ঢাকা, ‍শনিবার 11 May 2019, ২৮ বৈশাখ ১৪২৬, ৫ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী অঞ্চলে আম উৎপাদন ও বিপণনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

রাজশাহী : কিছু কিছু বাগানে আম থাকলেও স্বস্তিতে নেই চাষীরা। রাজশাহী নগরীর রায়পাড়া বাগানের দৃশ্য

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী : চলতি মওসুমে রাজশাহী অঞ্চলে আম উৎপাদন ও বিপননে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর পর কয়েক বছর দাম না পাওয়াসহ নানা সংকট ও বিভ্রান্তিতে চাষীরা যেন দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন। রাজশাহী অঞ্চলে কিছু আম থকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ৫০ ভাগ আম কম উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিকে কয়েক বছর ধরে লাগাতার আমের মূল্য না পেয়ে বাগান মালিকরা হতাশাগ্রস্ত। এর সঙ্গে যথাযথভাবে বাগান পরিচর্যা করতে না পারা এবং বৈরী আবহাওয়া এই হতাশার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সুস্বাদু আমের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এই দুই জেলাকে আমের রাজধানীও বলা হয়ে থাকে। তবে এবার আমবাগানে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। এরপর তা কার্যকর করতে নজরদারি শুরু করে প্রশাসন। জানা গেছে, ৯ এপ্রিল উচ্চ আদালত রাজশাহী অঞ্চলের আমবাগানগুলোতে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধে নির্দেশনা দেন। এরপরই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন- নির্বাহী অফিসার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দুই জেলায় ১৫টি নজরদারি বা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে। দুই জেলার আমচাষী ও বাগান মালিকদের নিয়ে একাধিক সভাও করা হয়। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের দাবি, ১২ এপ্রিল থেকেই আমপ্রধান এলাকাগুলোতে নজরদারি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জেলায় আমবাগানে কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগে কোনো মামলা হয়নি। কিন্তু চাষীরা বলছেন, এখন তীব্র গরমে আমবাগানে বেড়েছে পোকামাকড়ের উপদ্রব। কীটনাশক বা বালাইনাশক না দিলে বাগানে আম নষ্ট হয়ে যাবে। এতে দারুণ ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষীরা। তাই প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে রাতে বাগানে বালাইনাশক ছিটাচ্ছেন তারা। চাষীরা বলছেন, এই বালাইনাশক আর আম পাকানোর ‘রাসায়নিক’ এক জিনিস নয়। তাদের দাবি, এ ব্যাপারে আদালতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। শিবগঞ্জের আমচাষীদের সঙ্গে আলাপে তারা জানান, কীটনাশক দিয়ে আম পাকানো যায় না, আম বাঁচানো হয়। তবে এক ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে অপক্ব আমে হলুদ রঙ করা যায় যা দেখলে আম পাকা মনে হয়। আর সেটা করা হয় আড়তে- বাগানে নয়। প্রশাসনের উচিত এসব রাসায়নিক বা বিশেষ হরমোন বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। এখন প্রশাসন যা করছে তাতে পোকার আক্রমণে বিপুল আম নষ্ট হবে এবং এতে চাষীরাই একতরফাভাবে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ দিকে গত তিন বছর ধরে অব্যাহতভাবে আমের প্রকৃত বাজারমূল্য না পেয়ে আমচাষিদের মাথায় হাত ওঠে। এ বছর আমচাষিরা বাগান পরিচর্যায় ছিলেন অনেকটাই নিস্পৃহ। বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী এ বছর বাগান কেনা থেকে বিরত থেকেছেন। যেখানে সারা বছর ধরে আমবাগানের ফল পাতা-ফুলে বেচাকেনা হয় সেখানে এবার বাগান মালিকেরা একরকম ক্রেতার অভাবে অলস বছর কাটিয়েছেন। মূলত বাগান পরিচর্যা হয় এসব ফল ক্রেতাদের হাত ধরেই। তাই এ বছর অনেকাংশে অবহেলিত থেকেছে বাগান পরিচর্যা। আর তাতেই ফলন হ্রাসের বিষয়টি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ