ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক মা দিবস আজ

ইবরাহীম খলিল : ‘মা’ কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, মায়ের চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’- হ্যাঁ, সত্যিই তাই। মাত্র একটি অক্ষরের শব্দ ‘মা’। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ এটি। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শব্দ এটি। অর্থে অনবদ্য। শ্রুতিতেও মধুময়। মা ডাক শুনলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মায়াবী সুন্দর এক মুখ। যে মুখে লেগে থাকে স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসা।
আজ ১২ ই মে আন্তর্জাতিক ‘মা’ দিবস। দিনটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে মাকে ভালোবাসা জানিয়েছেন বহু মানুষ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে দিনটি পালন করা হয়। নরওয়েতে- মার্চের চতুর্থ রোববার, আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে মা দিবস পালিত হয় ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার। তবে বাংলাদেশে মা দিবস নির্ধারণ করা হয়েছে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার। বিশ্বের অনেক দেশে কেক কেটে মা দিবস উদযাপন করা হয়।
বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ সারাবিশ্বের প্রায় ৬০টির মতো দেশে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার একসঙ্গে মা দিবস পালিত হয়ে আসছে বহু যুগ ধরেই। 
পৃথিবীর বেশিরভাগ ভাষাভাষী মানুষ প্রায় একই রকম উচ্চারণে, 'ম' ধ্বনিতে তার গর্ভধারিণীকে ডেকে থাকেন। ধর্মীয় বা সামাজিক বা ব্যক্তিবিশেষে মানুষ মাকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আসন। মা হচ্ছেন একজন পূর্ণাঙ্গ নারী- যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন। তিনিই অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। মা, মা এবং মা।
‘মা’ শব্দের মধ্যেই পৃথিবীর সব ভালোবাসা, আবেগের সম্মিলন। সন্তানের কাছে সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে প্রিয় তার ‘মা’। পৃথিবীর সব মানুষের মনে রয়েছে মায়ের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। কেননা সম্পর্কের বেড়াজাল ছিন্ন করে সবাই দূরে সরে যেতে পারে। চলে যেতে পারে প্রেমাবেগের বন্ধনের প্রিয়সীও। কিন্তু ‘মা’র স্নেহ-ভালোবাসার বন্ধন কখনই ছিন্ন হওয়ার নয়। ‘মা’ এমন একজন, যিনি সারাজীবন সন্তানকে বুকের মধ্যে আগলে রাখেন।
মা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রচ- আকর্ষণীয় স্নেহময়ী ও আবেগময় শব্দ। মায়ের মধ্যেই সন্তানের অস্তিত্ব নিহিত। মা আছে তো সন্তান আছে। গর্ভজাত হোক আর না-ই হউক; মা মানেই একটা মায়াবী স্নেহময়ী অবস্থান। পৃথিবীর প্রায় সব ভাষাতেই মাকে নিয়ে সাহিত্য রচনা হয়েছে। অতীতে মাকে নিয়ে সাহিত্য রচনা হয়েছে। বর্তমানে হচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাকে নিয়ে সাহিত্য রচনা হবে। কী গল্প, উপন্যাস, কবিতা বা সিনেমা। মাও সন্তান সম্পর্কে প্রবচন ও সাহিত্য একটি কথা প্রচলিত সমগ্র বাংলায় ‘কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কখনো নয়’ অর্থাৎ মায়ের অবস্থানটি অত্যন্ত সহনশীল ও স্নেহময়ী। সন্তানেরা মায়ের সাথে অসদাচরণ করলেও মা কখনো সন্তানের অমঙ্গল কামনা করে না। এটা শুধু বাংলা ভাষাভাষীদের জন্যই নয়, মাকে নিয়ে সাহিত্য রচনা হয়েছে বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গনে।
১৯১২ সালে আনা জার্ভিস স্থাপন করেন মাদারদস ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোশিয়েশন্ (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি) এবং "মে মাসের দ্বিতীয় রোববার  আর "মা দিবস" এইসব শব্দবন্ধের বহুল প্রচার করেন। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মেয়ে ফাতিমার (রা:) জন্মবার্ষিকীর দিন ইরানে মা দিবস পালন করা হয়।
ইতিহাসের পাতায় লেখা রয়েছে, রানি কজুনের (রাজা আকিহিতোর মা) জন্মদিনটিকেই মা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে জাপানে। জাপানে এই দিনটি খুব জনপ্রিয় একটি দিন। মা দিবস উপলক্ষে চীনের মতোই জাপানেও মায়েদের কার্নেশন আর গোলাপ ফুল উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
বিশ্ব মা দিবসে আজ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এরমধ্যে প্রতিবছর আজাদ প্রোডাক্টসের আয়োজনে রতœগর্ভা মা পদক প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মা দিবসের  আলোচনার আয়োজন করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ