ঢাকা, শুক্রবার 26 April 2019, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬, ১৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনের সাথে এফটিএ সই করবে পাকিস্তান

২৫ এপ্রিল, সাউথ এশিয়ান মনিটর : পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা মঙ্গলবার চীনের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের জন্য একটি খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আসন্ন বেইজিং সফরকালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তথ্য ও সম্প্রচার সহকারী ড. ফিরদাউস আশিক আওয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন। চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমিয়ে আনতেই এই চুক্তি করা হচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বর্তমানে ৯ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিককালে চীন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০১৩ সালে অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচিতে পাকিস্তানে ৬০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় চীন, যেটা চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) নামে পরিচিত। এই করিডোরের অধীনে রয়েছে সড়ক, পাইপলাইন, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট, বাণিজ্য পার্ক এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি বন্দর।

আওয়ান বলেন, “চীনের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে সেটা আমাদের স্থানীয় শিল্প বাঁচাতে সাহায্য করবে, দুই দেশের মধ্যে রফতানি ও আমদানির ব্যবধান কমিয়ে আনবে”। পাকিস্তানের জন্য এটাকে একটা বড় অর্জন হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি।

বেইজিংয়ের সাথে বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে দ্বিতীয় ধাপের এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তান গত আট বছর ধরে চেষ্টা করে আসছিল। এখন আগামী ২৮ এপ্রিল এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

গত অর্থবছরে বেইজিংয়ের সাথে ইসলামাবাদের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৯.৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানে চীনা পণ্যের আমদানি বেড়ে ১১.৪৫৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে চীনে পাকিস্তানের রফতানি মাত্র ১.৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। কর্মকর্তারা বলেছেন যে, আগে যে এফটিএ ছিল, সেটা ছিল চীনের অনুকূলে এবং পাকিস্তানী রফতানি সেখানে বিকাশের সুযোগ ছিল না। দ্বিতীয় ধাপের এফএটির অধীনে চীন পাকিস্তানের ৯০ শতাংশ পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের ৬৫ শতাংশ পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। পাকিস্তানকে এখানে যে সুবিধা দেয়া হবে, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো আগে থেকেই চীনের কাছ থেকে এই সুবিধা পেয়ে আসছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, “চীন প্রাথমিক পর্যায়ে পাকিস্তানের সাথে নতুন এফটিএ স্বাক্ষরের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। তবে বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সফল কূটনীতির ফলে এটা অর্জিত হয়েছে”।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ