ঢাকা, রোববার 28 April 2019, ১৫ বৈশাখ ১৪২৬, ২১ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নরসিংদীর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আসাদুল হক পলাশ, নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ‘এফপিআই’ পদে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মঞ্জুরুল আলমের যোগসাজশে নরসিংদী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক দুর্নীতির আশ্রয়ে সরকারি চাকুরি বিধি লংঘন  করে  আহসানুল্লাহ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এক ব্যক্তিকে শিবপুরের বাসিন্দা বানিয়ে চাকরি দিয়েছেন। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের কানাহোটা গ্রামের চাকরিপ্রার্থী সুমন খান বাদী হয়ে নিয়োগ কর্মকর্তা মহাপরিচালক ও নিয়োগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। এ ব্যাপারে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ ভুয়া ঠিকানা দিয়ে চাকরি গ্রহণকারী ‘আহসানুল্লাহর নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’ মর্মে রুলনিশি জারি করেছেন। রুলে নিয়োগ কর্মকর্তাসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জবাবদিহি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক’ পৃথক শূন্য পদে নারী ও পুরুষ নিয়োগে ২০১৫ সালে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে  বলা হয়, সরকারি চাকুরি বিধি অনুযায়ী  জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন সমূহের শূন্যপদে কেবল সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। শূন্য পদের মধ্যে শিবপুরের চক্রধা ইউনিয়নে একজন পুরুষ নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। সেই পদের জন্য ভুয়া ঠিকানা দিয়ে আবেদন করেন আহসান উল্লাহ। যিনি নরসিংদী জেলারই বাসিন্দা নন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামের কাজী খলিলুর রহমানের পুত্র। পরিচয়  গোপন করে আহসান উল্লাহ তার স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়েছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের কানাহোটা গ্রাম। ভুয়া পরিচয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আসানুল্লাহর সাথে শিবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মঞ্জুরুল আলম জেলা তৎকালীন উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকের যোগসাজস রয়েছে বলে দাবী করেছেন রিটকারী।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলির ১১ নম্বরে বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (পুরুষ) পদে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে হবে। শর্তের ১২ নম্বরে বলা হয়েছে, স্থায়ী বাসিন্দার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ক্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে হলে বা প্রমাণিত হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, যোগদানের সময় আহসান উল্লাহ তার জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেননি, দিয়েছেন একটি জন্মনিবন্ধন সনদ। নিয়োগপত্রের শর্তাবলীতে থাকা সত্ত্বেও যোগদানের সময় শিবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পা অফিস কেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে জন্মনিবন্ধন গ্রহণ করেন তা রহস্যজনক।
চক্রধা ইউনিয়নের কানাহোটা গ্রাম এখন শিবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার বাদল মিয়া বলেন, ‘কাজী আহসান উল্লাহ আমার বাড়িতে এসেছিল তার এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে। যেহেতু সে এই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা না এবং আমিও তাকে চিনি না। তাই আমি তাকে প্রত্যয়নপত্র দেইনি।’
চক্রধা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বেনজির আহম্মেদ বলেন, ‘আমি শুনেছি কাজী আহসান উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি কানাহোটা গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি করছেন। তবে আমার জানামতে কাজী মো. আহসান উল্লাহ উক্ত গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ