ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঈদকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলোর ব্যাপক আয়োজন

ইবরাহীম খলিল : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলো ব্যাপক আয়োজন করেছে। মৌসুম অনুযায়ী সব মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা। বিশেষ করে এবারের ঈদ যেহেতু হচ্ছে পুরোপুরি গরমে। তাই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। আবার ঈদ যেহেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই উৎসব ও গরম দুটো বিষয়ই প্রাধান্য পেয়েছে এবারের পোশাক ডিজাইনে।
রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেল, হালকা ও গাঢ় দু’ধরনের রঙই ব্যবহার করা হয়েছে। কাপড়ের ক্ষেত্রে আরামদায়ক ব্যাপারটি গুরুত্ব পেয়েছে। যেহেতু গরম তাই সুতি কাপড় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, পাশাপাশি লিলেন কটন, অ্যান্ডিকটন, জয় সিল্ক, ভয়েল, কটন সিল্ক ও সিল্ক কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে এবারের আয়োজনে। সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া, টপস ও শিশু-কিশোরদের পোশাক থাকছে ঈদ আয়োজনে।
সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঈদ উদযাপনের রীতিতে পরিবর্তন এসেছে, সেই সঙ্গে মানুষের রুচিতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ঋতু আর ট্র্যান্ডের ওপরও নির্ভর করে ঈদের ফ্যাশন কেমন হবে। এবারের ঈদ হবে অনেকটা গ্রীষ্মের শেষে আর বর্ষার শুরুতে। তাই ক্যাজুয়াল পোশাকের দিকেই বিশেষ নজর দিতে দেখা যাচ্ছে তরুণ-তরুণীদের। আর শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ বয়সীদের নতুন পোশাক ছাড়া ঈদের আনন্দই যেন পূর্ণ হয় না।
সকালে ঈদের নামাজের সময় থেকে শুরু হয় ছেলেদের ঈদ। ঈদে ছেলেদের পোশাকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পাঞ্জাবি। বর্তমানে ছেলেদের পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে রঙকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। একটা সময় ছিল, যখন পাঞ্জাবির রঙ বলতে পুরোপুরি সাদাকেই বোঝানো হতো। বর্তমানে বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবিই থাকছে তাদের পছন্দের তালিকায়। পাঞ্জাবি কেনার ক্ষেত্রে ছেলেরা তাদের নিজেদের শরীরের রঙ, উচ্চতা এবং স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ রাখে। এমন কিছু পরা উচিত নয়, যেটা মানানসই নয়। নামাজের পর চাইলে পাঞ্জাবি পরে থাকা যায়। কিংবা পাঞ্জাবি বদল করে টি-শার্ট, জিন্স অথবা গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ব্যবহার করা যায়। জিন্স বা গ্যাবার্ডিনের সঙ্গে ক্যাজুয়াল শার্ট কিংবা পোলো টি-শার্টও মানাবে ভালো। তবে টি-শার্ট বা শার্ট যেটাই পরুন না কেন, তার রঙ যেন হয় প্রাণবন্ত।
 মেয়েরা পরতে পারেন সুতির বাহারি সালোয়ার-কামিজ। টপস কিংবা কুর্তি। তবে একটু জমকালো পোশাক পরতে হলে লং ড্রেস কিংবা থ্রিপিস পরা যেতে পারে। আবার সাজে একটু ভিন্নতা আনতে হলে শাড়িও পরতে পারেন। বাঙালি নারীর সৌন্দর্য তো শাড়িতেই। ফ্যাশন ব্র্যান্ড অঞ্জনস’র কর্ণধার এবং ডিজাইনার শাহীন আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছর থেকে শাড়ির চাহিদা বাড়ছে। কটন, হাফসিল্ক, কটন সিল্ক শাড়িগুলোতে ব্লকপ্রিন্ট ও এমব্রয়ডারি প্রাধান্য পেয়েছে। অঞ্জনস’র এবারের আয়োজনে লিলেন কটন শাড়ি করা হয়েছে যেগুলোর বুনন ও ডিজাইন অন্যগুলো থেকে যেমন আলাদা, তেমনি নতুনত্বও থাকছে। ডিজাইন শাড়ির পাশাপাশি তাঁতীদের নিজস্ব ডিজাইনের টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি ও কাতান শাড়ি থাকছে। তিনি আরো বলেন, কটন, অ্যান্ডিকটন, জয়সিল্ক ও ভয়েল কাপড়ের পাঞ্জাবিগুলোতে এমব্রয়ডারি ও স্ক্রিনপ্রিন্ট করা হয়েছে। ডিজাইন বিন্যাসে ও কাটিংয়ে একটু পরিবর্তন এসেছে। হালকা রঙ প্রাধান্য পেয়েছে বিশেষ করে সাদা, কোড়া, অ্যাশ, আকাশি, পেস্ট এই ধরনের রঙ বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। স্লিম ফিটের চেয়ে রেগুলার ফিট বেশি থাকছে এবারের আয়োজনে।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড মেঘ-এর কর্ণধার জাহিদ বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, হ্যাঁ গরম তো আছেই, তবে হালকা রঙের নরম বরং একটু কালারফুল করে আমরা আমাদের ডিজাইনগুলো করেছি। কেননা ঈদ তো বারবার আসে না। একদিনের জন্য নিজেকে একটু বর্ণিল করে সাজাতে কালারফুল পোশাকের বিকল্প নেই। তাই আমরা সেভাবেই ডিজাইনগুলো করেছি। এক্ষেত্রে আমরা এমব্রয়ডারি, সুতার কাজকে প্রাধান্য দিয়েছি।
 দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদ আয়োজনে সেজেছে বর্ণিল সাজে। আর বিশেষ এদিনে বিদেশী অনেক পোশাকের প্রাধান্যও দেখা যায়। মার্কেটগুলো ঘুরে বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা গেল, ক্রেতারা এসেই দেখতে চায় ইন্ডিয়ান জামা। গতবারের মতো এবারো সবচেয়ে বেশি চলছে, সারারা ও বাজিরাও মাস্তানির একই ধরনের পোশাকে চটকদার নামে। ভারতের একটি হিন্দি গান রয়েছে ‘সারারা, সারারা...। এ গানে অভিনেত্রী শমিতা শেঠি যে পোশাক পরেছিলেন। তাই এবার ঈদ বাজারে এসেছে ‘সারারা’ নামে। একই ধরনের পোশাকের অন্য নাম ছিল গত বছর। এবার দামও বেশ চড়া। হিন্দি সিনেমা বাজিরাও মাস্তানিতে দীপিকা পাড়–কোন একটি গাউন টাইপের লেহেঙ্গা পরেন। যা নারীদের নজর কেড়ে নেয়। দীপিকার ব্যবহার করা এ ডিজাইনের জামাটি বাজারে এসেছে বাজিরাও মাস্তানি নামে। দেশীয় পোশাক একটু স্বাভাবিক দামে পেলেও বিদেশী এসব পোশাকের নাম এবং দাম উভয়ই চড়া।
তবে তরুণ-তরুণীরা ঈদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ বছর ক্যাজুয়াল পোশাকই পছন্দ করছেন। রুচি ও সাধ্যের মধ্যে প্রতিটি মানুষই চায় নিজেকে অন্যের চেয়ে আলাদা দেখাবে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানা রঙ আর ডিজাইনের ক্যাজুয়াল পোশাকের পসরা সাজিয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের ঈদ পোশাক। যেভাবেই কাটাতে চান ঈদ, তা যেন ভরে ওঠে অফুরান আনন্দে। পরিবারের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আর প্রিয় মানুষটির সঙ্গে তো বটেই এবং দেশীয় পোশাকে হোক এবারের ঈদ।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজান এনেছে ঈদের নতুন নকশার শার্ট, পোলো শার্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি। আরামদায়ক কাপড়ে নানা রঙ ও নকশায় তৈরি করা হয়েছে এসব পোশাক। খুচরার পাশাপাশি পাইকারিও কেনা যাবে।
ফ্যাশন হাউস ‘কে ক্র্যাফট’ ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকের এক বিপুল সমাহার নিয়ে তাদের ঈদ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সাদা, কালো, ব্রাউন, অ্যাশ, ব্লু, গ্রিন, মেরুন ও ব্রাউন শ্যাডের পাঞ্জাবিতে মেশিন এমব্রয়ডারি, টাই-ডাই, স্ক্রিন ও কারচুপির কাজ করা হয়েছে। কটনের মধ্যে রয়েছে টুটোন, টেক্সচারড, স্ট্রাইপডের বৈচিত্র্য। মোটিফে, কম্পোজিশন এবং লে-আউটে রয়েছে নতুনত্ব।
ব্যাঙ গ্রীষ্ম ঋতুতে তারুণ্যের শৌখিনতা ও পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ রুচিশীল ও উৎসবনির্ভর পোশাক তৈরি করছে। ব্যাঙ নিজের সৃজনশীলতায় রাঙিয়ে তৈরি করছে একদম আলাদা স্টাইলের পোশাক। দেশের বৃহৎ পছন্দের ব্র্যান্ড ব্যাঙে পাবেন আধুনিক ফ্যাশনেবল ক্যাজুয়াল বা ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পলো শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া, প্যান্ট, পাঞ্জাবিসহ নানারকম মানানসই পোশাক।
শিশুদের পোশাকের সব থেকে বড় বাজারের নাম বেবি বাজার। মোহাম্মদপুর টোকিও স্কয়ারের পাঁচতলায় রয়েছে এ হাউসটি। দেশী-বিদেশী নিত্যনতুন ডিজাইনে শিশুদের পোশাকের কালেকশনে রয়েছে নিমা, ফ্রক, জামা, গেঞ্জি, প্যান্ট, পাজামা, শার্ট, টুপি, পাটি ফ্রক, কটন ফ্রক, স্কার্ট, ফতুয়া, টি-শার্ট ইত্যাদি।
ঈদের লীলাবালিতে পাওয়া যাচ্ছে নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজসহ ব্র্যান্ডের জুতা, সুগন্ধি, ব্যাগ, হাতঘড়ি, কসমেটিকস পণ্য, গহনা ও উপহারসামগ্রী। প্রচণ্ড গরমের মাঝে একটু স্বস্তি দিতে ফ্যাশনসচেতন নারীদের জন্য এ আয়োজন নিয়ে সাজিয়েছে লীলাবালি ফ্যাশন অ্যান্ড লাইফস্টাইল।
তারুণ্যের টি-শার্টে স্মার্টনেস এবং গুণগত মানের অন্য নাম পিজিয়ন ফ্যাশন লিমিটেড শুরু করেছে অনলাইন সেল। দীর্ঘ ছয় বছরের পথচলায় পিজিয়নই সব চেয়ে বেশি কালার, ডিজাইন এবং থিম নিয়ে কাজ করে আসছে।
অনলাইন শপ আফরিন ক্র্যাফট এনেছে নানা রঙ ও নকশার জামদানি শাড়ি। সোনারগাঁওয়ের নিজস্ব তাঁতীদের দ্বারা এসব শাড়ি বোনা হয়েছে। আফরিন ক্র্যাফটের ফেসবুক পেজে এসব শাড়ির ছবি ও দাম দেয়া আছে। ফোনে অর্ডার করে ঘরে বসে কেনা যাবে এ শাড়ি। আর দাম পরিশোধ করা যাবে পণ্য হাতে পেয়ে।
আসছে ঈদকে কেন্দ্র করে ফ্যাশন হাউস বালুচরের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইনভাইট নিয়ে এসেছে নিত্যনতুন ডিজাইনের আবহাওয়া উপযোগী আকর্ষণীয় নান্দনিক ক্যাজুয়াল শার্ট। কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে শতভাগ সুতি ফেব্রিক্স।
ফ্যাশন হাউস মেঘ এনেছে বড়দের ও ছোটদের জন্য গ্রীষ্মের পোশাক। এসব পোশাকের মধ্যে আছে শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, টি-শার্ট ও শিশুদের পোশাক। আরামদায়ক কাপড়ে এসব পোশাক তৈরি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ