ঢাকা, বুধবার 24 April 2019, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মানুষের অনেক ইচ্ছারই বাস্তবায়ন ঘটেনা

জাফর ইকবাল : মানুষের অনেক ইচ্ছারই বাস্তবায়ন ঘটেনা। তারা ভাবে একটা ঘটে অন্যটা। গিনেস বুকে নাম উঠানো বা নিজের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য মানুষ অনেক কিছুই করে থাকে। তবে সব কিছুই ঠিক হয়না। আজকের আলোচনায় তেমন কিছু ঘটনাই তুলে ধরা হলো।
শত ঘণ্টার প-শ্রম : দুর্ভাগা সংগীত শিল্পীদের নামের যদি কখনো তালিকা করা হয়, সেখানে কার্লোস সিলভারের নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। গিনেস বুকের রেকর্ড পাতায় নাম তুলতে টানা একশ ছয় ঘণ্টা গান গেয়েছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের এই সংগীত শিল্পী। কিন্তু রেকর্ডের খাতায় তার নাম তো ওঠেইনি বরং সামান্য ভুলের জন্য তার সবকিছুই প-শ্রমে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ক্যানাল টিভিকে নিজের ভুলের কথা জানিয়েছেন কার্লোস। গান গেয়ে রেকর্ড গড়ার ক্ষেত্রে গিনেস কর্তৃপক্ষের নিয়ম হলো প্রতি গানের মাঝখানে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড বিরতি নিতে হবে। এর বেশি বিরতি নিলেই নিয়ম ভঙ্গের জন্য রেকর্ড বাতিল হয়ে যাবে।
কার্লোস ভুলটা করেছেন এখানেই। তিনি প্রতি গানের মাঝখানের বিরতিতে সময় নিয়েছেন দুই মিনিটের কাছাকাছি। যার কারণে গিনেস তার নাম রেকর্ড বুকে তুলতে আপত্তি জানিয়েছে। অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করে কার্লোস জানিয়েছেন, তিনি গানের মাঝখানে দুই মিনিট বিরতি নিয়েছেন ঠিকই কিন্তু অনেক সময় তিনি কয়েক ঘণ্টা টানা গান গেয়েছেন। ফলে কিছু সময় তিনি বাঁচিয়েছেন যা হিসাব করলে দুই মিনিট বিরতি তিনি নিতেই পারেন। তবে গিনেস কর্তৃপক্ষ তার এই যুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। নিয়মের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে তারা। তবে কার্লোসও এত সহজে ছেড়ে দিতে রাজি নন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। কারণ রেকর্ড গড়তে গিয়ে পঞ্চাশবার ব্রেন ইলেকট্রিক শক খেয়েছেন, দুইবার হার্ট অ্যাটাকের উপক্রম হয়েছে তার। এই অমানুষিক পরিশ্রম তিনি বৃথা যেতে দিতে চান না।
নার্স ভয়ঙ্কর: নার্সিং মহৎ পেশা। হাসপাতালে রোগীর সেবায় নিয়োজিত থাকেন নার্স। তারা রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করেন। কিন্তু এমনও কেউ কেউ আছেন যারা পেশাগত জীবনে সৎ থাকেন না। আর তখনই এই মহৎ পেশার প্রতি মানুষের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। কিছু নার্সের ভয়ঙ্কর কর্মকা-ের কথা শোনা যায়। তারা সংবাদের শিরোনামও হন। তেমনি একজন ভয়ঙ্কর নার্স এলিজাবেথ মুয়াওয়া। তিনি পেশাজীবন কাটিয়েছেন আফ্রিকার জাম্বিয়ার লুসাকায় ইউনিভার্সিটি টিচিং হসপিটালে। সেখানে ১২ বছরের কর্মজীবনে ¯্রফে মজা করে প্রায় ৫ হাজার নবজাতককে তিনি অদল-বদল করেছেন। হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই শিশুদের বদলে দিতেন তিনি। ফলে নবজাতকেরা হারিয়েছে তাদের প্রকৃত বাবা-মাকে। তিনি এতদিন পর নিজেই জানিয়েছেন-নিছক মজা করার জন্যই তার এমন কাজ করা!
জাম্বিয়ান অবজারভারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলিজাবেথ এখন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তিনি এখন অতীতের এই গর্হিত কাজের জন্য ভীষণ অনুতপ্ত। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি তাই নিজের পাপের কথা স্বীকার করেছেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে করছেন ক্ষমা প্রার্থনা। এলিজাবেথ বলেন, ‘১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ইউটিএইচে জন্ম নেয়া কোনো শিশুই তাদের প্রকৃত বাবা-মায়ের কোলে যায়নি। মজা করতে গিয়ে নবজাতকদের বদলে দেয়া অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল আমার। এতোদিন এ ঘটনা আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি এখন ক্যানসারে আক্রান্ত। শিগগিরই আমি মারা যাব। সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়ে আমার এ পাপের কথা স্বীকার করলাম। আমি ক্ষমা চাচ্ছি সেই সব পরিবারের কাছে, যাদের প্রতি আমি এ অন্যায় করেছি।’
মর্গে ঘুমিয়ে বিপত্তি : হেনরী পল জনসন পেশায় ছিলেন মর্গ কর্মী। কাজ করতেন টেক্সাসের জেফারসন কাউন্টি মর্গে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই মর্গেই করুণ মৃত্যু হলো তার। প্রতিদিনের মতো সেদিনও মর্গে কাজ করছিলেন জনসন। একটানা ষোল ঘণ্টা কাজ করার পর ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে আসে তার শরীর। ভেবেছিলেন কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিয়ে আবারো কাজে ফিরবেন। এটা ভেবেই ঘুমিয়েছিলেন মর্গের একটা লাশ বহনের খাটিয়ার উপর। কিন্তু তিনি কি জানতেন এই ঘুমই হবে তার শেষ ঘুম! জনসন যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন জেনা ডেভিস নামে তার এক নবীন সহকর্মী লাশ ভেবে তার দেহ ঢুকিয়ে দেয় চুল্লির ভেতর। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুড়ে শেষ হয়ে যায় জনসনের দেহ। এদিকে জনসনের দেহ যখন ইলেকট্রিক চুল্লির ভেতর পুড়ছে, তখন বোধদয় হয় ডেভিসের। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ইলেকট্রিক চুল্লির ১৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ভস্ম হয়ে গেছে জনসনের দেহ।
গণমাধ্যমকে ডেভিস বলেন, ‘আমি লাশের পায়ে ঝোলানো ট্যাগ দেখতে ভুলে গিয়েছিলাম। ফলে আরেকটি লাশের সাথে আমি জনসনের ঘুমন্ত দেহকে গুলিয়ে ফেলেছিলাম।’ আলোচিত হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় ডেভিসের ভুলটি ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চুল না কেটে ৫৪ বছর : চুল কেটে কেতাদুরস্ত থাকাটাই আধুনিক কালের চল। তাই নারী ও পুরুষ উভয়েই নিয়মিত বিরতিতে চুল কাটান। তবে কিছু মানুষ আছেন যারা এগুলোর ধার ধারেন না। যেমন চীনের আকি ইয়াহেং। সাতাত্তর বছর বয়সি ইয়াহেং গত চুয়ান্ন বছরে একবারও চুল কাটাননি। সম্প্রতি ইয়াহেংয়ের কয়েকটি ছবি এবং একটি ভিডিও চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেগুলো দেখে সবার চোখ কপালে উঠে গেছে। কারণ গত পাঁচ দশক চুল না কাটার কারণে ইয়াহেংয়ের চুলের দৈর্ঘ্য হয়েছে সাড়ে পাঁচ মিটার। এই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ইয়াহেংয়ের মেয়ে। সে বাবার সঙ্গে চুল পরিষ্কার করাতে সেলুনে গিয়েছিল। কারণ ইয়াহেংয়ে চুল না কাটালেও নিয়মিত পরিষ্কার করেন। ভিডিওতে দেখা যায় ইয়াহেংয়ের চুল সেলুনের দুই কর্মী তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে পরিষ্কার করছে।
অনেকেই তার চুলের জন্য গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে বলেছেন। তবে ইয়াহেং সাফ না করে দিয়েছেন। কারণ তিনি কোনো নাম বা খ্যাতির জন্য চুল রাখেননি। তিনি পরিবারের মঙ্গল হবে এই বিশ্বাসে মাত্র তেইশ বছর বয়স থেকেই চুল রাখা শুরু করেছেন। একাধিকবার তিনি চুল কেটে ফেলার জন্য হাজার ডলার পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণাও পেয়েছেন। তবে কোনো কিছুতেই তিনি তার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।
যে ঘড়িতে কখনও ১২টা বাজে না : সোলোথার্ন। ছবির মতো সুন্দর সুইজারল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমের এই শহরটি পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। তবে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা কিছু সময়ের জন্য থমকে যান শহরের কেন্দ্রস্থল টাউন স্কয়ারের সামনে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে। কারণ এই ঘড়িটি আর দশটা সাধারণ ঘড়ির মতো নয়। পৃথিবীর সব ঘড়িতে যেখানে এক থেকে বারোটি কাঁটা রয়েছে সেখানে এই ঘড়িতে আছে এগারোটি কাঁটা। অর্থাৎ কখনও বারোটা বাজে না এই ঘড়িতে। কারণ কিন্তু উৎসুক হয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করতেই মিলবে অবাক করা তথ্য। শুধু ঘড়ি নয়, এই শহরের অনেক কিছুতেই রয়েছে এগারো সংখ্যার আধিক্য।  যেমন এই শহরে রয়েছে এগারোটি জাদুঘর, এগারোটি গির্জা, এগারোটি ঝরনাসহ আরো অনেক কিছু। কিন্তু এগারো কেন? কি বিশেষত্ব রয়েছে সংখ্যাটির।
এই উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে হাজার বছর আগে যখন এই নগরীর গোড়াপত্তন হয়েছিল। একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এই নগরীতে ইলভ নামে এক জার্মানের আগমন ঘটেছিল, যিনি এই নগর প্রতিষ্ঠায় অনেক পরিশ্রম করেছিলেন। তবে ওই সময় ইলভ সফল না হলেও সোলোথার্নবাসী তাকে ভোলেনি। তারা ইলভ স্মরণে তার নামের সাথে মিল রেখে শহরে ইলেভেন নামে কয়েকটি স্থাপনা তৈরি করে। সেই থেকে শুরু।  এরপর যত দিন গেছে এই শহরের সাথে এগারো সংখ্যাটি জড়িয়ে গেছে কাকতালীয়ভাবে। ১২১৫ সালে যখন এই শহরে কাউন্সিলর নির্বাচন হয় তখন এগারো জনকে নির্বাচন করা হয়েছিল। ১৪৮১ সালে সোলোথার্ন সুইস কনফেডারেশনের এগারোতম প্রদেশ হিসেবে যুক্ত হয়। ওই সময় এগারো জন শহর রক্ষাকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এরপর পনেরো শতকের গোড়ার দিকে যখন শহরে সেইন্ট আরসু গির্জা নির্মাণ করা হয় তখন গির্জায় এগারোটি দরোজা, এগারোটি জানালা, এগারোটি রো, এগারোটি ঘণ্টা, এগারো রকমের পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। মোট কথা এই শহরবাসীর এগারো সংখ্যাটির প্রতি রয়েছে এক প্রাগৈতিহাসিক দুর্বলতা, যা তারা হাজার বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে পরম মমতায়, পরম যত্নে।
লেখাপড়ার নজরদারি করছে পোষা কুকুর! : খেলাধুলায় সঙ্গী হিসেবে পোষা প্রাণীদের সঙ্গ বাচ্চারা খুবই পছন্দ করে। আর এই বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়েছে চীনের গুইঝাও প্রদেশের পিয়ার ঝু। মেয়ে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছে কিনা তা দেখভালের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাড়ির পোষা কুকুরকে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওর সৌজন্যে সেই দৃশ্য দেখেছে নেট দুনিয়া। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাদা রঙের একটি মনগ্রেল কুকুর দুই পা তুলে দাঁড়িয়ে আছে পড়ার টেবিলে। ওই টেবিলে বসে হোমওয়ার্ক করছে ছোট্ট মেয়েটি। টেবিলে দাঁড়িয়ে কুকুরটি এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে। আসলে মেয়েটি ঠিকমতো হোমওয়ার্ক করছে না কি সেটাই যাচাই করছে কুকুরটি।
চীনা এক সংবাদমাধ্যমকে পিয়ার ঝু বলেন, ‘আমার মেয়ে খুব অমনোযোগী। পড়তে বসলে মোবাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। আমরা না থাকলে সে যেন মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারে সে জন্যই এই ব্যবস্থা।’ শুধু হোমওয়ার্ক দেখাশোনা নয়, কুকুরটিকে আরো কিছু প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ভিডিওটিতে কুকুরটির সেই দক্ষতাও দেখা গেছে।
জন্মদিন পালন করায় জরিমানা : ধুমধাম করে নিজের জন্মদিন পালন করতে কে না চায়? জন্মদিনের উৎসবে চারদিক লাল-নীল বাতিতে সাজানো থাকবে, বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়স্বজন আনন্দ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নিজের জন্মদিন পালন করতে গিয়ে যদি আপনাকে জরিমানার সম্মুখীন হতে হয় সেটা অস্বাভাবিকই বটে। তাজিকিস্তানের সংগীত শিল্পী ফিরুসা খাফিজোভার বেলায় এমনটাই ঘটেছে। নিজের কাছের কিছু বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেশ ঘটা করে জন্মদিন পালন করতে গিয়েছিলেন এই শিল্পী। নেচে গেয়ে তার বন্ধুরা জন্মদিনের পার্টি উদযাপন করে। এরপর সেই সব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে। আসল বিপত্তিটা বাধে এখানেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবি দেখে ফিরুসাকে জরিমানা করা হয়। কারণ তাজিক আইনে বেশি অর্থ খরচ করে বিয়ে, জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীর মতো অনুষ্ঠান করা নিষিদ্ধ। দেশের মানুষ এই সব অনুষ্ঠান করতে গিয়ে যেন ঋণী না হয় সেজন্য সরকার এক দশক আগে এমন আইন প্রণয়ন করে। আপাতত আদালত থেকে ছাড়া পেয়েছেন ফিরুসা। প্রথমবার এই ধরনের আইন ভঙ্গ করায় তাকে পাঁচশ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে দ্বিতীয়বার যদি তিনি এই ধরনের অপরাধ করেন তবে জেলে যেতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ