ঢাকা, ‍শনিবার 11 May 2019, ২৮ বৈশাখ ১৪২৬, ৫ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লড়াই করতে হবে হতাশ হলে চলবে না

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে ৩ যুগ পূর্তি উপলক্ষে ত্যাগ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। আমাদের প্রতিটি সুযোগ নিতে হবে, পথ বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটা সহজ কাজ নয়। তিনি বলেন, আমাদের বয়স হয়েছে এবং আমরা বৃদ্ধ হয়েছি। এখন তরুণদের সময়। তরুণেরাই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। গতকাল শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন, বিএনপি চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালনের তিন যুগ পূর্তি’ উপলক্ষে এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
চিত্র প্রদর্শনীতে খালেদা জিয়ার রাজনীতির শুরু থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া পর্যন্ত ৯০টি ছবি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের নানা দূর্লভ ছবি স্থান পেয়েছে। ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএইচ আইয়ুব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। চিত্র প্রদর্শনীর উদ্ভোধন করেন ঢাবির সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ।
নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি সুস্থ নই। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের সময় তো শেষ হয়ে আসছে। এখন যারা সামনে আসবেন, তাদের শুধু রাজনীতি নয়, এই বাংলাদেশকে বাঁচাতে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকবে কি থাকবে না, বাংলাদেশ নিজস্ব মর্যাদায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে কি পারবে না এবং বাংলাদেশ নিজের পায়ের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কি পারবে না, আজকে সেই প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে। কারণ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখানে যারা আছি, আমরা দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছি। তাই আমাদের বয়স হয়েছে এবং আমরা বৃদ্ধ হয়েছি। আর এখন আপনাদের সময়। আপনারা এগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্নভাবে বিএনপি ও দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দল পরিচালনায় করছেন। তার নির্দেশে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাব।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন বাংলাদেশ একটি স্বৈরাচার শাসকের কবলে পড়েছিল। শুধু স্বৈরাচার শাসনই ছিল না, অত্যন্ত সুচারুভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার নতুন একটি প্রক্রিয়া ও প্রচেষ্টা ছিল। আমরা লক্ষ্য করেছি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পরে স্বৈরাচার এরশাদের রাজনীতিতে আগমন, এটি একই সূত্রে গাঁথা ছিল। এটাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার উপায় নেই।
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ছিল। সেই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে সেই দলটিকে খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব নেন। এটি তার জীবনে ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বড় অধ্যায়। আর আমার মনে হয়, এ দেশে খালেদা জিয়াকে বিভিন্নভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তবে আমার মতে, এশিয়ায় তাঁর মতো গণতন্ত্রকামী ত্যাগী নেত্রী খুব কম খুঁজে পাওয়া যাবে।
খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম জিয়া এদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসলে জনগণের উত্তাল তরঙ্গে ছেয়ে যাবে। জনগণই গণতন্ত্রের মাথাকে বের করে আনবে। বিএনপি মহাসচিব নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা হতাশ হবেন না। লক্ষ্যে অবিচল থাকুন, গণতন্ত্রের জয় হবেই। সামনের দিকে এগিয়ে বেগম জিয়াই আমাদের অনুপ্রেরণা।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাবুল তালুকদারকে আন্তরিক ধন্যবাদ, তিনি এমন একটি দিনের কথা স্মরণ করে দিয়েছেন, যেদিন একজন গৃহবধূ মানুষের অধিকার আদায় করতে জাতীয়তাবাদী শক্তির হাল ধরেন। একটি পাল ছাড়া নৌকাকে টেনে তোলা চ্যালেঞ্জিং কাজ। তখন ক্ষমতায় স্বৈরাচার এরশাদ, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই তাকে এগুতে হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী একজন অনন্য মহিলা। সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজনীততে আসেন। অন্যায়ের কাছে কখনো মাথানত করেননি।
জিয়ার দুর্লভ ছবি প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন আপোষহীন। আমরা এখন লড়াইয়ের ময়দানে পেছনে, আমাদের বয়স হয়েছে, আমরা লড়াইয়ে সৈনিকদের সঙ্গে আছি। বেগম জিয়া তার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল সামলিয়েছেন। আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়ে দলকে মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন। ৯১ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি পুনরায় খুব দ্রুত ক্ষমতায় আসে।
তিনি বলেন, এতো নির্যাতনের পরও বিএনপি বড় দল হিসেবে ঠিকে আছে, এটা শুধু সম্ভব হয়েছে বেগম জিয়ার নেতৃত্বের কারণে। কিন্তু একটা ফরমায়েশি রায়ে আজ অন্ধকার কারাগারে তিনি। কিন্তু আমরা তাকে মুক্ত করতে পারছি না। সাহসী যুবকেরা আন্দোলনে নামলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সাহসী নেতারা মাঠে নামবেন এবং আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব।
বিএনপিকে ভাঙার জন্য নানা প্রকার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা কোনো ভুয়া খবরে কান দিবেন না। বিএনপি দেশনেতা তারেক রহমানের নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে আমাদের পরিচালনা করছেন। তিনি আমাদের যেই নির্দেশনা দিবেন আমরা সেই নির্দেশনায় ঐক্যবদ্ধ থাকবো। মহাসচিব আরও বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যুবকদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সাহসী যুবকরা আন্দোলনে নামলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। দলীয় প্রধানসহ নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, এত নির্যাতনের পরও বিএনপি বড় দল হিসেবে টিকে আছে, এটা শুধু সম্ভব হয়েছে বেগম জিয়ার নেতৃত্বের কারণে। তিনি কিন্তু একটা ফরমায়েশি রায়ে আজ অন্ধকার কারাগারে। আমরা তাকে মুক্ত করতে পারছি না। তিনি বলেন, সাহসী যুবকেরা আন্দোলনে নামলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ঠাঁই পাওয়া একটি ছবির দিকে ইঙ্গিত করে নজরুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দুর্লভ ছবি প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন আপসহীন। তিনি বলেন, আমরা এখন লড়াইয়ের ময়দানে পেছনে, আমাদের বয়স হয়েছে, আমরা লড়াইয়ে সৈনিকদের সঙ্গে আছি। বেগম জিয়া তার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল সামলেছেন। আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে দলকে মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন। ৯১ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি পুনরায় খুব দ্রুত ক্ষমতায় আসে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র উঠে গেছে। গণতন্ত্র আর নেই। একদলীয় শাসন এখন একটি ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর মুখে উচ্চারিত হয় বাকশালের কথা।
এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, একজন গৃহবধূ থেকে হাল ধরলেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির। তিনি মহীয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় বেগম জিয়া স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি বলেন, অত্যন্ত দূর্ভাগ্য তিনি আজ অন্ধকার কারাগারে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার খায়েশ পূরণ করতেই তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এতো দু:সময়েও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ, এটা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির গতিশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। এছাড়াও ২০ দলের সাথেও মাসে একবার হলেও বসা উচিত। ঢাবির সাবেক এ ভিসি বলেন, সারা পৃথিবীতে এখন গণতন্ত্র ধাক্কা খাচ্ছে। দেশে এখন গণতন্ত্র উঠে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখেও বাকশাল। আমি যেহেতু একজন শিক্ষক, আমার যদি শিক্ষকতার বয়স থাকতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে গণতন্ত্রের বিষয়ে পড়াতাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ