ঢাকা, শুক্রবার 26 April 2019, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬, ১৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজালাল

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১০তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শাহজালাল বলী। বৃহস্পতিবার বিকেলে লালদীঘির ময়দানে কক্সবাজারের চকরিয়ার তারিকুল আলম জীবন বলীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন জীবন বলী। 

টান টান উত্তেজনার মূল লড়াই স্থায়ী হয় প্রায় ২৬ মিনিট। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ লড়াইকালে দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। জীবন ও শাহজালাল বলীর পক্ষে শ্লোগান দেন উৎসুক দর্শকরা।  খেলা পরিচালনা করেন ৩০ বছরের অভিজ্ঞ রেফারি সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। তাকে সহযোগিতা করেন নূর মোহাম্মদ লেদু ও জাহাঙ্গীর আলম।

 সেমি ফাইনালে কুমিল্লার শাহজালালের মুখোমুখি হন মহেশখালীর সাহাবউদ্দিন। শাহজালাল ২০১৮ সালে রানার আপ হয়েছিলেন। অপর খেলায় মুখোমুখি হন কক্সবাজারের চকরিয়ার জীবন বলী ও মহেশখালীর মো. হোসেন। এ খেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধি, শক্তি ও কৌশলের ১০ মিনিটের লড়াই শেষে টসে ফাইনালের টিকিট পান জীবন বলী। যিনি ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

এরআগে সিরাজগঞ্জের মো. শফিকুল ইসলাম ও মহেশখালীর সিরাজুল মোস্তফার মধ্যে লড়াইয়ের মাধ্যমে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১০তম আসর।

বলী খেলায় প্রথম রাউন্ডে ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে জয়ী হন বাঁশখালীর সরোয়ার, শহীদুল আলম, পশ্চিম মাদারবাড়ির মো. সবুজ, স্টেশন রোডের আল আমিন, নালাপাড়ার দশম শ্রেণির ছাত্র মো. ইব্রাহিম, বাঁশখালীর খোরশেদুল আলম, সাব এরিয়ার মো. রাজিব, রাঙামাটির রুবেল হোসেন, পটিয়ার রাজু শীল, মহেশখালীর নেছার, ফিরিঙ্গিবাজারের নান্টু দাশ, রাঙ্গুনিয়ার সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. ইলিয়াস, এনায়েত বাজারের মো. ফয়সাল, রাউজানের মৃদুল দে, ফটিকছড়ির রিয়াজ উদ্দিন, শিবু শীল, মহেশখালীর সিরাজুল মোস্তফা, পতেঙ্গার খাজা আহমদ বলী, হাটহাজারীর মো. মফিজ, কুতুবদিয়ার মো. জিসান, বোয়ালখালীর মো. কাউসার, ফিরিঙ্গিবাজারের মো. যুবরাজ, পাঁচলাইশের মো. ইব্রাহিম, ফটিকছড়ির মো. নূর উদ্দিন, বঙ্গবাড়ী টেকপাড়ার রাজন দাশ, মহেশখালীর সৈয়দ নূর, চাক্তাইয়ের আবু হানিফ বাপ্পি, নিমতলার কামরান মুর্শেদ খান, কুমিল্লার মো. আলম, পটিয়ার মিনহাজুল আবেদন, ফিরিঙ্গিবাজারের ছোটন দাশ।

এরপর শুরু হয় চ্যালেঞ্জিং রাউন্ডের খেলা। চ্যালেঞ্জিং রাউন্ডে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে গেছেন জীবন, কাঞ্চন, বজল, মো. হোসেন, কালাম, সাহাবউদ্দিন, কালু এবং শাহজালাল। এদের মধ্যে সেমি ফাইনালের টিকিট পেয়েছেন কুমিল্লার শাহজালাল, মহেশখালীর সাহাবউদ্দিন, মো. হোসেন, চকরিয়ার তারিকুল ইসলাম জীবন।

বিকেল চারটায় বলীখেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। টেলিফোনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার অ্যান্ড ডেপুটি সিইও ইয়াসির আজমান।

১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে এ প্রতিযোগিতার সূচনা করেন।

এবার বলীখেলায় চ্যাম্পিয়নকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ট্রফি এবং রানারআপকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২৫ বলীকে নগদ ১ হাজার টাকা ও একটি করে ট্রফি দেয়া হয়।

বলী খেলাকে কেন্দ্র করে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলার দিকে শুধু এই অঞ্চল নয়, সারা দেশের অনেক মানুষের দৃষ্টি থাকে। বংশপরম্পরায় এই মেলাকে ঘিরে চলছে তাদের বাণিজ্যের ঘরবসতি।

প্রতিবছর বাংলা ১২ বৈশাখ ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বার বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই তারিখটির কথা কাউকে মনে করিয়ে দিতে হয় না। আমন্ত্রণ জানাতে হয় না। ১২ বৈশাখের দুই-তিন দিন আগে থেকে লালদীঘির ময়দান ও আশপাশের এলাকা নানা পণ্যে ভরে ওঠে। তিন দিনের মেলা হলেও সপ্তাহব্যাপী নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে চলে বিকিকিনি।

বলীখেলা ও মেলা উপলক্ষে দুদিন আগে থেকেই লালদীঘির মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় মেলা বসে গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী নিয়ে মেলায় ভিড় করেছেন। সাজসজ্জা, কারুপণ্য, গৃহস্থালিরসামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, মোড়া, দা, খুন্তি, মাদুর, শীতলপাটি, আসবাবপত্র, গাছের চারা, পোশাক, হাত পাখা, ঝাড়ু, খেলনাসহ কী নেই মেলায়।

চট্টগ্রাম ছাড়াও কুমিল্লা, ঢাকা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, বরিশাল, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্যের পসরা নিয়ে এখানে এসেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ