ঢাকা, ‍বৃহস্পতিবার 9 May 2019, ২৬ বৈশাখ ১৪২৬, ৩ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সুদানে নতুন আইনের উৎস হবে শরীয়াহ

৮ মে, নিউইয়র্ক টাইমস : সুদানে সেনাবাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, দেশে নতুন আইনের মূল উৎস হবে শরীয়া আইন। ওদিকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় অর্ন্তর্বতী সরকারের বিষয়ে বিরোধ দলীয় নেতারা প্রস্তাবের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে। 

তবে এপ্রিলে ৩০ বছরের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ক্ষমতায় আনা ১০ সদস্যের সামরিক কাউন্সিল বিরোধীদের অনেক প্রস্তাবের বিষয়ে অনেক সীমাবদ্ধতার কথা বলেছে। সেনাবাহিনীর কাছে বিক্ষোভকারীদের প্রস্তাব তুলে দেয় ডিক্লারেশন অব ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জ ফোর্সেস। এটি অধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর একটি জোট। 

সুদানের ট্রানজিশনাল মিলিটারি কাউন্সিল (টিএমসি)-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসেদ্দিন কাবাশি বলেছেন, তারা বিরোধীদের দেয়া প্রস্তাবের বেশির ভাগের সঙ্গেই একমত। বিরোধী জোট আইনের সূত্র কি হবে তা উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে আইনের সূত্র হওয়া উচিত ইসলামিক শরীয়া আইন ও রীতি।

 উদারপন্থী নতুন শাসকের পক্ষে সৌদি  আমিরাত ও মিসর!: সম্প্রতি ব্যাপক গন আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে করেছেন সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির। চলতি বছরের শুরুতে ওমর আল-বশিরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু বশির পদত্যাগ করতে তালবাহানা করেন। আর সে সময় তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মিসর, আরব আমিরাত ও সৌদি আরব গোপন চ্যানেলে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। মিসরীয় ও সুদানি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। 

ওই তিনটি আরব দেশে স্বৈরাচারী শাসন চলছে। এই দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আহবান জানিয়েছে অনেকে। দীর্ঘসময় আল-বাশিরের ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি ওই তিনটি আরব দেশগুলোর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ ইসলামপন্থীদের সাথে বশিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে ওই তিন আরব দেশের প্রতিপক্ষ তুর্কি ও কাতারের সঙ্গে বশিরের আনুগত্য বেড়ে গিয়েছিল। 

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভের পর গত ১১ এপ্রিল আল-বাশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দেশটির গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। 

ইসলামপন্থীদের ক্ষমতাচ্যুত করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনায় জেনারেলদের নিজেদের মিত্র বলে মনে করছে গণতন্ত্রপন্থী জনতা। 

এদিকে চার মিসরীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুদানের জেনারেল আব্দেল-ফাত্তাহ বুরহানের ওপর তাদের সরকারের সমর্থন রয়েছে। বর্তমানে দেশটির ক্ষমতায় থাকা মিলিটারি কাউন্সিলের তিনিই বিরলতম অ-ইসলামপন্থী (উদারপন্থী)। সম্প্রতি তারা বুরহানের সঙ্গে সংলাপে বসেছিলেন। 

তবে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং সুদানের সামরিক পরিষদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ