ঢাকা, বুধবার 24 April 2019, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুবি’র উত্তর-পশ্চিম পাশে ‘ভূমি পুনর্বিন্যাস প্লান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ কেডিএ’র

খুলনা অফিস : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশে ১৭৩.৪৫ একর জমির মালিকদের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ‘ভূমি পুনর্বিন্যাস প্লান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। ফলে সরকারি সাহায্য ছাড়াই ওই এলাকাটি এখন আকর্ষণীয় ও পরিকল্পনা মাফিক গড়ে উঠবে। কেডিএ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষ শিগগির এটির বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হবে। কেডিএ’র ভাষ্য অনুসারে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশে বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন আনুমানিক ১৭৩.৪৫ একর জমি রয়েছে। উক্ত জমির উত্তর পাশে সংস্থাটি পরিকল্পিতভাবে ময়ূরী আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে; পূর্বপাশে খুলনা সিটি কর্পোরেশন লিনিয়ার পার্ক তৈরি করেছে; দক্ষিণ পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মৎস্য খামার ও আবহাওয়া অফিস বিদ্যমান এবং পশ্চিম পাশে সিটি বাইপাস রাস্তা রয়েছে। চারিপাশে পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা এলাকার মাঝের স্থানটি দীর্ঘদিন অপরিকল্পিতভাবে পড়ে থাকার কারণে উক্ত এলাকার সরকারি খালের জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়ে চলাচলের রাস্তায় পরিণত হচ্ছে, অপ্রশস্ত রাস্তার পাশে স্থায়ী স্থাপনা ও জলাশয় ভরাট হয়ে বসতবাড়ি গড়ে উঠছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে জায়গাটি দিন দিন বস্তিতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মৎস্য খামার, আবহাওয়া অফিস, ময়ূরী আবাসিক এলাকা ও লিনিয়ার পার্ক এর কারণে জায়গাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে জায়গাটির ভবিষ্যৎ গুরুত্ব বিবেচনায় Planning intervention জরুরি। সঙ্গত কারণে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ওই এলাকার জমির মালিকদের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভূমি পূর্ণবিন্যাস প্লান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে খেলার মাঠ, শিশু পার্ক, হাসপাতাল, উন্মুক্ত জায়গা, সাঁতারের জন্য পুকুর, গাড়ি পার্কিং, বনায়ন, খাল উদ্ধার ও নেটওয়ার্কিং, ওয়াকওয়ে, ড্রেন ও ফুটপাথ, আবাসিক/অনাবাসিক প্লট, ফুড কোড, সুপার মার্কেট, মসজিদ, কবরস্থান, খুবি শিক্ষার্থী ডরমেটরী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানির পাম্প হাউজের জন্য জায়গা, ইজিবাইক ও রিকসা স্ট্যান্ড, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাব ও পাবলিক টয়লেট ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন উন্নয়নে ব্যয় হবে অন্তত ১৬০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, কেডিএ এতদিন জমি অধিগ্রহণ করে বিভিন্ন পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের ফলে জমির মালিকেরা আর তাদের জমিতে থাকতে পারে না। ফলে একজন ব্যক্তি যে স্বপ্ন নিয়ে জমি কেনে তার সেই স্বপ্ন আর পুরন হয় না। তাদের সেই স্বপ্ন পুরন করার জন্য এবার কেডিএ জমির মালিকদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে Land Readjustment Plan প্রণয়ন করছে। এই পরিকল্পনাতে উক্ত এলাকার মধ্যে যেসকল নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হবে তার জন্য যে পরিমাণ জমি লাগবে তা সকল জমির মালিকদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বন্টন হবে। এছাড়া ভূমি উন্নয়নের জন্য যে খরচ হবে তা প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্লট/ জমি সাধারণ জনগণের মাঝে বিক্রি করে জোগাড় করা হবে। এভাবে ভূমি উন্নয়ন করার অন্যতম সুবিধা হলো সকল জমির মালিকেরা প্লট পাবে, সরকারি সাহায্য ছাড়াই ভূমির উন্নয়ন হবে, এবং সর্বপরি এলাকাটি পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠবে। তবে যাদের জমির পরিমাণ কম তাদের কয়েকজনকে মিলে একটা প্লট দেয়া হবে। জমি কম এমন কেউ যদি নিজে একটা প্লট নিতে/রাখতে চায় তাহলে অতিরিক্ত জমির জন্য কাঠা প্রতি প্রকৃত উন্নয়ন খরচ জমা সাপেক্ষে একটা প্লট নেয়ার সুযোগ রয়েছে। অনুরূপভাবে যদি কেউ তার জমি না রাখতে চায় তাহলে সরকারি মৌজা দরে তার জমির সমুদয় অর্থ পরিশোধ করা হবে। সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি আর কোন প্লট পাবে না। কেডিএ’র সহকারী টাউন প্ল্যানার আবু সাঈদ বলেন, সংস্থার অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশের আনুমানিক ১৭৩.৪৫ একর জমিতে গৃহীত ভূমি পুনর্বিন্যাস প্লান টিও উক্ত পরিকল্পনারই অংশ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উক্ত এলাকাটি খুলনার একটি আকর্ষনীয় স্থানে পরিণত হবে, জমির মালিকেরা পাবে একটি পরিকল্পিত এলাকা। এছাড়া, জমির দাম বেড়ে যাবে বহুগুণে, নির্মাণ করা যাবে বহুতল ভবন। ফলে আনুপাতিক হারে জমি যে পরিমাণে কমে যাবে তা জমির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে উপশম হবে। প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পটির ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। সাথে সাথে উক্ত এলাকার জমির মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, ইতোমধ্যে অনেক জমির মালিক তাদের জমির মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য কেডিএতে প্রেরণ করেছেন। মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য জমা হওয়ার পর প্রতিটি জমির মালিকের সাথে আলোচনা করে পরিকল্পনাটি সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করা হবে। এরপর জমির মালিকের সাথে কেডিএ’র চুক্তিপত্র হবে, উক্ত চুক্তি পত্র অনুযায়ী এলাকাটি উন্নয়ন করার পর প্রত্যেকের জমির অংশ তাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। তবে কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য এখনও যারা তাদের জমির মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য কেডিএ তে প্রেরণ করেনি তাদেরকে জরুরিভাবে মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য কেডিএ তে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো কেডিএ কর্তৃক গৃহীত এই প্রকল্পটি একটি অলাভজনক প্রকল্প। উক্ত এলাকাটিকে পরিকল্পনা মাফিক গড়ে তোলাই কেডিএ’র মূল উদ্দেশ্য। এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে সকল জমির মালিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ