ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 April 2019, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পরিকল্পনাহীনতায় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড লায়াবিলিটিতে পরিণত হতে পারে

এম এ খালেক : অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। ২০০০ সাল থেকে এই অবস্থা শুরু হয়েছে এবং ২০৩৩ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। বর্ণিত সময়ের পর বাংলাদেশ আর এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। তাই এখনই পরিকল্পিতভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এর সুবিধা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ইতোমধ্যেই অনেকটা সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। কাজেই বিষয়টি নিয়ে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে জাতি হিসেবে আমাদের পস্তাতে হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চমৎকার সাফল্য প্রদর্শন করেছে। বিগত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্বের ১০টি শীর্ষস্থানীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনকারি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এবার বিশ্বের যে ৬টি দেশ উচ্চ মাত্রায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার হবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চলতি অর্থ বছরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাংক বা এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রতি বছরই সরকারিভাবে প্রদর্শিত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে আসছে। তারপরও এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না যে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চমৎকার সাফল্য প্রদর্শন করে চলেছে। যদিও এই প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের সাধারণ মানুষ কতটা ন্যায্যতার ভিত্তিতে পাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো কোনো মহল থেকে এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকারকে এককভাবে কৃতিত্ব প্রদান করার চেষ্টা করছেন। যদিও বিষয়টি মোটেও সে রকম নয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে সরকারের ভূমিকা যতটা না কৃতিত্বপূর্ণ তার চেয়েও বেশি অবদান রাখছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা। কিন্তু কর্তৃপক্ষীয় পর্যায়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুফল কাজে লাগানোর বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ-আয়োজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যদি পরিকল্পিতভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুফল আমরা কাজে লাগাতে পারতাম তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো গতিশীলতা অর্জন করতে পারতো।
একটি দেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি’র বয়স যখন ১৫ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে অর্থাৎ কর্মক্ষম থাকে সেই অবস্থাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়। কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ মনে করেন, একটি জাতির জীবনে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একবারই আসে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, হাজার বছরে একটি জাতির জীবনে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা আসে। যারা এই অবস্থার সুফল পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে না পারে সেই জাতি কোনো দিনই বিশ্ব অর্থনীতিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। এ ছাড়া ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা অতিক্রান্ত হলে যে কোনো জাতির অর্থনৈতিক অর্জন স্তিমিত হয়ে পড়তে থাকে। এ ক্ষেত্রে তারা জাপানের উদাহরণ দিয়ে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক দশক পর জাপানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সূচনা হয়। সেই অবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশটি দ্রুত অর্থনেতিক উন্নতি অর্জন করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়। জাপান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছিল বলেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এতটা সাফল্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ইতোমধ্যেই জাপান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা অতিক্রম করে এসেছে। ফলে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। কয়েক বছর আগে চীন জাপানকে অতিক্রম করে বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে। জাপান বিশ্ব অর্থনীতিতে তার ৪৪ বছরের অবস্থান হারিয়েছে। এটা ঘটেছে কারণ চীন ইতোমধ্যেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ পেয়েছে। জাপানে এখন বয়স্ক মানুষের হার বেশি। ফলে তারা কর্মোপযোগী মানুষের স্বল্পতায় ভুগছে। চীন এবং ভারত প্রায় একই সময়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু এই দু’টি দেশই এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক বছর পরই চীন এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে শুরু করবে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য গগণে অবস্থান করছে। আরো ১৪/১৫ বছর আমরা এই সুযোগ বোগ করার সময় পাবো। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ কাজে লাগানোর মধ্যে পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। ইস্যুটি নিয়ে কর্তৃপক্ষীয় পর্যায়ে উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ উচ্চ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। এটা ঠিক যে বাংলাদেশ উচ্চ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির সুফল কি সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিকে ভোগ করতে পারছে? সামান্য সংখ্যক মানুষের হাতে সমস্ত সম্পদ পুঞ্জিভুত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আয় বৈষম্য এখন অসহনীয় পর্যায়ে উন্নয়ত হয়েছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সামান্য কিছু মানুষ ভোগ করতে পারছে বঞ্চিত হচ্ছে সংখ্যাগড়িষ্ঠ মানুষ। যাদের যা হবার নয় তারা তাই হচ্ছেন। বাংলাদেশ উচ্চ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে(যদিও অনেকেই প্রবৃদ্ধির প্রদর্শিত হার নিয়ে সন্দিহান) কিন্তু কিভাবে সেই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির হার প্রায় একই স্থানে স্থবির হয়ে আছে অনেক দিন ধরে। বিনিয়োগ কাঙ্খিত মাত্রায় হচ্ছে না। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ স্থবির অবস্থাতেও যদি উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় তাহলে সেই অবস্থাকে দেশের জন্য কল্যাণকর মনে করা যায় না। কারণ উৎপাদনশীল খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় তাকে কর্মসংস্থান বিহীন প্রবৃদ্ধি বলা হয়। সরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় তার গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক মাত্রায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় না। এ ছাড়া সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যাপক দুর্নীতির আশঙ্কা থাকে, যা জাতীয়ভাবে বিত্তবান এবং বিত্তহীনের ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। সেই বিনিয়োগই সবচেয়ে উত্তম যা ব্যাপক মাত্রায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। এটা অনস্বীকার্য যে,ব্যাপক মাত্রায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ব্যতীত জনসম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রমশ কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যে ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে তা আমাদের জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এই অবস্থা চির দিন থাকবে না। কিন্তু এই অবস্থার সুফল আমরা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। ব্যাপক মাত্রায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলে আগামীতে দেশের বেকারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা অতিক্রান্ত হলে দেশে সিনিয়র সিটিজেন, অর্থাৎ কর্মে অক্ষম মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে। সেই অবস্থায় বাংলাদেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে। সেই অবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ধরে রাখা কঠিন হবে। প্রশ্ন উঠতে পারে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আমাদের প্রথমেই দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি হাতকে কর্মীর হাতিয়াতে রূপান্তর করতে হবে। কর্মোপযোগী শিক্ষা এবং ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষকে কর্মক্ষম করে তুলতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা একজন মানুষকে দক্ষ এবং কর্মক্ষম করে তুলতে পারছে না। এই শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু কিছু আত্মঅহমিকাপূর্ণ বেকার সৃষ্টি করছে মাত্র। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের মাঝে বেকারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। যারা তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষিত বা একেবারেই অশিক্ষিত তাদের মাঝে বেকারের সংখ্যা কম। অশিক্ষিতরা বা স্বল্প শিক্ষিতরা যে কোনো উপায়ে একটি কাজ জুটিয়ে নিতে পারছে। তবে শুধু চাকরি প্রদানের মাধ্যমে বেকার সমস্যা নিরসন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে একজন ছাত্র বা ছাত্রী শিক্ষা জীবন শেষে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে পারে। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত একজন কর্মী হচ্ছে একটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সাবেক এক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ‘এক নম্বর জাতীয় সমস্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বেশি আলোচিত হয়েছিলেন। জনসংখ্যা তা পরিকল্পিতই হোক আর অপরিকল্পিতই হোক তা কখনোই এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হচ্ছে পারে না। জনসংখ্যা হচ্ছে আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। জনসংখ্যাকে জনশক্তিকে রূপান্তর করতে না পারাটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। এটা জনসংখ্যার কোনো দোষ নয়। জনসংখ্যা এমনই এক উৎপাদন উপকরণ যা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সেই উপকরণকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো না গেলে তা জাতির জন্য ‘দায়’ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করার দায়িত্ব সরকারের। তাই এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায়ও তাদেরই নিতে হবে। আমার জনসংখ্যানে জনশক্তিতে পরিণত করতে পারছি না বলে তার দায় বহন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থান করছে। কিন্তু এদের বেশির ভাগই অদক্ষ শ্রমিক। প্রতি বছর তারা কম বেশি দেড় হাজার মার্কিন ডলার রেমিটেন্স প্রেরণ করছে। আমরা যদি দক্ষ শ্রমিক এবং পেশাজীবীদের বিদেশে প্রেরণ করতে পারতাম তাহলে এই খাতের আয় অন্তত ৫০ গুন বাড়ানো সম্ভব ছিল। বাংলাদেশ প্রতি বছর কম বেশি দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে প্রেরণ করছে। কিন্তু আমরা কি খবর রাখি যে, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশীরা প্রতি বছর প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার তাদের দেশে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বেশ উন্নতি করেছে। বিদ্যালয়গামী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হারও বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিক্ষার মান কি বেড়েছে? অনেকেই মনে করেন, পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস, নকলের সুযোগদান এবং সর্বোপরী কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিহীন শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। এম অনেক শিক্ষার্থী পাওয়া যায় যারা ভালো রেজাল্ট করে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেছেন কিন্তু সঠিকভাবে বাংলা ভাষায় একটি আবেদনপত্র লিখতে পারেন না। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের সংখ্যা বেশি হবার এটাও একটি কারণ। আন্তর্জাতিক রীতি বা আইন অনুযায়ী,একটি দেশের মোট জিডিপি’র অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয়িত হয়। আমরা পাশকৃত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রতি যতটা গুরুত্ব দিচ্ছি মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ততটাই উদাসীন। যেহেতু উচ্চ শিক্ষা একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে না তাই কর্মক্ষেত্রে গিয়ে তারা বিরূপ অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। যে শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর ভিতরের সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে পারে না। সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না সেটা কোনো শিক্ষা নয়।
আমরা যদি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ কাজে লাগাতে চাই তাহলে প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত এবং কর্মোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গিকারও বটে। প্রতিটি কর্মীকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা না গেলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ আমরা কখনোই সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারবো না। সেই অবস্থায় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড আমাদের জন্য ডেমোগ্রাফিক লায়াবলিটিতে পরিণত হবে পারে।
এম এ খালেক: অর্থনীতি বিষয়ক কলাম লেখক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ