ঢাকা, ‍শনিবার 11 May 2019, ২৮ বৈশাখ ১৪২৬, ৫ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চৌহালীতে যমুনা ভাঙছে ॥ বসতবাড়ি ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : ভাঙছে নদী, বিলীন হচ্ছে-চিরচেনা বসতভিটা-ফসলি জমি, আর কাঁদছে মানুষ। এক সময়ের বিত্তশালীরা অসহায় হয়ে খুঁজছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। তাদের করুণ আর্তনাদে যমুনা পাড় যেন কিয়ামতের ময়দান। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ প্রতিদিনই আসছে যমুনার নির্দয় ভাঙনের তা-বলীলা দেখতে। অসময়ে নদী ভাঙনের এমন চিত্র সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের আড়কান্দি চরে।
সরেজমিনে জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দেড় মাসের ব্যবধানে নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে দক্ষিণে পাচিল পর্যন্ত ছয়টি গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতভিটাসহ কয়েকশ’ শতাধিক হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বৃহস্প্রতিবার ও গতকাল শুক্রবার আড়কান্দিচর গ্রামে চলে ভয়াবহ ভাঙন। একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়ছে মানুষ। খোলা আকাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকে। চিরচেনা বসতভিটা-ফসল জমি হারিয়ে পথের ফকির হতে বসেছে অনেকেই। স্থানীয়রা জানান, বর্ষার আগেই যমুনার রুদ্ধরুপ ধারণ করায় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। বিশেষ করে পাচিল-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক, বহু তাঁত কারখানা, মাদ্রাসা-মসজিদ,কবরস্হানসহ কয়েকশ’ ঘরবাড়ি চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (এসও) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, পাউবো সর্বাত্বক চেষ্টা করে যাচ্ছে এলাকার ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণে। ইতিমধ্যে ব্রাহ্মণগ্রামে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি বাকি এলাকাগুলোতেও কাজ হবে। এদিকে একই তালে যমুনা নদীর পূর্বপাড় চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া, খাষপুখুরিয়া, সদিয়াচাঁদপুর ও স্থল ইউনিয়নে চলছে যমুনার ভাঙন। ভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ