ঢাকা, বুধবার 24 April 2019, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুসলিম বিশ্বের বর্তমান সময়ের কয়েকটি ইস্যু

শাহ আব্দুল হান্নান : আমার কাছে মুসলিম উম্মাহর জন্য কতগুলো বিষয়কে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। একটি ইস্যুতে আমার মনকে কিছুটা পরিবর্তন করেছি যা আমি আগে এতো বড় ইস্যু হিসেবে দেখিনি। সেটি হলো নব্য সাম্রাজ্যবাদ। এ সাম্রাজ্যবাদীরা কারা তা আমরা সবাই জানি। আজ তারা চাচ্ছে রাজনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে বিশ্বকে শাসন করতে। তারা চায় তাদের আদেশ নিষেধকেই মেনে চলতে হবে, তাদের মতো চলতে হবে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক কিংবা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মাধ্যমেও এরকম ডিকটেশন আসতে পারে। নব্য সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে কোনো দেশের সরকারগুলো কিছু করবে না। তাদের অনেকেই বড় বড় শক্তিগুলোর পক্ষে এজেন্টের মতো কাজ করছে। এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে একমাত্র জনগণ এবং এজন্য জনগণের নেতাদেরকে সংগঠিত করতে হবে। এ কথা সত্য যে, নব্য সাম্রাজ্যবাদী সব জালেমদের সব সময় পতন হয়। নৈতিক মানবিকতা তা-ই বলে।
নব্য সাম্রাজ্যবাদের পর মুসলিম বিশ্বের  জন্য অন্যতম প্রধান ইস্যু হলো শিক্ষা। এ বিষয়টিকে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। ড.ইসমাইল রাজি আল ফারুকির দৃষ্টিতে শিক্ষা উম্মার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আমি একটু আগে যে চ্যালেঞ্জের (আমেরিকান ডিক্টেটরশিপ,আমেরিকান চ্যালেঞ্জ,পশ্চিমা চ্যালেঞ্জ) কথা বললাম তা মোকাবিলা করার জন্য আমাদেরকে একটি ভালো শিক্ষাব্যবস্থা দাঁড় করাতে হবে। আমেরিকা ও পশ্চিমাদের চ্যালেঞ্জ, সেটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক যেটিই হোক এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের একটি ভালো শিক্ষাব্যবস্থা দরকার। সভ্যতার দ্বন্দ্বে ইসলামই জয়ী হবে নামে হোক বা বেনামে হোক, যদি আমাদের একটি ভালো শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভালো শিক্ষিত জনশক্তি (পুরুষ ও নারী) থাকে। যদি আমরা তা গড়তে পারি, তবেই তা সম্ভবপর হবে বলে আমি মনে করি।
এখন আমি আমাদের স্কুল সিস্টেম সম্পর্কে বলতে চাই। বর্তমানে স্কুলের উপর অনেক কাজ হয়েছে। বিশেষভাবে পাকিস্তান, ইরান, সুদানে। সৌদি আরবে স্কুল সিস্টেমে ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার দারুণ সমন্বয় ঘটেছে। সুতরাং বলা যায়, আজ আমাদের যথেষ্ট স্কুল শিক্ষার কারিকুলাম আছে যা আমরা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারি।
মাদরাসা স্ট্রিম সম্পর্কে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। মাদরাসা স্ট্রিম সম্পর্কে আমি খুব ব্যাপকভাবে চিন্তা করেছি। প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি মাদরাসাকে শুধু আলেম তৈরি করার জন্যই চাচ্ছি ? তার উদ্দেশ্য কি ? নাকি শিক্ষার একটি মূলধারা করতে চাচ্ছি ?  প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধু আলেম তৈরি করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে তো এতো মাদরাসার দরকারই নেই। এতো কওমি কিংবা এতো আলিয়া মাদরাসার তাহলে প্রয়োজন কি? যদি আমরা চাই মাদরাসা ধারা অন্যতম একটি মূলধারা হবে তাহলে রেডিক্যাল পরিবর্তন করতে হবে। এই পরিবর্তনটি কি? আমাদের দেশে কামেল মাদরাসায় চারটি কোর্স আছে- আদব,তাফসির, ফিকাহ ও হাদিস। আমি সংক্ষেপে বলবো আরো কয়েকটি কামেল কোর্স তাতে যোগ করতে হবে। কামেল ইকোনোমিকস, কামেল পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং অন্যান্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিষয়ে কামেল খুলতে হবে। তাতে বর্তমান কোর্সটি আলেম, ফাজেল পর্যন্ত মোটামুটি এক থাকতে পারে। তারা বর্তমানে কি কওে ? এক পর্যায় পর্যন্ত এ রকম পড়ে তারপর আলাদা হয়ে যায়। তেমনিভাবে ফাজেল পর্যন্ত ঠিক রেখে আমাদেরকেও আরো চারটি, ছয়টি কোর্স যোগ করতে হবে। সে সাথে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। কওমি মাদরাসার ক্ষেত্রেও একই কথা।
ইসলামের একটি অন্যতম প্রধান বিষয় হলো বিভিন্ন রকম চরমপন্থি যা ইসলামকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যারা চরমপন্থি তাদের অবস্থান কারোর হয় এ পাশে নয় ঐ পাশে, যে কোনো এক প্রান্তে। ফলে তারা কখনো সমন্বয় করতে জানে না। সমন্বয় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সমন্বয় করা তখনই সম্ভব যখন মানুষ মডারেট হয়, মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। যখন তারা একে অন্যের সাথে কথা বলে, আলাপ করে, একজন আরেকজনের কথা শোনে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাজ করে। কিন্তু কট্ররপন্থা হলো উম্মতের মধ্যে এমন অবস্থান সৃষ্টি করা যাতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে না পারে।
ইসলামের যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি তা হলো জেন্ডার ইস্যু। এটি ইসলামে নারী-পূরুষের স্থান এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়। মেয়েদেরকে পিছনে রেখে ইসলাম কিংবা উম্মত অগ্রসর হবে, তা দিবাস্বপ্ন দেখা। ড.সাঈদ রামাদান, যাকে লিটল হাসান আল বান্না বলা হতো- তিনি উম্মতের তিনটি সমস্যার কথা বলেছিলেন। একটি হলো শরিয়াহ এবং ফিকাহর মধ্যে পার্থক্য করতে না পারা। কুরআন-সুন্নাহর বাধ্যতামূলক প্রকৃতির সাথে ফিকাহর বাধ্যতামূলক নয় এমন প্রকৃতির পার্থক্য করতে না পারা এবং দু’টিকে এক করে ফেলা। দ্বিতীয় সমস্যা হলো মুসলিম নারীর দুর্দশা। এ কথাগুলো তিনি বলেছিলেন ১৯৬৫ সালের দিকে। আজ থেকে অনেক আগেই তিনি এটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এটি বর্তমানে যেমন ড.ইউসুফ আল কারযাভীর উপলব্ধি তেমনি মুহাম্মদ আল গাজ্জালির মতো গ্রেট আলেমরাও একই কথা বলে গেছেন। তৃতীয় সমস্যা হলো শাসকদের আনুগত্য সম্পর্কে ভুল ধারণা। নারীদেরকে তার যথাযোগ্য স্থান দিতে হবে। তাদেরকে সমাজ এবং ইসলামের কাজে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করতে  হবে।
-সারসংক্ষেপ : মোঃ তোফাজ্জল বিন আমীন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ