ঢাকা, বুধবার 8 May 2019, ২৫ বৈশাখ ১৪২৬, ২ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার: বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী মারা গেছে। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। একাধিক হার্ট অ্যাটাকের পরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার কারণে গতকাল ভোরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে এই সংগীতশিল্পী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
আজ বুধবার সকালে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে তার মরদেহ। বেলা ১১ টায় শ্রদ্ধা জানাতে পারবে সর্বস্তরের মানুষ। সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি গতকাল মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি সুবীর নন্দীর বিদেহী আত্মার মুক্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় বলেন, ‘পাঁচবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই জনপ্রিয় শিল্পী তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।’
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্তলাল সেন জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজে সুবীর নন্দীর মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ আনা হবে তার ঢাকার গ্রিনরোডের বাসায়। সেখান থেকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বেলা ১১টায় তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর সুবীর নন্দীর মরদেহ নেয়া হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। সবুজবাগে বরদেশ্বরী কালীমন্দির ও শ্মশানে দুপুরে সুবীর নন্দীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতির অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। সংগীত ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার অবদান জাতি দীর্ঘকাল স্মরণ রাখবে।’
সুবীর নন্দীকে গত ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়, এর আগে তিনি ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৪ এপ্রিল শ্রীমঙ্গল থেকে ট্রেনে ঢাকায় ফেরার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় আজ ভোর সাড়ে ৪টায় মারা যান। এর আগে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও একবার ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল তার। ১৮ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয় সুবীর নন্দীকে।
বাংলাদেশে সুবীর নন্দীর চিকিৎসার বিষয়টি সমন্বয় করছিলেন অধ্যাপক সামন্তলাল সেন। তিনি বলেন, ‘বারবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তাঁর, সেইসঙ্গে সুবীর নন্দীর মাল্টিপল অর্গান ফেইলিউর হচ্ছিল।’
সংগীতে অবদানের জন্য এ বছরই সুবীর নন্দীকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার। বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।
দেশের জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীর ১৯৮১ সালে প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ প্রকাশ হয়। ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচবার। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছর তিনি পান দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক।
সুবীর নন্দীর গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো ‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, ‘চাঁদে কলঙ্ক আছে যেমন’, ‘বধূ তোমার আমার এই যে পিরিচিতি’ ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’, ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘আশা ছিল মনে মনে’ ইত্যাদি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ