ঢাকা, ‍শুক্রবার 10 May 2019, ২৭ বৈশাখ ১৪২৬, ৪ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মুক্তি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে  -- কাদের সিদ্দিকী 

 

স্টাফ রিপোর্টার : কৃষক শ্রমিক জনতা লিগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বেগম জিয়াকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মুক্তি না দেওয়া হলে তার মুক্তির ব্যাপারে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। প্যারোলে বা অন্ধকারে তার মুক্তি দাবি করি না। তার এমনিতেই জামিন পাওয়ার কথা।

গতকাল বৃহস্পতিবার মতিঝিলে কৃষক শ্রমিক জনতা লিগের কার্যালয়ে এক বর্ধিত সভা শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যেসব এমপিরা শপথ নিয়েছেন তাদের সমালোচনা করে বঙ্গবীর বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে যা সংসদে যোগ দিয়েছেন তারা ঠিক কাজ করেননি। ভবিষ্যতে এসব লোকরা জাতির কাছে মীর জাফর হিসেবে চিহ্নিত হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি, অসঙ্গতি আছে বলে অভিযোগ করেন ফ্রন্টের শরিক। তিনি এসব ত্রুটি সংশোধনের জন্য এক মাসের সময় দিয়েছেন ফ্রন্টকে। এর মধ্যে সংশোধন করা না হলে তিনি এই জোট থেকে তার দলকে সরিয়ে নেবেন বলে জানিয়েছেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ত্রুটি-বিচ্যুতি, অসঙ্গতি সংশোধনের জন্য এক মাসের সময় দিলাম। এর মধ্যে এগুলো সংশোধন করতে হবে। না হলে আমরা ফ্রন্টে থাকতে পারবো না। 

বঙ্গবীর বলেন, নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এত নাটক হচ্ছে, তা দেখে মানুষ বিভ্রান্ত। তারা প্রশ্ন করে, আমরা কোনো জবাব দিতে পারি না। বৃহস্পতিবার মতিঝিলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

এ সময় কাদের সিদ্দিকী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার জন্য আগামী ৮ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে জঘণ্য নাটক হয়েছে। বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর কোথাও এমন নাটকের নজির নেই। কিন্তু, আমরা এই নির্বাচন নাটককেও হার মানিয়েছি।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমাদের জোট ঐক্যফ্রন্ট প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করল। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক স্বার্থে সেটি ছিল যথার্থ সিদ্ধান্ত। কিন্তু, এরপর থেকেই একটার পর একটা নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। প্রথমে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ শপথ নিয়ে সংসদে গেলেন। ক্ষোভ দেখিয়ে দল তাকে বহিষ্কার করল। এরপর মোকাব্বির খান শপথ নিলেন। ড. কামাল হোসেন তাকে ‘গেট আউট’ বলে তাড়িয়ে দিলেন। পরে দেখলাম গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে তিনি কামালের পাশে বসে আছেন। এসব দেখে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন করে, আমরা উত্তর দিতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘একইভাবে প্রথম বিএনপির একজন শপথ নিলেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। পরে চারজন শপথ নিলেন, তাদের বিএনপি স্বাগত জানালো। অথচ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন না। বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের এসব নাটকে মানুষ বিরক্ত, বিভ্রান্ত। বিভিন্ন জায়গায় গেলে, তারা প্রশ্ন করে কিসের আলামত? আমার কাছে জবাব নেই, লজ্জিত হই।’

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। যে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলাম, সেই সংসদেই সাতজন শপথ নিলেন, জোটের কারও সঙ্গে আলোচনা করা হলো না। কেন ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় এত দুর্বলতা? কেন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে নাÍ এসব জোটের শীর্ষনেতাদের কাছে জানতে চেয়েছি। ৩০ এপ্রিল শাহবাগের গণজমায়েত কেন বাতিল করা হলো, তাও জানতে চেয়েছি।

তিনি বলেন, ‘আগামী ৮ জুনের মধ্যে তারা এসব বিষয়ে সমাধান না দিলে, পরের দিন থেকে আমি আর ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নেই। এই জোট থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে প্রত্যাহার করে নেব।’ সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারসহ দলের শীর্ষনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ