ঢাকা, বুধবার 8 May 2019, ২৫ বৈশাখ ১৪২৬, ২ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সমুদ্রের পথে যাত্রা

সাইফুল ইসলাম তানভীর : আমার মধ্যে যত ধরনের সখ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে  ভ্রমণ। মহান আল্লাহর সৃষ্টি জগৎটাকে ঘুরে দেখার বড়ই সখ। পৃথিবী নামক এই গ্রহটি মহান আল্লাহ্র খুবই ক্ষুদ্র সৃষ্টি। সামান্য এই পৃথিবীতে বহু কিছু দেখার আছে। কিন্তু সবাই পৃথিবীর পুরোটা ঘুরে দেখতে পারছেন না। আছে নানান বাধা। রাষ্ট্রিক বিভিন্ন আইন কানুনেও রয়েছে বড় বাধা। আমার একজন তরুণ বন্ধু যিনি আমেরিকাতে বড় হয়েছেন। স্কুল থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত সে আমেরিকাতেই পড়েছে। সে বিশ্বের কিছু উন্নত দেশ ভ্রমণ করেছে। তার ইচ্ছা পুরো পৃথিবীটাকে দেখার। একান্ত এক আলাপে সে একটি ভ্রমণ বাধার কথা বলল। সে বলল ফিলিস্তিনের যে জায়গাটা ইসরাইলের ইহুদীরা দখল করে ইসরাইল নামক রাষ্ট্র তৈরী করে রেখেছে; সেই জায়গাটাওতো মহান আল্লাহ্র সৃষ্টি। কিন্তু সেখানে রয়েছে পর্যটকদের বাধা। যেমন আমাদের পাসপোর্টে লেখা (This passport is valid for all countries the world except Israel) আমাদের প্রতিবেশী বিশাল দেশ ভারতে অনেক কিছু দেখার রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের ভিড়ও কম নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভারতে শিশুদের, নারীদের নিরাপত্তা কম। তাছাড়া ওই দেশটিতে রয়েছে চরম সাম্প্রদায়িকতা। যাই হোক, আমাদের বাংলাদেশেও রয়েছে বহু কিছু দেখার। এখনও আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গা ভ্রমণ করতে পারিনি। বিয়ের আগে এখানে সেখানে যখন তখন ঘুরে বেড়াতে পারলেও বিয়ের পরে সেটা গতিহীন হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালের ৯ই মে বিয়ে করি। বিয়ের পরপরই সাংসারিক ব্যাস্ততা বেড়ে যায়। বিসেখ করে আমার মা তখন অসুস্থ ছিলেন। বিয়ের পরে স্ত্রীকে নিয়ে তেমন দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয়নি। সময়ই হয়ে উঠছেনা। নানান ব্যস্ততা। এরই মধ্যে স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার সখ হল। তখন ২০১৬ সাল। এই বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে আমি ঢাকার শাহজালাল বিমান বন্দর গিয়ে কক্সবাজারের বিমান টিকেট নিয়ে আসলাম। আমাদের ভ্রমনের তারিখ ছিল ২১ আগস্ট ২০১৬ ইং। শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় চট্টগ্রাম শহরে কাটালেও ২০১৬ সালের পূর্বে কক্সবাজার সমূদ্র সৈকতে আমার যাওয়া হয়নি। চট্টগ্রামে থাকাকালীন সেই শৈশবে নব্বই দশকের শুরুর দিকে স্কুল থেকে শিক্ষা সফরে গিয়েছিলাম পতেঙ্গা সী বীচে। সেটাই হলো আমার প্রথম সমূদ্র দেখা। আমার বাড়ী বাগেরহাটে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও সেখানে যাওয়া হয়নি। মনের মধ্যে অনেক আনন্দ যে আমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাব। ওদিকে দুশ্চিন্তা মা অসুস্থ। বাবাকে আমার বাসায় নিয়ে এলাম। ভাবী এবং ভাইয়ের ছেলে মেয়েদেরও আমার বাসায় নিয়ে এলাম। এ ব্যাপারে কয়েকজন শুভাকাঙ্খীর সাথে আলোচনা করেছিলাম। যে মা অসুস্থ অবস্থায় আমি বেড়াতে যেতে পারবো কিনা। সবাই বলেছে যে আপনার মা অসুস্থ এটাতো কনটিনিউয়াসলি। সামান্য সময়ের জন্য বেড়াতে যেতে পারেন অসুবিধার কিছু নয়। তাছাড়া আমার মায়ের যতেœ নিয়োজিত আমার স্ত্রী। তাকেও কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দেয়া প্রয়োজন এজন্য যে সে যেন পরবর্তীতে ভালো মন নিয়ে মায়ের যতœ নিতে পারে। এসকল সব ঠিক আছে। কিন্তু অফিস থেকে ছুটি নিতে আমার বড় বেগ পেতে হয়েছে। অথচ অনেক আগেই কর্তৃপক্ষকে জানানো ছিল। এমনিতেই আমি বেশী ছুটি কাটাই না। মাত্র তিনদিন ছুটি নিয়েছিলাম। আগস্টের সময় বর্ষা থাকে। সেদিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট রওনা দিলাম তখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ছিল। কেউ কেউ আমাকে সমুদ্র সৈকতে আবহাওয়া খারাপের ভয় দেখিয়েছিল। এয়ারপোর্টের বোর্ডিং পার হয়ে কতক্ষণ বসার পরেই নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশ বিমান এলো। এটি ছিল আমর জন্য চমৎকার খবর। কারণ এর পূর্বে বাংলাদেশ বিমান ভ্রমনে বিমানের বিলম্বতা লক্ষ্য করেছিলাম। এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে বসা অবস্থায় আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কিছু খাবে কিনা। তিনি না বলেছেন। কারণ কক্সবাজার গিয়েই আমরা নাস্তা করব। এমন উদ্দেশ্য আমাদের মাথায়। বিমানে ওঠার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এলো। আমরা বিমানে উঠলাম। কতক্ষণ পরে বিমান আকাশ পথে উড়তে শুরু করল। আমার স্ত্রীকে বসালাম জানালার পাশে। সে জানালা দিয়ে প্রথম দিকে ঢাকার কিছু দৃশ্য দেখল। বিমানে অন্যান্য মহিলা যাত্রীরা বেশ হই হুল্লোর করতেছিল। যাতে বেশ শব্দ দূষণের শিকার হলাম। তারা আনন্দে ফেটে পড়ছিল। তাদের  মধ্যে কে নাকি জানালা দিয়ে নদীর মধ্যে শেওলা দেখতেছিল ! তখন বিমান ১৫০০০ ফুট উপরে। এটা নিয়ে হাসাহাসির মাত্রা আরো বেড়ে গেল ! বিএসএমএমইউ এর সাবেক একজন উপাচার্য কানের চিকিৎসক। তিনি নাকি প্রায়ই কক্সবাজারে যেতেন বিশেষ কোন মেডিকেল ক্লাস করাতে। তিনিও নাকি এরকম শব্দ দূষণের শিকার হতেন। আনন্দ তো করতে হবেই। তো আনন্দ করার একটি ভালো সিষ্টেমতো থাকা দরকার। যারা প্রচন্ড হই হুল্লোড় করে শব্দ দূষণের সৃষ্টি করলেন তাদের সাথে থাকা শিশুরা, কিশোর/কিশোরীরা এখান থেকে কি শিখবে? অবশ্যই যা শিখবে তা দিয়ে ভবিষ্যতে খারাপ হবে। বিমানে আমরা ৫২ মিনিট এমন সময়ে বিমান কক্সবাজার বিমান বন্দরে অবতরণ করার জন্য নিচের দিকে নামতে রইল। নামার সময় বিমানের জানালা দিয়ে খুব সুন্দর দৃশ্য দেখলাম। বিমান বন্দরের পাশেই নদী। এই নদীর খুব কাছাকাছি ওপর থেকে আমরা বিমান বন্দরে অবতরণ করলাম। জানালা দিয়ে এই নদীর সুন্দর দৃশ্য এবং নৌকা দেখে আমার এবং আমার স্ত্রীর ভালোই লেগেছিল। আমরা যখন বিমান থেকে নামবো তখন ৫৪ মিনিট হয়েছে। ওদিকে হোটেল অষ্টার ইকোতে আমাদের রিসিভ করার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন কক্সবাজারের একজন শিক্ষাবিদ এবং ব্যবসায়ী। আমি ঢাকা থেকেই হোটেল বুকিং দিয়েছিলাম। আমার বন্ধু শ্রদ্ধেয় জিলানী ভাই যিনি চট্টগ্রামের সন্তান ঢাকায় ব্যবসা করেন। তিনি কক্সবাজারের ফরিদুল আলম ভাইকে ফোনে কল করে আমার জন্য হোটেল বুকিং দিতে সহযোগিতা করেছিলেন। আমরা উঠলাম হোটেল অষ্টার ইকোর ৬ষ্ঠ তলায়।
ফরিদুল আলম ভাই তিনিই হোটেল অষ্টার ইকোতে আমাদের রিসিভ করার জন্য ওই ভদ্রলোককে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। হোটেল কক্ষে এসে আমরা ফ্রেস হয়ে নাস্তা করলাম এর আগের দিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে আমি দীর্ঘ সময় রৌদ্রে কাটিয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় একটা সালিশিতে বসা ছিলাম। এমন অবস্থায় সেখানে বসে দুগ্লাস আখের রসও খেতে হয়েছিল। বিমানে খেয়েছি বাদাম এবং কেক। এসবের প্রভাবে আমার ডায়রিয়া হলো। ওদিকে মায়ের চিন্তা। চেহারাটাও মলিন হয়ে গেল। তারপরও নিজেকে সামলিয়ে নিলাম। প্রচুর স্যালাইন খেলাম। স্ত্রীকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে গেলাম। সমুদ্র সৈকতে বারবার ডাব খেলাম। কতক্ষণ সমুদ্র সৈকতে কাটিয়ে সোজা চলে গেলাম হিমছড়িতে। আমাদের উদ্দেশ্য হিমছড়িতে গিয়েই লাঞ্চ করবো। কলাতলি থেকে হিমছড়ি যেতে পথের দুপাশের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে মনটা জুড়িয়ে যায়। রাস্তার একপাশে পাহাড়, আরেক পাশে সমুদ্র। পাহাড়গুলোতে আবার বিচিত্র ধরনের ঝরণা। হিমছড়ির পাহাড় অনেক উঁচু। আমার স্ত্রী এত উঁচু পাহাড়ে উঠতে রাজি হলো না। কিন্তু আমি তাকে অনেক বুঝিয়ে সাহস জুগিয়ে ধরে ধরে পাহাড়ের ওপর উঠালাম। সেখানে উঠে তো মহান আল্লাহর তৈরী আরো অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পেলাম। বারবার মহান আল্লাহর সৃষ্টি রহস্যের কথা মনে পড়লো। যা পবিত্র কোরআন অর্থ সহকারে অধ্যয়ন করলে বুঝা যায়। মহান আল্লাহ্ কোরআনে এক জায়গায় বলেছেন- (“পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত হচ্ছে বৃষ্টির মতো, যা আমি মেঘমালা থেকে বর্ষণ করি। পানিতে জমিনের গাছপালা তৃণলতা সজীব হয়ে উঠে, যা থেকে জীবজন্তু ও মানুষ আহার পায়। জমিন গাছপালায় সুশোভিত হয়ে ওঠে আর নয়ন জুড়ায় সবার। জমিনে বসবাসকারীরা মনে করে, এসব কিছুই তাদের আওতাধীন। তারপর দিনে বা রাতে যখন আমার নির্দেশে সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তখন মনে হয়। এখানে গখনো সজীবতা ছিলনা। ধ্যানী বা চিন্তাশীলদের জন্য আমার বাণী সুস্পষ্টভাবেই বয়ান করি (যাতে তারা গভীরভাবে ভাবতে পারে”) সূরা-ইউনুস। আমাদের চারপাশে অনেক মানুষের অতি উত্তেজনা দেখি। অতি উৎফুল্লতা দেখি। বিশেষ করে পর্যটন এলাকায় গেলে দেখা যায় অনেক মানুষ সেখানে অশালীনভাবে উৎফুল্লতায় মেতে উঠে। যেটা মোটেই ঠিক নয়। আমরা দু’জন হিমছড়ির সেই উঁচু পাহাড় থেকে নেমে সেখানের সুন্দর সাজানো গোছানো একটি হোটেলে খেতে বসলাম। ওই হোটেলে তাজা তাজা কাঁচা মাছ সংরক্ষিত আছে। আমাদের সামনে হোটেলের লোকরা কয়েক প্রকারের মাছ নিয়ে এলো। আমি স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে মাঝারী সাইজের দুটি রূপচাঁদা মাছ ভুনা করতে বললাম। অনেক সময় নিয়ে তারা কাঠের জ্বালানীর মাধ্যমে ভূনা মাছ নিয়ে এলো। আতপ চাউলের ভাত, সবজি, ডাল ইত্যাদি নিয়ে এলো। বেশ মজা করেই খেলাম। কিন্তু ডায়রিয়ার চাপটা আরেকটু বেড়ে গেল। আবার স্যালাইন খেলাম। খাওয়া শেষে আমরা রিজার্ভ করা ওই গাড়িতে করে কলাতলীর দিকে অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলে এলাম।
কলাতলীর হোটেল অষ্টার ইকোতে ফিরে গোসল করে, নামাজ আদায় করে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার সমুদ্র সৈকতের দিকে বেরিয়ে পরলাম। রাস্তায় রিকসায় করে যাচ্ছে এক মহিলা। সে আমাকে দেখে হাত জাগিয়ে হাসি দিল। আমার স্ত্রী এটা দেখে বেশ আনন্দ পেল। মজার ব্যাপার হলো ওই মহিলা সমুদ্র সৈকতে ডাব বিক্রি করে। সে আমাকে চিনে রেখেছে। হোটেল অষ্টার ইকোর লিফট থেকে সমুদ্র সৈকত, সমুদ্র, স্পষ্ট দেখা যায়। একদম নিকটেই সমুদ্র। গ্লাসের  বেড়া দেওয়া ওই লিফটে ওঠা নামার সময়ও ভালো লাগে। লিফটে লেখা রয়েছে-কেউ লিফটে সমুদ্রে গোসল করে ভেজা কাপড় নিয়ে উঠবেন না। কিন্তু তারপরও অনেক যুবক, যুবতীকে ভেজা কাপড় নিয়ে লিফটে উঠতে দেখলাম। অনিয়মের যে কোন শেষ নেই। কক্সবাজার এলাকায় সকল পণ্যের মূল্য এবং যাতায়াত খরচ অনেক বেশী। সেখানে গেলে স্বাধীন প্রিয় অনেক মানুষের মনে কষ্ট লাগতে পারে। সমুদ্র সৈকতে আমি ফরমাল ড্রেসে ছিলাম। প্যান্ট, শার্ট, শু পড়া অবস্থায়। সমুদ্র সৈকতে গোসল করা। বিশেষ কোনভাবে উম্মাদনা করার স্বাদ বা সখ আমার মধ্যে ছিল না। আমার স্ত্রী সমুদ্র সৈকতে গিয়ে অনেক খুশী হয়েছিল। সে সামান্য কিছু দৃশ্য ভিডিও করেছিল। আমি তাকেও পানিতে তেমন নামতে দিইনি। সন্ধ্যার সময় আবার ডাব খেলাম। অনেক্ষণ সমুদ্র সৈকতে কাটালাম। সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। সমুদ্রের গর্জন শুনলাম। নিরব, নিস্তব্ধতায় মহান আল্লাহকে স্মরণ করলাম। মহান আল্লাহ্র সৃষ্টি দেখে মহান আল্লাহর প্রশংসা করলাম। মনে হচ্ছিল যেন এখনই মহান আল্লাহ্র সিজদায় পড়ে যাই। রাত ৯টার দিকে সমুদ্র সৈকতের মাছ ভাজির দোকান থেকে বড় সাইজের একটি রূপচাঁদা মাছ ভাজা এবং বড় সাইজের দুটো পরাটা নিয়ে হোটেলে ফিরলাম। সেগুলো খেয়ে এবং স্যালাইন খেয়ে এশার নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে শরীরটা একটু ভালো লাগলো। সকালে উঠে নামাজ আদায় করে গোসল করে, নাস্তা করে আবার সমুদ্র সৈকতে বের হলাম। স্ত্রীকে নিয়ে ছাতার নিচে বসলাম। গল্প করলাম। বাদাম, বুট খেলাম। সে সময় আমার স্ত্রীর মনে যথেষ্ট উৎফুল্লতা ছিল। সে আমাকে বলল এখানে পরবর্তীতে এলে লম্বা সময় কাটাতে হবে। এটা খুব সুন্দর জায়গা। ঘন্টা খানেক সময় সেখানে থেকে চট্টগ্রাম শহরের দিকে রওনা দিলাম। চট্টগ্রাম শহর আমার কাছে এক ধরনের স্বপ্নের শহর। কারণ চট্টগ্রাম শহরে আমার শৈশবের ৪-৫ বছর কেটেছে। সেখানে দীর্ঘ ২৩ বছর পর যাচ্ছি এ আনন্দে। রাস্তায় নানা ভোগান্তি শেষে সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম শহর পৌঁছালাম। ওদিকে চট্টগ্রামের জিলানী ভাই আমার জন্য খুব চিন্তায় ছিলেন। তিনি তখন চট্টগ্রামে তার নিজ বাসায় ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন তার বাসায় থাকার জন্য। কিন্তু আমার স্ত্রী এতে রাজি হলো না। তাই পূর্বেই জিলানী ভাই আমার অনুরোধে চট্টগ্রাম শহরের ভালো একটি গেষ্ট হাউজে আমাদের জন্য রুম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। সেখানে উঠে ফ্রেস হয়ে চলে গেলাম পতেঙ্গা সী বীচে। যেখানে সেই ৯০ সালে স্কুল থেকে গিয়ে “বনভোজন” করেছিলাম। সেখান থেকে ফিরে জিলানী ভাইয়ের বাসায় দাওয়াতে অংশগ্রহণ করলাম। তিনি চট্টগ্রামের লইট্টা মাছের ভূনা সহ নানান পদ দিয়ে টেবিল সাজিয়েছেন। জিলানী ভাই এবং ভাবী আমাদের অনেক যতœ নিলেন। যা ভুলে যাবার নয়। খাবার শেষে জিলানী ভাইয়ের সাথে গল্প করতে করতে রাত ১২টা বেজে গেল। গেষ্ট হাউজে ফিরলাম। নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে শরীরটা অনেক ভালো লাগলো। বের হয়ে পড়লাম স্বপ্নের শহরটা ঘুরে ঘুরে দেখার জন্য। রিকসা নিয়ে চট্টগ্রামের ধনিয়ালা পাড়া, পলোগ্রাউন্ড, সি.আর.বি ইত্যাদি এলাকা ঘুরলাম। আমার স্ত্রী ধনিয়ালা পাড়ায় ঘোরাঘুরিতে বিরক্তবোধ করলেন। সে আমাকে বলল এখানে কি দেখছো? আমি বললাম এখানেই আমার শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় কেটেছে। এখানের এই জায়গায় অনেক দূরন্তপনায় ছিলাম। স্কুলে গিয়েছি এই রাস্তা দিয়ে। পড়তাম এই স্কুলে। এরপর শর্ট সময়ে চট্টগ্রামের আরো কয়েকটি দর্শনীয় জায়গা দেখে ঢাকার উদ্দেশে বাসে উঠলাম। জিলানী ভাই আমাদের বাসে উঠিয়ে দিলেন। বাস ছেড়ে দেওয়ার পর বৃষ্টি নামলো। জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লাম। মাঝ পথে বিরতিতে এক রেষ্টুরেন্টে হালকা কিছু খেলাম। পরবর্তীতে সুস্থভাবে ঢাকায় ফিরলাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ