ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চমৎকার স্থাপত্যশৈলীতে সাজানো প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : গণভবন হলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। এটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদের উত্তর কোণে অবস্থিত। অন্যান্য দেশের মত গণভবন শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) নয় বরং এটি সরকারের একটি মন্ত্রণালয় হিসেবে বিবেচিত যা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন প্রদান, গোয়েন্দা সংস্থা পরিচালনা, এনজিও, প্রোটোকল এবং অন্যান্য দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। ১৯৯০ থেকে পুরোনো এই জাতীয় সংসদ ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাধারণতঃ এখানে প্রতিদিন সরকারী কার্যাবলী সম্পাদন করেন এবং এখানেই মন্ত্রীপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বাংলাদেশ সচিবালয়েও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দফতর রয়েছে যেখানে তিনি মাঝে মাঝে গমন করেন, সরকারী কার্যাদি সম্পাদন করেন এবং মন্ত্রিপরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন। গণভবন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। আগামী একশ বছর পরে এই গণভবন আমাদের ঐতিহ্য আহসান মঞ্জিলকেও ছাড়িয়ে গণভবনের নাম সবার উপরে স্থান পাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে। অনেক যতœ আর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে ভবনটিকে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
গণভবনের ইতিহাস : ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গণভবনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিন্টো রোডের প্রেসিডেন্ট হাউসে অফিস করতেন। প্রেসিডেন্ট হাউস তখনো গণভবন নামে পরিচিত ছিলো। প্রেসিডেন্ট হাউস বর্তমানে সুগন্ধা ভবন নামে পরিচিত। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সুগন্ধায় সান্ধ্যকালীন অফিস করতেন। বর্তমানে সুগন্ধা ভবনে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমী অফিস। স্বাধীনতার পর বৃটেনের রাণী ২য় এলিজাবেথের প্রথমবার বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি এই ভবনে রাত যাপন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ভবনে বঙ্গবন্ধু অনেক কষ্ট করে অফিস করতেন। সেখানে তার সকল স্টাফদের জন্য স্থান সংকুলান হতোনা। সেই অফিস ভবন ছোট হবার কারণেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে শেরে বাংলা নগরে সংসদ ভবনের পাশে তাঁর বাসভবন ও সচিবালয় নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। গণভবন বঙ্গবন্ধুর সরকারি বাসভবন হলেও তিনি কখনো গণভবনে রাত যাপন করতেননা। তিনি থাকতেন তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে।
১৯৭৩ সালে গণভবন নির্মাণকালে গণপুর্ত মন্ত্রী ছিলেন সোহরাব হোসেন। গণপুর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন আবুল বাশার। সরকারের নির্দেশে কেউ একক ভাবে গণভবনের নকশা করেননি। যদিও নকশাটির মুল অংশটি তৈরী করেছিলেন-প্রকৌশলী খবিরুদ্দীন বেগ। কিন্তু পুরো নকশাটি করেন স্থাপত্য বিভাগের কয়েকজন প্রকৌশলী মিলে। নির্মাণ কাজের তদারকি করেন স্থপতি আমির হোসেন। গণভবনের ঠিকাদার ছিলেন কুষ্টিয়ার আতা মোহাম্মদ মুসা। গণভবন নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে বঙ্গবন্ধু সেখানে সান্ধকালীন অফিস করতেন। সেখানে তিনি বিদেশী অতিথি, কূটনীতিক সহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ দিতেন গণভবনের পাশে বঙ্গবন্ধুর সচিবালয়ের একটি একতলা ভবনে। পাকিস্তান আমলে এটি ছিল এমএলএ ভবন। তখন জাতীয় সংসদের অধিবেশন হতো বর্তমান তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এই ভবনটিকেই বর্ধিত করে তৈরী করা হয় বঙ্গবন্ধু সরকারের সচিবালয়। এখানেই প্রধানমন্ত্রীর সচিব, রাজনৈতিক সচিব, ক্যাবিনেট সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের অফিস ছিল। বঙ্গবন্ধু মিন্টো রোডে প্রেসিডেন্ট হাউজে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত অফিস করতেন। তারপর চলে আসতেন শেরে বাংলা নগরের সচিবালয়ে। সেখানে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত অফিস করতেন।  ওখানেই তিনি দুপুরে কিছু সময় বিশ্রাম নিতেন, সময় সুযোগ পেলে বিকেলে লেকে মাছের খাবার দিতেন, লনে একটু হাটাহাটি করতেন। গণভবন বঙ্গবন্ধুর সরকারি বাসভবন হলেও তিনি রাতে ওখানে থাকতেন না। উচ্চপদস্থ্যদের মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতেন তাঁর সামরিক সচিব কর্ণেল সাফায়েত জামিল। ১৯৭৫ সালের সেনা অভ্যুত্থানের সময় কর্ণেল জামিল যখন বঙ্গবন্ধুর সাহায্যে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন-তখন বিদ্রোহীদের গুলিতে শহীদ হন।
৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শহীদ হবার পর থেকে গণভবনে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের মুল এলাকায় সকল কার্য্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সচিবালয়ের কিছু অংশ শিক্ষা অধিদফতর, পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেইনিং সেন্টার, বি আর টি এ, নির্বাচন কমিশন সহ অনেক সরকারি অফিস হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে প্রথম সার্ক সম্মেলন উপলক্ষে ১৯৮৫ সালে এরশাদ সরকার গণভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সংস্কার শেষে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভবনটি গণভবন হিসেবেই পরিচিত ছিল। এরশাদ সরকার ভবনের নাম পরিবর্তন করে নামকরন করেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করতোয়া। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিঃ রাজীব গান্ধী বাংলাদেশ সফরে এলে তিনি এই ভবনেই রাতযাপন করেন। ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকার আবারো ভবনটির সংস্কার কাজ করেন। ভবনটিকে নতুন সাজে সজ্জ্বিত করণের কাজ সম্পন্ন করে কঙ্কর্ড গ্রুপ।
নতুন করে গণভবন সংস্কারের পর তৎকালীন এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং কাজী জাফর আহমেদ সেখানে অফিস করেন। তখন রাষ্ট্রপতি এরশাদ দুই ঈদের সময় গণভবনে সাধারণ জনগণের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন। এরশাদ যুগের অবসানের পর ক্ষমতাসীন হয় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। বিএনপি সরকারও ওই ভবনের নাম অপরিবর্তিত রাখে।
গণপূর্ত ও স্থাপত্য বিভাগ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেন। গণভবন সংরক্ষণ ব্যয় ছাড়াও এককালীন বিশেষ বরাদ্দ ৮ কোটি টাকা ব্যয় করে সংস্কার করে গণভবনকে আধুনিকায়ন করেছে। গণভবনের বর্তমান আধুনিকায়নের ভিতরে উল্ল্যেখযোগ্য হলো-ব্যাংকোয়েট হল নির্মাণ, ভবনের মেঝেতে লাগানো পুর্বের কার্পেট সরিয়ে সমজাতীয় টাইলস, মার্বেল পাথর স্থাপন, দরজা জানালায় সুদৃশ্য বিদেশী দামী পর্দা লাগানো, ভবনের অভ্যন্তরের কৃত্রিম লেকের সংস্কার, মুল গেটের পাশে একটি ভবন নির্মাণ করা যেখানে প্রেসব্রিফিং কক্ষ, নিরপত্তা বাহিনীর জন্য কয়েকটি কক্ষ করা হয়েছে। গণপুর্ত অধিদফতর জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় গণভবন চমৎকার স্থাপত্যশৈলীতে সাজানো হয়েছে-যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে গণভবনের ঐতিহ্য চিরঞ্জীব থাকে।
১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে নিজ নামে গণভবন কিনে নেন। ক্যাবিনেটের নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। যার নামে বাড়িটি বরাদ্দ হবে তিনি সেই সভায় সভাপতিত্ব করার ফলে বিষয়টি জনমনে খুবই দৃষ্টিকটু বলে আখ্যায়িত হয়। যা নিয়ে তখনকার দেশী-বিদেশী মিডিয়া খুব তৎপরতা দেখালে "আমাদের এতোসব কথা শুনতে ভালো লাগেনা" বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে গণভবন ছেড়ে চলে যান। ক্যাবিনেটের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এ ব্যাপারে বাকি আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করে যেতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের ধারণা ছিল পরবর্তী সরকারও তারাই গঠন করবে, তখন বাকি আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করবে।
পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান গণভবন সংক্রান্ত ওই সিদ্ধান্তটি বাতিল করেন। পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার সব ধরনের প্রস্তুতির ছক লণ্ডভণ্ড করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ১৭ জন সচিবকে প্রথম রাতেই বদলি করেন প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান। ১ টাকার বিনিময়ে গণভবন লিজ নেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত। এই দুটি সিদ্ধান্তই জনগণের প্রশংসা অর্জন করে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে জনগণের মনে আস্থার সৃষ্টি হয়।
 তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমেদ গণভবনে উঠবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেজন্য ভবন সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরে প্রধান উপদেষ্টা ঐ ভবনে উঠবেন না বলে সিদ্ধান্ত হলে সংস্কার কাজ পরিত্যাগ করা হয়।
এরপর পুনরায় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে গণভবন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে শেখ হাসিনার নামের বরাদ্দ বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণভবনের নাম পরিবর্তন করে প্রাইম মিনিস্টারস্ অফিস নামকরণ করেছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ঐ অফিস ব্যবহার করতেননা। তিনি ওখানে ইয়াতীম ও সাধারণ মানুষের সাথে ২ বার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান করেছিলেন। গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারহিনা আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়-রাষ্ট্রপতির আদেশে ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরের বি-ব্লকের ৫ নং প্লটে অবস্থিত ভবনটিকে গণভবন হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হলো।
বর্তমান সংস্কার কাজে প্রধানমন্ত্রীর সুরুচীশীলতারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন গণপুর্ত স্থাপত্য বিভাগের প্রকৌশলীগণ। গণপুর্ত অধিদফতর জানায়, গণভবন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। তাই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া সেখানে কোন প্রকার সংস্কার, নির্মাণ, উন্নয়ণ কাজ করা সম্ভব হয় না।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বর্তমান সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৮ মাস সময় লেগেছে। গণপুর্ত অধিদফতরের প্রধান স্থাপতি এ এস এম ইসমাইল জানিয়েছিলেন সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবার পর এই ভবনের স্থাপত্য সৌন্দর্য্য ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে গণভবনের ভিতরে মুল গেটের পাশে আলাদা একটি ভবন তৈরী করা হয়েছে। সেই ভবনে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের সহযোগিতার জন্য আছে- প্রেস সেল। সাংবাদিকরা যাতে সহজে সংবাদ পাঠাতে পারেন সেজন্য সেখানে আছে টেলিফোন, কম্পিউটার, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেটের অত্যাধুনিক ব্যবস্থা।
নতুন এই ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সব কর্মকর্তা, নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফ, পিজিআর, আর্মড পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্যও আলাদা আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সচিব, সামরিক সচিবের জন্য করা হয়েছে আলাদা আলাদা অফিস ভবন। নতুন করে গণভবনে তৈরী হয়েছে ১৩০ আসনের একটি ব্যাংকোয়েট হল। গণভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা সার্ভিসের জন্য জন্য রয়েছে পিডব্লিউ, সিভিল ও ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অফিস। এখানে কর্মরত রয়েছে ৪৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারি।
গণভবনে যা আছে: গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর তথ্য মতে গণভবনের পুর্ব আয়তন ছিল ২২ একর। মুল ভবনের আয়তন ১৫ একর। গণভবন রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য ৪ একর এবং ৩য়, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ৩ একর জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত স্থাপতি মিঃ লুই আই কান এর থিউরি মতে উন্নতমানের সিরামিক ইটে নির্মাণ করা হয়েছে গণভবন। গণভবনের মুল ভবনের উপর ও নীচতলা মিলিয়ে আয়তন ৩৭ হাজার বর্গ ফুট। এখন মুল ভবনের সাথে বর্ধিতাংশ করে ব্যাংকোয়েট হল নির্মাণ কাজ শেষে গণভবনের মোট আয়তন দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার বর্গফুটে। দোতলা গণভবনের ওপর-নীচ তলায় রয়েছে বিশাল সাইজের ছয়টি রুম। উপর তলায় আরো আছে বিলাসবহুল ৫টি স্যুইট এবং নীচ তলায় আছে ৬টি স্যুইট। উপরের তলায় অনেক বড় একটা রুমের নাম সেন্ট্রাল রুম এবং অন্য আর একটা রুমের নাম কনফারেন্স লাউঞ্জ। নীচ তলায় প্রধান মন্ত্রীর অফিস কক্ষ। রুমের ভিতরটা পুর্বে মোজাইক করা ছিল। বর্তমানে মোজাইক তুলে গ্রানাইট টাইলস বসানো হয়েছে। অফিস কক্ষের দুই পাশে দুটি করিডোর এবং লাউঞ্জ সম্পুর্ণ মার্বেল পাথরে গড়া। এতোদিন ভবনে কোন জীম ছিলনা। বর্তমানে একটি অত্যাধুনিক জীম স্থাপন করা হয়েছে। ভবনটিতে কিচেনরুম, ড্রইংরুম, স্টোররুম ছাড়াও আরো তিনটি রুম রয়েছে। ভবনের ভিতরে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড। ২ টি গোলাপ বাগান, ২ টি বারোয়ারী ফুলের বাগান, ফলজ বাগান ছাড়াও রয়েছে বিশাল লন। গণভবনের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি মনোরম লেক। লেকের পশ্চিম দিকে রয়েছে শান বাধানো সুদৃশ্য ঘাট। বর্তমানে এই লেকটিকেও সংস্কার করা হয়েছে। এই লেকে মাছ চাষ করা হয়। 
অবস্থান: গণভবন মিরপুর সড়কের পশ্চিম পাশে ও লেক সড়কের ক্রসিং-এ অবস্থিত এবং জাতীয় সংসদ ভবন থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি ঢাকার সবচেয়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদের দূরত্ব সামান্য। বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে গণভবনটি জাতির জনকের পরিবারের নিরাপত্তা আইন অনুসারে প্রদান করেছে। ১৩ই অক্টোবর ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তরাধিকারীদের জন্য নিরাপত্তা আইনটি সংসদে পাস হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ