ঢাকা, সোমবার 6 May 2019, ২৩ বৈশাখ ১৪২৬, ২৯ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [দুই]
ঘটনায় ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। ১২ এপ্রিল ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করায় ছাত্রলীগ কর্মী ফাহাদকে শাঁখারী বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। ১৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মল চত্বরে বৈশাখী অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের টাকা ভাগাভাগি ও কোন্দলে দু’বার হামলায় ৯ জন আহত হয়। হামলা ছাড়াও ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডঃ ওয়াজেদ রিসার্চ ইনষ্টিটিউটের নির্মান কাজের ঠিকাদারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে রোবি ছাত্রলীগ সভাপতি। ১৫ এপ্রিল সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিরণ মাহমুদ ব্যবসায়ী কাইউম চৌধূরী আনাসের কাছে চাঁদাদাবী করে। গত ২৬ মার্চ চাঁদা না দেয়ায় তার ওপর আক্রমন করা হয়। ১৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইফটিজিং ও মাদক মামলার আসামী ছাত্রলীগ নেতা সুজয় সাহা এবং কর্মী দিদারকে আটক করলে নেতাদের চাপে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ সময় ছাত্রলীগ পুলিশের এসআই মামুন, কনষ্টেবল ইমরান ও আবুল বাশারকে মারধর করে।
২১ এপ্রিল টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও যৌনহয়রানীর দায়ে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সজীব তালুকদার, সহ-সভাপতি ইমরান মিয়া ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবালকে আজীবন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং এক সেমিষ্টারের জন্য অপর দুই ছাত্রীকে বহিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২৩ এপ্রিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ৮ ছাত্রলীগ নেতাকে বহিস্কার করে কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যে ৩ জনকে আজীবন ও ৫ জনকে এক বছরের জন্য এ সাজা দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তরা হলো- ছাত্রলীগ নেতা হুমায়রা আজমিরা এরিন, একরামুল কবীর দ্বীপ, রোকনুজ্জামান, আসিফ আল-মাহমুদ, মোতাসসিন বিল্লাহ, মাহমুদুল হাসান শাকিব, নিশাত তাসনীম ও হারুণ-অর-রশীদ। ২৯ এপ্রিল রংপুরের কাউনিয়ায় সরকারী হারাগাছা কলেজে ছাত্রলীগের হামলা ১০ জন আহত। নানাবিধ দাবী নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর এ হামলা হয়। এ সময় তাদের হাতে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার লাঞ্ছিত হয়। ৩০ এপ্রিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি বিরোধী আন্দোলনের নেতা লোকমান হোসেনকে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ নেতা ছিফাত আহমেদ, রিফাত, রাকিব, সালাহ উদ্দিন শান্ত, হাসিব ও সোহে।
যুব লীগ ঃ ৩ এপ্রিল বগুড়ার কাহালু রেলওয়ে স্টেশন থেকে অস্ত্র মামলার আসামী ও যুবলীগ উপজেলা সহ-সভাপতি শাহিন ফকিরকে আটক করে পুলিশ। টাঙ্গাইলের সখীপুরে গত ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের পর এয়াতিমখানা রোডে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাংচুরের দায়ে যুবলীগ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর তালুকদারসহ ১৮ জনের নামে মামলা করা হয়। নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ভবনাথপুরে যুবলীগের সাথে সংঘর্ষে ১০ জন আহত। পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জাকির হোসেন ও ইউপি মেম্বার মোশররফ হোসেন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ৬ এপ্রিল খুলনার কয়রায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী সংবাদ প্রচারে ক্ষিপ্ত হয়ে দৈনিক খুলনাঞ্চল ও আজকের সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি শাহজাহান সিরাজকে মহারাজপুর এলাকায় কুপিয়ে জখম করে সাবেক যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলামের লোকজন। এ সময় তার মটর সাইকেলটি ভাংচুর করে নদীতে ফেলে দেয়। ৮ এপ্রিল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের ওপর যুবলীগ-ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের হামলায় উভয় পক্ষের ৫ জন আহত। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে এনএসআই কর্মকর্তা আলিফ উদ্দিনসহ ২ সাংবাদিক তাদের হাতে লাঞ্ছিত ও ঘটনার ছবি ধারণকৃত মোবাইল ভাংচুর করা হয়। ঘটনায় আহত হয় শ্রমিক নেতার ভাই আব্দুল জলিল, যুবলীগ কর্মী সুমন, মুন্না, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও সাবেক মন্ত্রীর ভাই খাজা মঈনুদ্দিন। নারায়নগঞ্জের রূপদিয়ায় পাঁচইখা গ্রামে উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান সবুজের বাম হাতের রগ কেটে দেয় যুবলীগ উপজেলা ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক বাচ্চু মিয়া, তার ছেলে ইমরান, ইমু, রিপন, সজিব ও টিপুসহ কয়েকজন। এ সময় নাজমুলের বাড়ী হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। ৯ এপ্রিল ঝালকাঠির নলছিটিতে মাদক কারবারী ও যুবলীগ দপদপিয়া ইউনিয়ন যুগ্ম-সম্পাদক নূর আলম খানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় আদালত। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই র‌্যাব-৮ তিমিরকাঠি গ্রাম থেকে ৩২০ বোতল ও ২০ লিটার ফেনসিডিলসহ নূর আলম শেখকে আটক করে।
১১ এপ্রিল বরগুনার পাথরঘাটায় আবাসিক হোটেল থেকে যুবলীগ পৌর ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি রাসেল চাপরাশি ও এক নারী আটক হয় পুলিশের হাতে। এ সময় যৌন উত্তেজক ওষুদও উদ্ধার করা হয়। ১৯ এপ্রিল নীলফামারীর সৈয়দপুর আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে উত্যাক্ত করায় যুবলীগ উপজেলা নেতা আবু বিন আজাদ শাওনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং যুবলীগ তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে। ২১ এপ্রিল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের বালুমহল ইজারা নিয়ে যুবলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পৌর যুবলীগ যুগ্ম-আহবায়ক তাজমুন আহমেদ, হৃদয়, বিপুল, মোস্তাকিন, অনিক ও সোহেলসহ ১৫ জন আহত হয়। উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম-আহবায়ক আবু কাওছার ও তাজমুন আহমেদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ২৩ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে চরকাদিরা ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ কালে যুবলীগের নামে বরাদ্দ না থাকায় বিতরণ বন্ধ করে দেয় যুবলীগ ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সোহেল বাঙ্গালী। ২৭ এপ্রিল মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বসাকপাড়া গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য দীপক বসাক, তার স্ত্রী রূম্পা বসাক, বাবা দুলাল বসাক ও শ্যালক দ্বীপ বসাকে মারপিট করে যুবলীগ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও তার সহযোগীরা। এ সময় হামলাকারী আব্দুল খালেক ও শাহীনুর আহত হয়। পুলিশ প্রধান আসামী যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেককে আটক করে। ২৮ এপ্রিল বরগুনার পাথরঘাটায় চরদুয়ানী ইউনিয়ন সদস্য ও যুবলীগ ইউনিয়ন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বায়োজিদ আহমেদ হাওলাদার এবং তার সহযোগী সাদ্দাম ফকিরকে পূর্ব হাতিমপুরের কাজীবাড়ী পেট্রল পাম্পের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ।
 স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঃ ১৯ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাঞ্ছারামপুরে রূপসদী গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক লীগ উপজেলা সহ-সভাপতি আবুল বাশার ও তার সহযোগীদের হাতে কালা মিয়া নামের এক ব্যক্তি এক পা এবং কালা মিয়ার ছেলে বিপ্লব মিয়ার দুই পায়ের রগ কাটা পড়ে। পুলিশ আবুল বাশার, তার ভাই মনির হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন ধন মিয়াকে আটক করে।
কৃষক লীগ ঃ ১৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রূপায়ন টাউনে কৃষক লীগের সভাপতি নাজিম বাহিনীর তান্ডবে অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী উপ-সচিব ফারহানা ইসলাম, শিক্ষা বিভাগের অডিট ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম আজাদ ও আবু সাঈদ পাটোয়ারী আহত হয়।
শ্রমিক লীগ ঃ ১৪ এপ্রিল বগুড়া সদরে শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুল মতিন সরকার গ্রুপের হাতে বিএনপি নেতা মাহবুব আলম শাহীন খুন হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে আটক করে।
যুব দল ঃ ৪ এপ্রিল নওগাঁর রাণীনগরে হরিশপুর এলাকা থেকে উপজেলা যুবদল সভাপতি ও একটি মামলায় ৮ মাসের দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ইমদাদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
জামায়াত ঃ ৮ এপ্রিল রংপুর মহানগরীর নীলকণ্ঠ এলাকা থেকে পুলিশ জামায়াত নেতা এ্যাডঃ কাওছার আলী, জামায়াত কর্মী সোহেল রানা লিমন, তাজুল ইসলাম, এ.কে.এম মাহমুদুর রহমান, শিবির কর্মী ইয়াহিয়া মাহমুদ ও মোজাম্মেল হককে আটক করে। ২৫ এপ্রিল রাজশাহী মহানগর জামায়াত সহকারী সেক্রেটারী ও ৩০নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর অধ্যাপক আব্দুস সামাদকে আটক করে পুলিশ। ২৭ এপ্রিল রাজশাহী মহানগর পুলিশ মহানগরী জামায়াত নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ সিদ্দিক হোসেনকে আটক করে।
শিবির ঃ ২৬ এপ্রিল যশোরের মনিরামপুর থেকে পূর্ব জেলা শিবির প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল্লাহ, মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজ শিবির নেতা শামীম হোসেন, ঝাঁপা গ্রামের রাসেল কবির, হানুয়ারের এনামুল, খালিয়ার আবু মুছা, কেশবপুর সাগরদাঁড়ির হাবিব হাসান, ভাল্লুকঘরের বিল্লাল হোসেন, মির্জানগরের সিরাজুল ইসলাম, শ্যামকুড়ের আহাদ, নোয়ালির সাজিম হোসেন, নেংগুড়ার ইয়াসিন আরাফাত, শাহপুরের নাজমুস সাকিব, খেদাপাড়ার গোলাম আজম, খালদার খালিদুর রহমান, পারখাজুরার সাইফুল ইসলাম, রোহিতার মাহফুজ, হাজরাকাটির মেহেদী, বাপ্পি হোসেন, রত্নেরশ্বরপুরের মনিরুল, ইস্রারাফিল হোসেন, মদনপুরের মাসুম বিল্লাহ ও একজন কলেজ শিক্ষকসহ ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ