ঢাকা, শনিবার 4 May 2019, ২১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রমযানে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমযান সমাগত। এ মাসে মুসলিমরা সিয়াম পালন করেন। সংযম ও তাকওয়া অর্জনের এ মাসটিতে নিষ্ঠাবান মুসলিমরা আল্লাহর ইবাদত-বন্দিগিতে মশগুল থাকেন বেশি। উল্লেখ্য, এ মাসে ইফতারসামগ্রী বিশেষত বাঙালি মুসলিমরা ছোলা, মুড়ি, খেজুর, ডাল, সরবত ও কিছু মশলা জাতীয় পণ্য বেশি ব্যবহার করেন। অর্থাৎ আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, তেল, লেবু, চিনি প্রভৃতির দরকার পড়ে বেশি ইফতারসামগ্রী প্রস্তুত করতে। চাল, আটা, ডাল, গোশত, মাছ ইত্যাদির ব্যবহার বাড়ে রাতের খাবারসহ সাহরিতেও। এ সুযোগে এক শ্রেণির অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী রমযান আসলেই উল্লেখিত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কারসাজি করে। ফলে সিয়াম পালনকারীদের ইফতার ও সাহরির সামগ্রী জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হয়। বিশেষত সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে।
সরকারি তরফ থেকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছে, এবার রমযানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, অতিমুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ডালসহ মসলার দাম বেড়েছে। গরুর গোশত ছিল ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা। তা এখনই ৬০০ টাকা হয়ে গেছে। খাসির গোশত ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ছুঁয়েছে। শবেবরাতের আগেই একদফা পণ্যমূল্য বাড়ানো হয়। আবার রমযান শুরুর আগে একদফা বেড়েছে। শুরু হয়ে গেলে আবারও একদফা বাড়ানো হবে। এটাই হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কৌশল। আর একবার কোনওভাবে পণ্যের দাম বেড়ে গেলে তা আর কখনও কমে না। এটাই যেন নিয়ম এবং ভোক্তার নিয়তি! পণ্য কিনতে বিত্তবানদের তেমন সমস্যা নেই। অসুবিধে হয় সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত এবং গরিব লোকের বেশি। উল্লেখ্য, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও বলেছেন, রমযানে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়বে না। তবে এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি গোশত কেনা যায় না, এ কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
পৃথিবীর অনেক দেশে রমযান মাসে নিত্যপণ্যের দামে ছাড় দেয়ার নিয়ম আছে। এমনকি কোনও কোনও অমুসলিম দেশেও বিভিন্ন পার্বণ ও রমযানে জনগণের যাতে কষ্ট লাঘব হয় সেজন্য নিত্যপণ্যসামগ্রীর মূল্য কমিয়ে দেয়া হয়। অথচ আমাদের ৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে রমযান এলে উল্টো চিত্র দেখতে হয়! ব্যবসায়ীরা যেন পণ্যের দাম বাড়াবার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। অথচ ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই মুসলিম এবং সিয়াম পালনকারী। অতিরিক্ত উপার্জনের মোক্ষম মাস তাঁদের যেন এই রমযান। কিন্তু মহান আল্লাহ এ পবিত্র রমযানকে সংযম সাধন এবং তাকওয়া অর্জনের মাস বলে উল্লেখ করেছেন। পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের মুসলিম ব্যবসায়ীদের এ অনুভূতি যেন নেই বললেই চলে। তাই আমরা অনুরোধ করবো, যারা দেশ পরিচালনা করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন, তাঁরা যেন খেয়াল রাখেন, অন্যায়ভাবে কোনও ব্যবসায়ী নিছক অতিরিক্ত মুনাফার লোভে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে সিয়াম পালনকারীদের কষ্ট বাড়াতে না পারেন। প্রয়োজনে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রণালয় বলেছে, বাজার মনিটর করা হবে। কিন্তু নিত্যপণ্যের মূল্য আগেই বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরপর মনিটরিংয়ের কোনও মানে আছে কি? রমযান এবং ঈদের সময় পণ্যপরিবহনে চাঁদাবাজি বাড়ে। মূল্যবৃদ্ধির এটাও একটা কারণ। তাই এ সময় চাঁদাবাজি কঠোরভাবে বন্ধসহ কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ