ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শিশুকন্যাকে হত্যা করে পালিয়েছে সৎ মা

খুলনা অফিস :  সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যা উম্মে হালিমা ওরফে খাদিজাকে হত্যা করে পালিয়েছে সৎ মা সীমা বেগম (২৮)। শুক্রবার বেলা ১১টায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলার সোনাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার সকালে বিষয়টি থানা পুলিশের মাধ্যমে জানাজানি হয়। নিহত শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ। শিশু হালিমা সোনাখালী গ্রামের আব্দুল হাদি মল্লিকের মেয়ে।
শিশু হালিমার দাদা সদর হাসপাতালে বলেন, সাড়ে তিন বছর আগে জন্মের সময় মারা যায় হালিমার মা রেশমা বেগম। তারপর থেকে হালিমাকে আমরা কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। এর মধ্যে আমার ছেলে হাদি আবার বিয়ে করেন সীমা বেগমকে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় সীমা হালিমাকে মারধর করত। এক পর্যায়ে শুক্রবার সকালে বাড়ির উঠোনে খেলা করছিল খাদিজা। সেখান থেকে ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে দুধের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যা করে হালিমাকে। পরে লোক জানাজানির ভয়ে ঘরের পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। পরে আমরা খোঁজাখুজি করতে করতে পুকুরের মধ্যে হালিমার নিথর দেহ পাই। ততক্ষণে হত্যাকারী সীমা ঘরে থাকা টাকা পয়সাসহ তার কোলের বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমরা হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে  দায়িত্বরত চিকিৎসক হালিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে শিশু কন্যা হারিয়ে পাগল প্রায় তার বাবা আব্দুল হাদি মল্লিক।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুটির বাবা প্রথমে বলেছিল পুকুরে পড়ে গেছিল শিশুটি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু শিশুটিকে বাড়িতে আনার পরে পরিবারের লোকজন বলছে ওর সৎ মা সীমা হত্যা করেছে হালিমাকে। সত্য ঘটনা উদ্ধারে আমরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ