ঢাকা, সোমবার 29 April 2019, ১৬ বৈশাখ ১৪২৬, ২২ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর দাফন সম্পন্ন

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় প্রেস ক্লাবে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের শেষ সময়ে মাহফুজউল্লাহ বড় ভাই মাহবুবউল্লাহ, মাহফুজউল্লাহর স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ আত্বীয় স্বজনরা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছিলেন। এর আগে আসরের নামাজের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে শেষ বারের মত তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাজধানীর গ্রিনরোড ডরমিটরি মসজিদে তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জানাযায় দেশের রাজনীতিক, সুধীজনদের পাশাপাশি পারিবারিক আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে তার লাশ প্রেস ক্লাবে আনা হয় এবং নামাজে জানাজা শুরু হয় ৫টা ২০ মিনিটে। এর আগে শনিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার লাশ এসে পৌঁছায়। পরে তার লাশ মোহাম্মদপুরে তার বাসায় নেওয়া হয়। শনিবার সকাল ১০টার দিকে (ব্যাংকক সময় ১১টা ৫ মিনিট) ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্য’র আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ,জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, কবি আব্দুল হাই সিকদার, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রমুখ।
সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এদেশের যে কয়েকজন প্রথিতযশা সাংবাদিক, তার মধ্যে মাহফুজ উল্লাহ নিঃসন্দেহে অন্যতম। অসাধারণ একটা বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। যে সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নেননি, নেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। মাহফুজ উল্লাহ একাধারে সাংবাদিকতা করেছেন, লিখেছেন প্রায় ৫০ টির মতো বই। তিনি হঠাৎ এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি। তিনি আমার অত্যন্ত ভালো বন্ধু ছিলেন। যদিও আমার বয়সে ছোট কিন্তু আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু ছিলেন, পরামর্শক ছিলেন এবং অনুপ্রেরণার একটা জায়গা ছিল। তাকে এভাবে আমাদের আগেই হঠাৎ করে চলে যেতে হবে, তার জানাজা পড়তে হবে, তা আমি ভাবতেও পারছি না। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে আমি নিজেই অত্যন্ত ভেঙে পড়েছি। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুন।
মাহফুজউল্লাহর বড় ভাই অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, মাহফুজুল্লাহ অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিল। আপনারা সাক্ষ্য দেন তিনি কেমন মানুষ ছিলেন। আপনারা দোয়া করবেন তাকে যেন আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন।
ছেলে মোস্তফা হাবিব বলেন, আমার আব্বার কথায় ও কাজে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। পহেলা মে বাবার কুলখানি এই প্রেস ক্লাবেই হবে, আশাকরি আপনারা সেখানে অংশগ্রহণ করবেন।
প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাহফুজ উল্লাহ ছিলেন তরুণ সাংবাদিক সমাজের প্রেরণা। তিনি ৫০টি বই লিখেছেন। যা ছোট বিষয় নয়। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি গবেষণা করতেন। তাকে এবং সাজ্জাদ কাদিরকে চীন সরকার গবেষণার জন্য নিয়ে গিয়েছিল।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সবাইপ্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, সময়ের অগ্রগামী গবেষক, লেখক, সাংবাদিক সাহিত্যিক মাহফুজ উল্লাহ মানুষ হিসেবে অত্যন্ত চমৎকার ছিলেন। তিনি ছিলেন সব দল মতের ঊর্ধ্বে একজন ভালো মানুষ। সবাইকে তিনি ভালোবেসেছেন, সবাই তাকে ভালোবাসতেন।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ভাই দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়তে পেরেছিলেন। তিনি সবসময় প্রেসক্লাবে আসতেন। গত ৩০ বছর ধরে তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন তার অভাব অনুভব করবে।
প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান এমপি বলেন, আমরা আমাদের একজন প্রিয় বন্ধুকে হারালাম। সাংবাদিক সমাজ একজন মেধাবী সাংবাদিককে হারালো। আমরা মহসিন হলে একই ফ্লোরে থাকতাম। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। আমি ছাত্রলীগ করতাম। আমাদের মধ্যে বিতর্ক হতো, কিন্তু কখনও তিক্ততা হয়নি।
বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আদর্শ, নীতি, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার প্রমাণ রেখে গেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আমাদের মধ্যে মতের অমিল থাকলেও তিনি যে বস্তুনিষ্ঠতা চর্চা করে গেছেন সেটা যেন আমরা ধরে রাখতে পারি। প্রধানমন্ত্রী ও সিটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই তার ইচ্ছা অনুযায়ী বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফনের সুযোগ দেওয়ার জন্য।
জানাজা শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা শ্রদ্ধা জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে বিএফইউজের সভাপতি রহুল আমিন গাজী এবং মহাসচিব এম আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় পার্টি, স্বাধীনতা ফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের পক্ষে থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
৬৯ বছর বয়সী মাহফুজউল্লাহ গত ২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। স্কয়ারে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।এর আগে ব্যাংককে একবার তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে মাহফুজউল্রাহ স্মরনে আগামী ১ মে বাদ আসর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মিলাদ মাহফিল করবে। এতে সকলকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ