ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

উন্নতির অন্তরালে মানুষের আর্তনাদ!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে দেশের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এই উন্নতির অন্তরালে মানুষ আর্তনাদ করছে। রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা আমরা ’৭১ সালেই দেখেছিলাম। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে ধর্ষণ। এসব অন্যায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’ ১০ মে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, ‘দৃশ্যমান দুর্ভিক্ষ না থাকলেও দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কিনা আমার জানা নেই।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি নুসরাত জাহানের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত। সবাই মিলে প্রমাণ করতে চাইলো যে, নুসরাত আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। ইতোমধ্যে একজন নার্সকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো।’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদে পদোন্নতি নিতে গিয়ে ধরা পড়েন। যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবেন তারাই যদি দুর্নীতি করেন, তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কী তা সহজেই অনুধাবন করা যাচ্ছে।
দেশের উন্নতি এবং মানুষের আর্তনাদ প্রসঙ্গে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যে বক্তব্য রেখেছেন তা ভেবে দেখার মতো। কাঠামোগত ও দৃষ্টিগ্রাহ্য কিছু উন্নতি তো দেশের হয়েছে। কিন্তু আর্তনাদের বিষয়গুলো কেমন? জানমালের নিরাপত্তা মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর দিনের পর দিন নারীদের যে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হচ্ছে, তা জনমনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। সবার মনে একই প্রশ্ন- এ কোন সমাজে আমাদের বসবাস? রাষ্ট্র কেন মানুষের জীবন ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা দিতে পারছে না? মানুষের নিরাপত্তাহীনতা ও ধর্ষণের দৌরাত্ম্য দেখে দেশের প্রবীণ ওই অধ্যাপক বীভৎস ৭১ সালের কথা স্মরণ করেন। এমন চিত্র আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।
দেশের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কিনা আমার জানা নেই। এ কথার তাৎপর্য অনেক গভীর। আজকে রাজনীতির প্রতি মানুষের যে অনীহা, চারিদিকে মাদক, গুম, হত্যা ও ধর্ষণের যে দৌরাত্ম্য তা সুশাসনের অভাবের কথাই শুধু নয়, দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির কথাও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রজারঞ্জন রাজনীতির কথা আমরা কিছুদিন ধরে শুনে আসছি, আর এখন দেখছি গণতন্ত্রহীন একদলীয় রাজনীতির মহাপ্রতাপ। সাথে চাতুর্যের ছলাকলা তো আছেই। তাই এখানে বলার মতো কথা হলো, গণতন্ত্রতহীন প্রতাপ ও চাতুর্যের রাজনীতি দিয়ে কখনো মানুষের মন জয় করা যায় না। কারণ এমন রাজনীতি দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, জনগণের ভাগ্যও বদল হয় না। মানুষ চায় গণতন্ত্র এবং সবার উন্নয়ন। সুশাসন, জানমালের নিরাপত্তা এবং সম্ভ্রম রক্ষার দাবিও মানুষের মৌলিক দাবি। এসব বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের যৌক্তিক ভূমিকা দেশের মানুষের কাম্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ