ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্রহীনতায় মানুষের জীবনযাপনে আশঙ্কাজনক অবনতি

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : দেশে এখন রাজনৈতিক শূন্যতা এবং একইসাথে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখন অনেকটা একদলীয় শাসন ও রাজনীতি চলছে। বিরোধী দল বা জোটভুক্ত দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একইসাথে রয়েছে সরকারি দল ও তাদের প্রশাসনের হুমকি ধামকি। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার দলীয়দের হুমকি ধামকির কারণে রাজনৈতিক শূন্যতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এটি গণতন্ত্রের জন্য বিপদসংকেত। এদিকে গণতন্ত্রের আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপনেও মারাত্বক প্রভাব পড়েছে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার জাহিদের একটি দুধ চুরির কাহিনী সেটিরই জানান দিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, গতকাল রাত আনুমানিক ৮.৪৫ মিনিট, বাকি সড়কে চেকপোস্ট ডিউটি তদারকি করছিলাম। হঠাৎ এক জায়গায় মানুষের হট্টগোল দেখতে পেলাম। ঘটনা কি তা দেখার জন্য আমার এক সাব-ইন্সপেক্টরকে পাঠালাম। কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু লোক ২৫-৩০ বছর বয়সী একজন লোককে টেনে-হিচড়ে আমার সামনে নিয়ে আসলো। ঘটনা জানতে চাইলাম। একজন বললো, স্যার, লোকটা চোর, চুরি করে পালাচ্ছিল”। পাশে লোকটাকে শক্ত করে ধরে রাখা এক সিকিউরিটি গার্ড আমাকে বললো, স্যার, লোকটা স্বপ্ন সুপার শপ থেকে চুরি করে পালাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি চুরি করেছে? সিকিউরিটি গার্ড বললো, “স্যার, সে এক প্যাকেট দুধ চুরি করে পালাচ্ছিল। আমার খটকা লাগলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম দুধ?” তখন সিকিউরিটি গার্ড অতি উৎসাহ নিয়ে বলল, স্যার বাচ্চাদের ন্যান দুধের প্যাকেট। আমি লোকটার দিকে তাকালাম। আমার বয়সেরই হবে। দেখতে ভদ্রলোকই মনে হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চুরি করলেন কেন? সে কেঁদে ফেলল। তারপর বললো, স্যার, তিনমাস হল চাকরি নাই, বেতন নাই। ঘরে ছোট বাচ্চা, দুধ কেনার টাকা নাই। সাথে সাথে আমার ছেলের চেহারা মনে পড়ল! মনে হল কতটা নিরুপায় হলে একজন বাবা এই কাজ করতে পারে!! ওর জায়গায় আমি থাকলেও হয়ত একই কাজ করতাম। সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম, দুধের প্যাকেটের দাম কত? সে বললো, ৩৯০ টাকা স্যার। আমি তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিল রাখতে বললাম এবং লোকটিকে ছেড়ে দিতে বললাম। আজ আমাদের দেশের এক অসহায় বাবা তার বাচ্চার জন্য দুধ চুরি করে... কত মানুষ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোঁচাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে..হয়ত আমি ভালো চাকরি করে আজ ভাল আছি, কিন্তু সমাজের কত মানুষ আজ এই বাবার মত নিরূপায়!!! এর দায়ভার কার??
দেশের সার্বিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এর চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীতে ছিল কি না জানা নেই। বলা হচ্ছে দেশ উন্নত হচ্ছে, কিন্তু এই উন্নতির অন্তরালে মানুষ আর্তনাদ করছে বলে মনে করেন তিনি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা আমরা ৭১ সালেই দেখেছিলাম। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে ধর্ষণ। এসব অন্যায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
দৃশ্যমান দুর্ভিক্ষ না থাকলেও দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে দাবি করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কি না আমার জানা নেই। আমরা দুর্ভিক্ষ দেখেছি যে দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু আজকে বাংলাদেশে দৃশ্যমান কোনো দুর্ভিক্ষ না থাকলেও নীরব দুর্ভিক্ষ আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। বলেন, আমরা দেখেছি, নুসরাত জাহানের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত ছিল এবং সবাই মিলে প্রমাণ করতে চাইল যে নুসরাত আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। ইতোমধ্যে একজন নার্সকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো।
তিনি কথা বলেন দেশের আাইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতি নিয়েও। বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদে পদোন্নতি নিতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। অথচ যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে তারাই যদি দুর্নীতি করে তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কী তা সহজে অনুধাবন করা যাচ্ছে। আমরা পুঁজিবাদের অধীনে দাস হয়ে রয়েছি। এ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাষ্ট্রের মালিক শ্রেণির সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণির যে শোষণের সম্পর্ক তা ভেঙে দিতে হবে। বিপ্লবের মাধ্যমে পুরনো রাষ্ট্রকে ভেঙে এমন রাষ্ট্র করতে হবে, যে রাষ্ট্র মানবিক হবে, যেখানে নারী ধর্ষিত হবে না, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতারণা করবে না কেউ।
গণতন্ত্র ও বিচারহীনতার কারণে ধর্ষণ, বেকরত্ব বাড়ছে বলে মনে করেন  জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই বাংলাদেশ আজ এ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেণ, কোথঅও কেউ আজ নিরাপদ নেই। অথচ সরকার মুখে উন্নয়নের ফেনা তুলছে। আবদুর রব বলেন, কোনো স্বৈরাচার সরকার অভ্যুত্থান ছাড়া পরাজিত হয়নি। বর্তমান সরকারও ক্ষমতা ছাড়বে না। তাদের ক্ষমতা থেকে নামাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র উঠে গেছে। গণতন্ত্র আর নেই। একদলীয় শাসন এখন একটি ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর মুখে উচ্চারিত হয় বাকশালের কথা। ঢাবির সাবেক এ ভিসি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র উঠে গেছে।  প্রধানমন্ত্রীর মুখেও বাকশাল। আমি যেহেতু একজন শিক্ষক, আমার যদি শিক্ষকতার বয়স থাকতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে গণতন্ত্রের বিষয়ে পড়াতাম।
কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে যে এখন একদলীয় শাসন চলছে তার প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, লন্ডন সফরকালীন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আসা নিজ দলের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বক্তব্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা। যা বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত ও সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তি যদি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে তাহলে সেটি শুধু উদ্বেগজনকই নয় বরং তা সামগ্রিকভাবে দেশ ও জনগণের জন্য এক অশুভ আগামির ইঙ্গিতবাহী। দেশে যে ন্যুনতম গণতন্ত্র নেই বরং একদলীয় শাসনের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা লন্ডনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়েছে। আইনের শাসন, আইনী প্রক্রিয়া ও ন্যায় বিচার নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি বার বার যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে সেটি যে ন্যায়সঙ্গত তা আবারও প্রমাণিত হলো।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক শক্তি নয়। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু তার উল্টোটা বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলো হরণ করে মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থনীতির ভয়ংকর অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার শুধু গণতন্ত্রেরই ক্ষতি করেনি, দেশেরও ক্ষতি করেছে। আজকে অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যতই বলুক এখানে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, অর্থনীতির ভীষণ উন্নয়ন হয়েছে, চারিদিকে একেবারে গম গম করছে অর্থনীতি। বাস্তবে অর্থনীতি ভয়ংকর অবস্থায়। প্রবৃদ্ধি বাড়েনি দাবি করে অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক বলেন, প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়। পুরোপুরিভাবে বানিয়ে-টানিয়ে একটা দিয়ে দেয়া হয়। প্রবৃদ্ধি কার? প্রবৃদ্ধি হচ্ছে আওয়ামী লীগের, তাদের লোকজনের। সাধারণ মানুষের তো অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচেছ না। বরংঞ্চ সাধারণ মানুষ আর্থিক কষ্টে আছে, তাদের গ্যাসের দাম বাড়ছে, তাদের বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, তাদের তেলের দাম বাড়ছে। প্রতি মুহূর্তে তাদের প্রকৃত আয় চলে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো চিন্তা করা উচিত। এটা নিয়ে ভাবা উচিত।
দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে থাকায় একে গণতন্ত্রের জন্য বিপদসংকেত বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ। রাজধানীর তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনে দুই দিনব্যাপী দলটির স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এ কথা বলা হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ১৪ দল তথা মহাজোট সরকার সংসদ নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের একক দলীয় সরকারে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক সরকারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পদ্ধতিতে হওয়ার প্রবণতা ক্রমহ্রাসমান হয়ে এখন তা প্রশাসনের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছে। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, এ সভা ব্যাংকিং খাতে ও শেয়ারবাজারে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থা, লাগামহীন দুর্নীতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাংক খুলে ক্ষমতাশ্রয়ী একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী জনগণের টাকা লুটেপুটে নেয়ার পরেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ‘শিষ্টের দমন ও দুষ্টের পালন’ পদ্ধতির কারণে গোটা অর্থনীতি আজ চোরাবালিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে। একই অবস্থা শেয়ারবাজারে।
চলমান পরিস্থিতিতে সুস্থ রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব বলে মনে করেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, জনগণই দেশের মালিক, তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই সুস্থ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কামাল হোসেন আরো বলেন, জাতিকে এক ব্যক্তির শাসন থেকে মুক্ত করতে হবে। কারণ, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাক-ব্যক্তি-আইনের শাসন থাকে না। দুর্নীতি-দলীয়করণ-লুটপাট-অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে থাকে। সমাজ ও সভ্যতাকে ধ্বংস করে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর এখন পচে গেছে। ধর্ষণ, হত্যা অহরহ ঘটছে। এ ধরনের প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার করতে হবে। শুক্রবার শাহবাগে নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে এক ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ধর্ষণ, হত্যা এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এটা কোনোভাবেই সভ্য সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নুসরাত হত্যার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এ ধরনের প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আরও বলেন, অর্থবিত্ত থাকলে আপনি সব কিছু ভোগ করতে পারেন। এটা এমন সমাজ যেখানে সব কিছুকে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। তাই সমাজে ধর্ষণের ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ধর্ষকদের কোনো বিচার হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ