ঢাকা, ‍শনিবার 11 May 2019, ২৮ বৈশাখ ১৪২৬, ৫ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইরানি নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চান ট্রাম্প

১০ মে, পার্সটুডে : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের চরম বিদ্বেষী নীতির জের ধরে দু’দেশের মধ্যে যখন উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই এমন আগ্রহ প্রকাশ করলেন তিনি।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি ইরানের ব্যাপারে যা দেখতে চাই তা হলো তারা আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে টেলিফোন করছে। তিনি বলেন, আমি চাই ইরানি কর্মকর্তারা একটি ভালো চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আলোচনা করতে আমাকে টেলিফোন করুক। এ ধরনের চুক্তি ইরানকে চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সহযোগিতা করবে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানিদের কাছ থেকে বেশি কিছু চান না; শুধু চান ইরানিরা পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করুক।

ট্রাম্প এমন সময় এ দাবি করলেন যখন পশ্চিমাদের ভাষায় ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেয়ার লক্ষ্যে আমেরিকাসহ ছয় বিশ্বশক্তি ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সাক্ষর করে। কিন্তু ট্রাম্প গত বছরের মে মাসে পুরো বিশ্বের বিরোধিতা উপেক্ষা করে সেই সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন।

 হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দেন। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার প্রশাসনের ইরান নীতি প্রত্যাখ্যান করে জন কেরি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আইন লঙ্ঘন করছেন এবং এজন্য তার বিচার হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, জন কেরি টেলিফোনে তাদের সঙ্গে অনেক বেশি কথা বলছেন এবং তিনি তাদেরকে বলছেন তারা যেন আমাকে ফোন না করে। এটি আইনের লঙ্ঘন এবং অকপটে বলতে গেলে এজন্য তার বিচার হওয়া উচিত।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জন কেরির এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ যা কিছু বলেছেন তার সব ভুল এবং কল্পকাহিনী। তিনি বাস্তবতা বুঝতে পারেননি, আইন বোঝেননি এবং সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিরাপদ রাখতে হয় সেই কূটনীতি তিনি রপ্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চি বলেছেন, আলোচনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি নন এবং তার ওপর আস্থা রাখা যায় না।

বৃহস্পতিবার মার্কিন নিউজ চ্যানেল এনবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ইরান কি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তাখতে রাভাঞ্চি বলেন, “আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই ব্যাখ্যা দিতে হবে তিনি কেন আলোচনার টেবিল থেকে উঠে গেলেন?”

তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন সময় আলোচনার টেবিল থেকে উঠে গিয়েছিলেন যখন বিশ্ব শক্তিগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ওই টেবিলে বসে ছিল।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “আবার আলোচনায় বসে তিনি যে এভাবে উঠে যাবেন না তার নিশ্চয়তা কোথায়; বিশেষ করে তিনি যখন একের পর এক আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন।”

ইরানকে তার ভাষায় পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার জন্য আলোচনায় বসতে চান বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তার জবাবে তাখতে রাভাঞ্চি বলেন, “ইরান যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না তা বোধ হয় ট্রাম্পের জানা নেই।”

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ ১৪টি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। এ ছাড়া, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এই অস্ত্র নিষিদ্ধ করে ফতোয়া জারি করেছেন।

বাবরী মসজিদ মামলার মধ্যস্থতাকারীদের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট

১০ মে, টাইমস অব ইন্ডিয়া : ভারতের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, বাবরী মসজিদ নিয়ে অযোধ্যা মামলায় মধ্যস্থতার প্রক্রিয়ায় কোনও শর্ট-কাট করতে চায় না আদালত। গতকাল শুক্রবার আদালতে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। তাই অযোধ্যা মামলায় মধ্যস্থতাকারীদের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মধ্যস্থতাকারীরা বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি সমাধান সূত্র খুঁজতে ওই দিন পর্যন্ত সময় চান আদালতের কাছে।

মাস দুয়েক আগে বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলার জন্য মধ্যস্থতার ব্যবস্থা করেছিল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। সেই মধ্যস্থতায় কতদূর পৌঁছনো গেল, তাই জানানোর কথা ছিল শুক্রবারের শুনানিতে। শুক্রবার আদালতে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জুন মাসে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।

সে জন্য মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য আদালতের কাছে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় চান মধ্যস্থতাকারীরা। সেই আরজি মেনে নিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, ‘মধ্যস্থতাকারীদের প্যানেল যদি ফলের ব্যাপারে আশাবাদী থাকে এবং ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় চায়, তাহলে তা দিতে ক্ষতি কী? এই বিষয়টিতো বহু বছর ধরে আটকে রয়েছে। কমিটি তার রিপোর্ট পেশ করেছে। কিন্তু প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, তা প্রকাশ করা হবে না। এটা গোপনীয়।

বাবরি মসজিদের চত্বরে রাম মন্দিরের নির্মাণের দাবি যে শুধু অযোধ্যার বাসিন্দাদের একাংশের আবেগের বিষয় নয়, এর ভিত্তিতে যে গোটা ভারত জুড়ে হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের আবহাওয়া তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে তা বিলক্ষণ জানেন বিচারপতিরা।

 সেই জন্যই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এক তিন সদস্যের মধ্যস্থতাকারী প্যানেলের ব্যবস্থা করেন। তাতে ছিলেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এফএমআই খলিফুল্লা, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্রীরাম পাঁচু। সে জন্য আট সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল তাদের। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও অবস্থাতেই মধ্যস্থতার কথা প্রকাশ করতে পারবে না সংবাদমাধ্যম। সম্পূর্ণ ভাবে গোপন রাখতে হবে তা। সেই প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল ৩ মে। অযোধ্যার লাগোয়া ফৈজাবাদে প্রক্রিয়াটি চলেছে। কিন্তু প্রথম থেকেই নির্মোহী আখড়া বাদে সমস্ত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই মধ্যস্থতার বিরোধিতা করে এসেছে। যদিও মুসলিম সংগঠনগুলি এই মধ্যস্থতার পক্ষেই কথা বলেছিল। রাম লালা বিরাজমানের তরফে যেই আইনজীবী দাঁড়িয়েছিলেন, সেই সি এস বৈদ্যনাথন এ-ও বলেন, ‘আমরা অনুদান দিয়ে অন্য কোথাও মসজিদ বানিয়ে দিতে রাজি আছি।  কিন্তু রামের জন্মস্থান নিয়ে কোনও দরকষাকষি হবে না। মধ্যস্থতায় লাভ হবে না।’ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ অবশ্য জানিয়ে দেয়, ১৫০০ বর্গফুটের ওই জমি শুধু একটি জমির মামলা নয়, ধর্মীয় ভাবাবেগের বিষয়। আর তাই মধ্যস্থতার পথই ধরা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ