ঢাকা, ‍শুক্রবার 10 May 2019, ২৭ বৈশাখ ১৪২৬, ৪ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আতঙ্কে কয়েক কোটি মানুষ

এইচ এম আব্দুর রহিম :  ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় বাঁধগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আগামী বর্ষা মওসুমের আগে জরুরি ভিত্তিতে সংষ্কার করা না হলে কোটি কোটি টাকার সম্পদসহ বহু জনপদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। ফণীর উৎপত্তিটা উত্তাল ভারত মহাসাগর থেকে সুমাত্রার পশ্চিম পাশ দিয়ে এবং এটা বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এটি আশ্চর্য়ের বিষয় হলো এটা এত শক্তি অর্জন করেছে যে, গত ৪০ বছরের মধ্যে সব চেয়ে বেশি শক্তি সঞ্চয় করে আঘাত হেনেছে। গত ৩রা মে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে ২০০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে। সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আল্লাহর কোটি কোটি শুকরিয়া এটা স্থল পথে প্রথমে এ বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা হয়ে দেশে ঢুকেছে। তখন ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। ফলে এ দেশে জানমালের আশানুরূপ ক্ষয়ক্ষতি না হলে ও উপকূলীয় বাঁধগুলো ল-ভ- হয়ে গেছে।

তবে এ ঝড়ে দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ঝড়ের দিন ৩রা মে বজ্রপাতে মারা গেছে ১৪ জন। তবে ভারতে ৩৫জন মারা গেছে ঝড়ের কবলে পড়ে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উপকূলীয় ৫ হাজার কিলোমিটার বেঁড়িবাঁধের মধ্যে ৪ হাজার কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ। বাঁধগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় এখন টিকে আছে এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এসব বাঁধগুলো সংস্কার করা না হলে আগামী বর্ষা মওসুমে বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর ও বসত ভিটা ও ফসল ভেসে যাওয়ার পর সংস্কার ও নিমার্ণের কোন প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে ও বাঁধের কাজে যৎসামান্য পরিমাণ টাকা ব্যয় করা হয়। মোটা অঙ্কের টাকা ভাগাভাগি হয়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে যে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয় তা সরকারের কেন্দ্র থেকে সরাসরি মনিটরিং করা উচিত। বাঁধ নিমার্ণ করা হবে অথচ ভেসে যাবে এমন বাঁধ নির্মাণ করার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান বাঁধগুলো মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে। বাঁধের দূর্বল পয়েন্টগুলো চি‎ি‎হ্নত করে সংস্কার করতে হবে। এ কাজটি বছরব্যাপী করতে ফণী যেভাবে শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড় পরিণত হয়ে ছিল। 

বিগত ৪৩ বছরের ইতিহাসে কোনো ঘূর্ণিঝড় এমন রূপ ধারন করতে দেখা যায়নি। ঘূর্ণিঝড়টি যদি বাংলাদেশে আঘাত হানত তবে কি পরিস্থিতি দাঁড়াত তা অচিন্তনীয়। ভারত ঘুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় ধারণার চেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের এই দুর্বল আঘাতেই দেখা যাচ্ছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চল নড়বড়ে হয়ে গেছে। কোথাও কোথা ও ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভারতের উড়িষ্যার মতো আঘাত হানলে এসব বাঁধের অস্তিত্ব থাকত কিনা, তা নিয়ে সন্দেহপোষণ করা যেতেই পারে। আমরা বহুবার বলেছি, উপকূলীয় বাঁধসহ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকার বাঁধগুলো দৃঢ়, মজবুত করে গড়ে তুলতে। যেসব বাঁধসহ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকার বাঁধগুলো দৃঢ়, মজবুত করে গড়ে তুলতে। যেসব বাঁধ নির্মিত হয়েছে, সেগুলো নিয়মিত সংস্কার করতে হবে। দেখা যাচ্ছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে উদাসীন থেকে যাচ্ছে। প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাঁধগুলোর উন্নয়ন করছে না। এসব বাঁধের সিংহভাগই যে কত নাজুক অবস্থায় রয়েছে তা ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা হলেই বোঝা হলেই বোঝা যায়। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাঁধ রক্ষায় নেমে পড়ে।

এক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তিদের ভূমিকা খুবই দায়সারা গোছের। তাদের আচরণে মনে হয়, যেমনই হোক আমরা বাঁধ নির্মাণ করে দিয়েছি, এখন রক্ষার দায়িত্ব তোমাদের। আমাদের আর কোন দায়িত্ব নেই। অথচ জনগণের অর্থ দিয়ে বাঁধ নিমার্ণ করেছে এবং করছে। তারা এমনভাবে নির্মাণ করেছে যেন তা বালির বাঁধ হয়ে থাকে এবং বন্যায় ও জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। ভেসে গেলে অসাধূ কর্মকর্তাদের লাভ। তাদের মনে এই প্রবনতা বিরাজমান। বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে পুনরায় অর্থ বরাদ্ধ হবে এবং তাদের পকেটভারি হবে। মানুষ, ঘরবাড়ি ফসলি জমি, গবাদি পশু ভেসে গেল কিনা , তা নিয়ে তাদের মাথ্যা ব্যাথা নেই। অর্থাৎ জনগণের অর্থে নির্মিত বাঁধ নিয়ে দুর্নীতি চক্র স্থায়ী ব্যবসা তৈরি করে নিয়েছে। বছরের পর বছর বাঁধ নিয়ে এসব খেলা চলছে। উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যে লক্ষ্য নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তা যদি সততার সাথে নির্মাণ করা হয়েছে, তা যদি সততার সাথে সঙ্গে নির্মাণ ও সংস্কার করা হতো, তাহলে দেশের অনেক প্রাণ এবং সম্পদ রক্ষা পেত। ফণীর কারণে ধান, আলু, পেঁয়াজ, আম, লিচু, তরমুজ, সূর্যমুখী ফুল ক্ষেত, বাদাম, ভুট্টা, কাচাঁ মরিচ, পানের বরজ, কলাগাছ শাক সবাজ সহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল নষ্ট হয়েছে। বাতাসে মাটির সাথে লেপ্টে গেছে ধান। তলিয়ে গেছে আধা পাকা বোরো ফসল। বৃষ্টির পানিতে ফসল ঘের ভেসে গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের হিসেব মতে, ৩৬ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা কয়েক স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। দেশের ১৮ কোটি জন জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি মানুষ দেশের নদী বেষ্টিত উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। কিন্তু উপকূলীয় এলাকা এখন অরক্ষিত। বিশেষ করে টেকসই বাঁধ না থাকায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিবছর উপকূলীয় বাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপকূলীয় জেলাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালি, কক্সবাজার, ভোলা অন্যতম। প্রায় ডজন খানেক জেলার ভৌগোলিক অবস্থান উপকূলীয় এলাকায়। এসব উপকূলীয় এলাকা জেলে, কৃষক, বাওয়ালী কামার, কুমারসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোক বসবাস করে। জাতীয় অর্থনীতিতে উপকূলীয় অধিবাসীরা গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে মৎস্য সম্পদ আহরন করে দেশের মৎস্য সম্পদের দুইয়ের তৃতীয়াংশ চাহিদা পুরণ করে উপকূলীয় জেলেরা। সাগরসহ স্থানীয় নদ নদী থেকে মৎস্য সম্পদ আহরণ করে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। বিশেষ করে হিমায়িত চিংড়ী রপ্তানি করে বাংলাদেশ কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এ পেশার সাথে উপকূলীয় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত। মৎস সম্পদ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির ফসল উৎপাদন হয়। যা দেশের খাদ্য ঘাটতি পুরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উপকূলীয় বাঁধগুলো এত জরাজীর্ণ যে এসব এলাকার কোটি কোটি মানুষ চরম আতংক উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। শুধু সাতক্ষীরা, খুলনা উপকূলীয় এলাকায় সাড়ে ৮শত কিলোমিটার ওয়াপদা বাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। 

তবে গাবুরা ইউনিয়নের অবস্থাটা করুণ। দ্বীপ বেষ্টিত এ ইউনিয়নের ওয়াপদা বাঁধ ভেঙ্গে দ্বীপটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। অবিলন্বে একশ’ ফুট প্রশস্ত করে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এ ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে এখানকার ৪০ হাজার মানুষ চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। 

এছাড়া অন্যান্য  উপকূলীয় বাঁধ যে কোনো মুহূর্তে এসব বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ১৯৬৯ সালে বঙ্গোসাগরের তরঙ্গমালা হতে রক্ষা করার জন্য মুলতঃ এসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এসব বাঁধের স্থায়িত্ব ধরা হয় বিশ বছর। কিন্তু ৪০ বছর উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর ও যথাযথভাবে এসব বাঁধ সংস্কার করা হয়নি। ফলে বিশাল বিস্তৃত এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ১৯৮৮ সালের ২৯ শে নভেন্বর হারিকেন ঝড়, ২০০৭ সালের ১৫ নবেন্বর সিডর, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলায় উপকূলীয় এলাকা ল-ভ- হয়ে যায়। প্রায় ৩ শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে, হাজার হাজার বসতবাড়ী নদীর সাথে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে উপকূলীয় বাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এসব বাঁধগুলো সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে। এদিকে বঙ্গোপসাগরে চর পড়ায় জোয়ারের পানিতে উচ্চতা আগের তুলনায় অনেকে বেড়েছে। আগেকার দিনে ৫/৬ ফুট উচুঁ রাস্তা দিয়ে জোয়ারের পানি থেকে লোকালয় রক্ষা করা যেত। 

তবে উপকূলীয় অধিবাসীদের আগলে রেখেছে সুন্দরবন। বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে আঘাত হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোর গতি কমানোর ক্ষেত্রে সুন্দর বন ভূমিকা রেখেছে। সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া  ঘূর্ণিঝড় যাওয়ার সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ৪ থেকে সাড়ে ১৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমে গেছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের নভেন্বর মাসে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ৪ থেকে সাড়ে ১৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমে গিয়ে ছিল। বিষের করে ২০০৭ সালের নবেন্বর মাসে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডরের বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের গতি সুন্দর বনের কারণে অর্ধেকের নেমে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমাদের সব কার্যক্রম উপকূল কেন্দ্রিক। আর ফণী যে এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরায় এক সময় সুন্দরবন ছিল, সেই বন নানা কারণে ধ্বংস করে বসতি তৈরী হয়েছে। ফলে ফণী থেকে আমরা শিক্ষা পেলাম, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বেড়িবাঁধগুলো মেরামত করা ও উচ্চতা বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ বনরক্ষা করতে হবে। 

২০১৭ সালের নবেন্বরে বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা ‘বাংলাদেশে ঝড় থেকে সুরক্ষায় ম্যানগ্রোভ বনের ভূমিকা’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮৭৭ সাল থেকে সুরক্ষায় ম্যানগ্রোভ বনের ভূমিকা’ শীষক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মোট ৪৮টি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে।

 এর মধ্যে ১৯৬৬ সালের মধ্যে আঘাত করেছে ২০টি ঘূর্ণিঝড়। এসবগুলোর সবগুলো উপকূল দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। যার বেশিরভাগ ছিল খুলনা, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, বরিশাল অঞ্চল দিয়ে। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। -বাংলাদেশে ইতিহাসে বড় প্রলয়ঙ্করী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কে। ১৯৭০ সালের ১২ই নবেন্বর সর্বোচ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১০ থেকে ৩৩ ফুট। 

এ ঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়। ১৯৯১ সালের ২৯-৩০ শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে যাতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায়। বাকেরগঞ্জের প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি অনেকের কাছে বাকেরগঞ্জের প্রবল ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত। তাতে প্রাণ হারিয়েছে ২ লাখ মানুষ, যখন ৪০ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়। 

১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবর মাসে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ৬ লাখ ১৪৯ জন নিহত হয়। ৬.১ মিটা জলোচ্ছ্বাস ছিল। ১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়। 

১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামে ১লা অক্টোবর ২০-২২ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়। ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস মিয়ানমারে আঘাত হানে। এতে বহু ক্ষতি হয়। ২০১৩ সালের ১৬ মে নোয়াখালি-চট্টগ্রাম উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের ঘূর্ণিঝড় ‘মোহাসেন’। 

২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্রগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে ৫-৭ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ আঘাত হানে। 

২০১৬ সালে ২১ মে বরিশাল-চট্টগ্রামের উপকূলে ৫-৭ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। ২০১৭ সালের ৩০ শে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ