ঢাকা, ‍শুক্রবার 10 May 2019, ২৭ বৈশাখ ১৪২৬, ৪ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কৌতূহলী সিয়াম

শেখ বিপ্লব হোসন : ‘আব্বু, রোজা কী? রোজা কেন থাকতে হয়?’এসব কথা বাবাকে বলছিলো, সিয়াম। 

সে ক্লাস থ্রিতে পড়ে। বাবা’র সাথে তারাবির নামাজ পড়তে এসেছিলো সে। 

সব বিষয়েই কৌতূহল তার। কোনো নতুন কিছু তার সামনে পড়লেই যাকে পাবে, তাকেই ওই বিষয়ে প্রশ্ন করবে বার বার, সিয়াম।

বাবা জিয়াউল হক ছেলেকে বললেন, ‘বাবা, রোজা হলো ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। যেমন-কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত। এই পাঁচটি

হলো ইসলামের স্তম্ভ বা খুটি।

এই পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা। ইসলামি পরিভাষায় রোজাকে সাওম বলা হয়। এর অর্থ কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা। পরিত্যাগ করা। সুবেহ সাদেক থেকে অর্থাৎ শেষ রাত থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার না করা। মানে খানা-পিনা থেকে বিরত থাকা। খারাপ কথা না-বলা। কারো কোনো ক্ষতি না-করা। ঝগড়া-ঝাটি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এরকম আরও অনেক বিষয় আছে যা থেকে নিজেকে বিরত রাখার নাম রোজা। 

‘বাবা’র কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো সিয়াম। সে বাবাকে খুব পছন্দ করে। বাবাকে খুব ভালোবাসে সে। বাবা খুব ভালো বন্ধু তার।

আজ প্রথম রোজা। চারপাশের পরিবেশ খুবই শান্ত। আকাশে মেঘপরীদের ওড়াউড়ি নেই। নেই কোনো কোলাহল। আকাশে তারাদের হাট। মিষ্টি মধুর বাতাস বইছে চারদিক। 

সবার মনেই যেন এক অজানা সুখ বিরাজ করছে সারাক্ষণ। যেন স্বর্গ নেমে এসেছে ধরায়।

বাবা’র হাত ধরে হাঁটছে সিয়াম। সে বাবাকে আবার প্রশ্ন করে, ‘আব্বু! রোজা রাখলে কী হয়?’ 

ছেলের এমন সুন্দর কথা শুনে, তিনি মিষ্টি করে হাসলেন এবং বললেন, ‘রোজা হলো আল্লাহ’র বিধান। রোজা নামাজের মতোই ফরজ। মানে মহান আল্লাহ্’র আদেশ। এটা না মানলে, আমরা গুনাহগার হয়ে যাবো। মানে পাপী হয়ে যাবো। আল্লাহর কাছে অপরাধী হয়ে যাবো। দোষী হয়ে যাবো আমরা। “হাদীসে রাসূলে করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, যে লোক রমযান মাসের রোজা রাখবে ঈমান ও চেতনা সহকারে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।” এর মানে আমরা যদি রোজা পালন করি, তাহলে মহান আল্লাহ খুব খুশি হবেন। 

আর আমরা পাপ থেকে বেঁচে যাবো। রোজা পালন করলে, আল্লাহ শুধু খুশিই হবেন না, বরং আমাদের পুরস্কারও দিবেন।

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। 'জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন রোজাদারগণই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।

সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদারগণ কোথায়? তখন তাঁরা দাঁড়িয়ে যাবেএবং সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাঁদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে তাঁরা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ‘বাবা’র কথা শুনে সিয়াম বলল, ‘আব্বু, জান্নাত কী? জান্নাত দেখতে কেমন?’ ছেলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, জান্নাত হলো আল্লাহ’র বানানো বাগান। সেখানে অফুরান্ত সুখ আর সুখ। সেখানে কোনো কিছুর অভাব নেই। কোনো কিছুর অভাবও হবে না। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলেই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দিয়ে দিবেন।

সেখানে আল্লাহ’র প্রিয় বান্দারা অনন্তকাল সুখে শান্তিতে বসবাস করবেন। মহান আল্লাহ্, তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে সেই জান্নাত দান করবেন। জান্নাতের ব্যাপারে কোরআন ও হাদীসে আরো অনেক বর্ণনা আছে। তুমি যখন বড় হবে, তখন সবকিছুই জানতে ও বুঝতে পারবে ইন শা আল্লাহ্!’ বাবার কথা শুনে খুব খুশি হলো সিয়াম। সে বাবাকে বলল, ‘আব্বু, তাহলে আজ থেকে আমিও রোজা থাকবো।

সিয়ামের মুখে রোজা থাকার কথা শুনে বাবা খুব খুশি হলেন এবং বললেন, ’আমি দোয়া করি, আল্লাহ্ তোমাকে উত্তম বান্দা হিসেবে কবুল করুক!’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ