাদ্য বস্ত্রের ব্যবস্থা না থাকায় তাৎক্ষণিক পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসী সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ায়। এরপর দাকোপ উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে দুই ইউনিয়নে ২ টন চাল, ৪০ হাজার টাকা, ১০০ ব্যান্ডিল টিন, ৫০ পরিবারের জন্য ৬ হাজার করে নগদ টাকা, আহতদের ৫ হাজার ও ১১শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করে বলে জানা যায়। তবে এখানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নির্ণয় ও শুকনা খাবারের মান নিয়ে আছে নানা অভিযোগ। এর বাইরে রামকৃষ্ণ মিশন এবং সাবেক সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে হাড়ি পাতিল ও নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল বিতরণ করা হয়।  অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই গত ১৯ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার বানীশান্তা বাজার এলাকায় প্রায় একশ’ মিটার ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধ ভেঙে দুইশ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সেখানকার বাজারের দেড়শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল এবং পুকুর জলাশয় তলিয়ে বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদ ভেসে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বাঁধ পুনঃনির্মাণ করে পানিমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান আছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দু’টি বড় ধরনের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় তারা এখন ঘরে ফিরতে পারেনি। অনেকেই এখন নিজেদের স্বজন অথবা পার্শ¦বর্তী সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।  

এ ব্যাপারে সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানান, আমার ইউনিয়নে ২৪৪ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অথচ সরকারি সহায়তার টিন মাত্র ২৫টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। খাদ্য এবং পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত সহায়তা দরকার বলে তিনি জানান। 

তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত মন্ডল অনুরূপ অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরে বলেন, গৃহহীন ১০৫ পরিবারের মধ্যে এ পর্যন্ত পাওয়া টিনে ২৫ পরিবারকে ঘরের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে বানীশান্তা ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়ে পড়া ২১০ পরিবারের জন্য এ পর্যন্ত কোন সহায়তা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান সুদেব রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ