ঢাকা, রোববার 5 May 2019, ২২ বৈশাখ ১৪২৬, ২৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দর্শনার্থীদের হাতিরঝিলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয় নাকে রুমাল চেপে

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : ‘এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি।।
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি।।
কেতকি-কদম-যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী।।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ণনায় এক অপরূপ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। সত্যিই অতুলনীয় সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন ও মানুষ্য সৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সৌন্দর্য আজ বিলীন হতে বসেছে। রাজধানীর শিল্প-কারখানার দূষিত বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। রাজধানীর লেকগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। দূষিত পানির দুর্গন্ধে লেকের ধারে বসে বিশ্রাম নেয়ার যে সুযোগ ছিল সেটাও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তেমনি একটি লেক দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের প্রতিক ‘হাতিরঝিল’। রাজধানীবাসী অবসর সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় আসেন হাতিরঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু রাজধানীর মানুষ কিংবা দর্শনার্থীদের হাতিরঝিলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয় নাকে রুমাল চেপে। হাতিরঝিল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার ছয় বছর অতিক্রান্ত হলেও দুর্গন্ধের হাত থেকে মুক্তি মেলেনি। 
হাতিরঝিল প্রকল্প: হাতিরঝিল রাজধানী ঢাকার একটি এলাকা যা জনসাধারণের চলাচলের জন্য তৈরী করা হয়েছে। এ প্রকল্প এলাকাটি উদ্ধোধন ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি। এ প্রকল্প চালুর ফলে ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজারের এলাকার বাসিন্দাসহ এ পথ দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর 'স্পেশাল ওয়ার্কস অরগানাইজেশন' (এসডব্লিউও)। এ প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য হচ্ছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং শ্রীবৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত বিনোদন, সৌন্দর্য আর যোগাযোগের নতুন দ্বার স্বপ্নিল হাতিরঝিল প্রকল্প। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য ও অপরূপ নির্মাণশৈলী আর পরিবেশবান্ধব হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নগরবাসী বিনোদন-সৌন্দর্য আর যোগাযোগের আধুনিক সুবিধা পাচ্ছেন। রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছে সারিবদ্ধ বিভিন্ন দেশীয় ফুলের গাছ। এতে সবুজের যে সমারহ তা ঝিলের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিজস্ব অর্থায়ন ও সম্পূর্ণ দেশীয় কারিগরি সহায়তায় নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা বলে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, ঢাকা ওয়াসা এবং এলজিইডি যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পে পরামর্শকের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।
হাতিরঝিল প্রকল্পটি মোট ৩০২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৪৮ কোটি টাকা। অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে রয়েছে রাজউকের ৪৬ শতাংশ, 'কোর্ট অব ওয়াক্স'-এর ৮১ একর, পাবলিক ল্যান্ড ১৪১ একর ও বিটিভির ১ একর। ২০০৭ সালের  ৮ অক্টোবর একনেকে এক হাজার ৪৭৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। পরে, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়সহ  সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়  দাঁড়ায় এক হাজার ৯৭১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।  প্রকল্পটি ২০০৭ সালের অক্টোবরে একনেকে। ৩ বছর মেয়াদের এ প্রকল্পটি প্রথমে ২০১০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর কাজ শুরু হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। পরবর্তীতে প্রকল্পটি সংশোধন করে আরো দেড় বছর সময় ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়। কিছু কাজ বাকি রেখে উদ্বোধন করার সময় খরচ এক হাজার ৯৭১ কোটি টাকা হলেও পরে আরও ২৬৫ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বাজেট দাঁড়ায় দুই হাজার ২৩৬ কোটি টাকা।  প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজউকের ১ হাজার ১১৩ কোটি ৭ লাখ, এলজিইডির ২৭৬ কোটি এবং ঢাকা ওয়াসার ৮৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে।
ঢাকা মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিমে সংযোগের লক্ষ্যে হাতিরঝিল প্রকল্পে ৮ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেস রোড, স্থানীয় জনগণের যোগাযোগ সহজ করার জন্য ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্ভিস রোড। অর্থাৎ দুই পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে মোট ১৬ কিলোমিটার সড়ক। এছাড়া ৪৭৭ দশমিক ২৫ মিটার দীর্ঘ চারটি ব্রিজ, পথচারী ও ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুটপাত এবং ৯ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ লেক সাইড ওয়াকওয়ে, ২৬০ মিটার দীর্ঘ তিনটি ভায়াডাক্ট এবং প্রকল্প এলাকা যানজটমুুক্ত রাখতে ৪০০ মিটার দৈর্ঘের চারটি ওভারপাস, ইন্টারসেকশন ও রাউন্ডঅ্যাবাউট নির্মাণ করা হয়েছে। বিনোদনের জন্য লেকে রয়েছে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা, ছোট পরিসরে পিকনিক স্পটসহ বেশ কিছু সুবিধা। এ প্রকল্পে আড়াই হাজার আসনের একটি উন্মুক্ত মঞ্চ, রামপুরা প্রান্তে রাস্তায় দু’টি ইউ-লুপ, পানির ওপর দর্শনার্থী ডেক, জলযান টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালুর ফলে পূর্ব অংশের রামপুরা, বাড্ডা থেকে সহজেই শহরের কেন্দ্রস্থল কারওয়ান বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে। গাড়িতে এ এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য এফডিসি’র পাশের মোড়ে, মগবাজার রেল ক্রসিং ও রামপুরা সেতুর কাছে তিনটি পথ রয়েছে। তবে প্রকল্পে ১০ দশমিক ৪৫ কোটি ঘনফুট বর্জ্য অপসারণ, ১০ দশমিক ৪০ কিমি মেইন ডাইভারশন স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপন করে প্রকল্প এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপন কার্যকর হয়নি।
হাতিরঝিল নামের ইতিহাস: ভাওয়ালের রাজার এস্টেটের হাতিরঝিলসহ তেজগাঁও এলাকায় অনেক ভূসম্পত্তি ছিল। এস্টেটের হাতির পাল এখানকার ঝিলে স্নান করতে বা পানি খেতে বিচরণ করত বলে কালের পরিক্রমায় এর নাম হাতিরঝিল হয়। তবে এটাও জানা যায় যে, ব্রিটিশ রাজার  ধারাবাহিকতায়  ভাওয়ালের রাজাদের পোষা হাতি রাখা হতো পিলাখানায়। সে সময় গোসল করার জন্য এসব হাতি ঝিলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করতো এখনকার এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল এলাকা। হাতিদের আনাগোনার কারণেই এলাকার নামের সঙ্গে হাতি শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে। ঝিলের নামকরণের পেছনেও কারণ অভিন্ন।
প্রকল্পের পরামর্শক গ্রুপের দলনেতা স্থপতি ইকবাল হাবীব জানিয়েছিলেন, হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে রাজধানীর  মধ্যাঞ্চলে আর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। চারপাশে পাম্প স্থাপন করায় আশপাশে পানি সংকটও থাকবে না। কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর থেকে রামপুরা যেতে সময় লাগবে মিনিট কয়েক। গুলশান-বাড্ডাও যাওয়া যাবে নিমেষেই। আট কিলোমিটার এক্সপ্রেস সড়ক দিয়ে দ্রুতগতির যান চলাচল করবে। এ সড়কের পাশে আরও আট কিলোমিটার সার্ভিস পথে রিকশাসহ যে কোনো যান চলাচল করতে পারবে। কাছাকাছি গন্তব্যে যেতে এ সড়ক ব্যবহৃত হবে। শুধু সড়ক পথেই নয়, পানিপথে মগবাজার থেকে ওয়াটার বাসে চড়ে গুলশান-বারিধারায় যাতায়াতের সুযোগও থাকছে। তেজগাঁও দক্ষিণ কুনিপাড়ার সামনেও ব্রিজের সংযোগ সড়ক এবং টঙ্গী ডাইভারশন রোড-প্রগতি সরণি সংযোগ সড়কের পাশে একটি কার ও সাইকেল পার্কিং আর গুলশান অংশে একটি কারপার্কিং নির্মাণ করা হয়েছে। ঝিলে সব স্যুয়ারেজ কানেকশন বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি গৃহস্থালির বর্জ্য যেন বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে ঝিলে আসতে না পারে সেজন্য দু’পাশের রাস্তায় দু’টি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ঝিলের পানি আর দূষিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।
নাকে রুমাল চেপে হাতিরঝিলের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ:  হাতিরঝিলের ময়লা পানি ও অসহনীয় দুর্গন্ধ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত চমৎকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরও দুর্গন্ধময় দূষিত পানির জন্য নগরবাসীর কাছে হাতিরঝিলের আকর্ষণ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া হাতিরঝিল সোনারগাঁও হোটেল সংলগ্ন হওয়ায় দুর্গন্ধের বিষয়টি জাতীয়ভাবে একটি অস্বস্তির কারণ। প্রকল্প এলাকার কঠিন ও তরল সব ধরনের আবর্জনা পরিষ্কার করা নিয়ে সরকারি তিন সংস্থার মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। এ নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা সিটি করপোরেশন একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। প্রকল্পস্থল ময়লা-দুর্গন্ধময় এলাকায় এখন পর্যন্ত এ কাজের জন্য কোনো তহবিলও গঠন করা হয়নি। ফলে মনোরম এই প্রকল্পস্থল দিন দিন ময়লা দুর্গন্ধময় এলাকায় পরিণত হচ্ছে।
এ অবস্থায় গতবছরের ডিসেম্বরের মধ্যে হাতিরঝিলের দূষিত পানি পরিশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে নতুন একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়, হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা মোতাবেক লেকটিকে একটি প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু লেকে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া পানি এবং স্যানিটারি স্যুয়ারেজ লাইন আলাদা না থাকার কারণে বেশিরভাগ সময় বর্জ্য হাতিরঝিলে পতিত হয়। এ ছাড়া আশপাশের এলাকা থেকে কারখানা বর্জ্যও লেকের পানিতে মিশে যাচ্ছে। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির সময় আশপাশের এলাকাগুলোকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য হাতিরঝিলে পানি নিয়ন্ত্রণে নির্মিত গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে বর্জ্যমিশ্রিত পানি সরাসরি লেকে আসছে। এসব কারণে হাতিরঝিলের পানির গুণগত মান খারাপ হতে হতে প্রকট আকার ধারণ করছে।
রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, লেকের বিভিন্ন স্থানের পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, হাতিরঝিল লেকের পানি বর্তমানে অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে দূষিত, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
বেগুনবাড়ী-হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী মুজিবুর রহমান বলেন, দাসেরকান্দির ময়লা পানি পরিশোধন প্লান্ট স্থাপন না হওয়ায় হাতিরঝিল প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।  হাতিরঝিলে ডাইভারশন পয়োঃব্যবস্থা কার্যকর করা না গেলে এলাকার পরিবেশদূষণ ছড়িয়ে পড়বে।
স্বচ্ছ পানির দেখা মেলেনি হাতিরঝিলে: নান্দনিক সাজে সজ্জিত রাজধানীর হাতিরঝিলের প্রকল্প উদ্বোধনের ছয় বছর পরও স্বচ্ছ পানির দেখা পাননি দর্শনার্থীরা। বরং কাজের ফাঁকে ঘুরতে আসা বা যানজট এড়াতে ঝিলের সহজ রাস্তা ব্যবহারকারীদের বরাবরই পানির তীব্র দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে। এ দুর্গন্ধ দূর করতে প্রকল্পের শুরু থেকে এ পযর্ন্ত নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কোনোটাই সফল হয়নি। ফলে হাতিরঝিলের নিরিবিলি পরিবেশ আর শীতল বাতাসে গা জুড়াতে হলে দুর্গন্ধ সহ্য করার কোনো বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে আশপাশের এলাকার পচা-আবর্জনা ঝিলের মধ্যে প্রবেশ করে বছরের পর বছর ধরে নষ্ট করছে ঝিলের পানি। পানির স্বাভাবিক রঙ বদলে কালচে ও সবুজ রঙ ধারণ করেছে। সে সঙ্গে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাতিরঝিলের এফডিসি মোড় অংশ থেকে লেকের মধুবাগ ব্রিজ পর্যন্ত পানির রঙ কালচে আর সবুজ বর্ণের। সে সঙ্গে রয়েছে ভয়াবহ দুর্গন্ধ হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা আরাফাত হুসাইন নামের এক দর্শনার্থী জানান, প্রকল্পের উদ্বোধনের পর থেকে মাঝেমধ্যেই ঝিলের পাড়ে আড্ডা দেন তিনি। শুরুতে এত গন্ধ ছিল না। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ঝিলে কখনো স্বচ্ছ পানি দেখতে পাইনি। বরং উটকো দুর্গন্ধে বিরক্ত আমরা। এ দুর্গন্ধ না থাকলে ঝিলের পাড়ে বেড়াতে আরও ভালো লাগত। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেয়া যেত বলে জানান তিনি। শুধু আরাফাত নয় এখানে ঘুরতে আসা সকলের দাবি নির্মল বাতাশে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করতে না পারলে হাতিরঝিলের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ