ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অপরিকল্পিতভাবে বাড়ছে খুলনা মহানগর

আব্দুর রাজ্জাক রানা : রূপসা ও ভৈরব নদের তীরে গড়ে ওঠা প্রায় দেড়শ’ বছরের পূরাতন খুলনা মহনগরীর আয়তন বাড়ছে বছর বছর। বাড়ছে জনসংখ্যা। কিন্তু সেভাবে বাড়ছে না নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলি চিহ্নিত করে কার্যকরি পরিকল্পনা গ্রহণ না করায় আধুনিক শহরের গুরুত্ব হারাচ্ছে খুলনা মহানগরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা মহানগর বাড়ছে অনেকটাই অপরিকল্পিতভাবে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ ও এলজিইডিসহ অন্যান্য নগর উন্নয়নে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং ‘একলা চলো নীতির কারণে' খুলনার অর্থনৈতিক গুরুত্ব যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অবয়বে প্রণীত উন্নয়ন কর্মগুলি একসময়ে ‘অপউন্নয়ন'র দোষে দুষ্ট হচ্ছে। সম্পদ ও ভূমির অপচয় হচ্ছে। কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। সর্বোপরি নগরবাসীর আবাসন, বিদ্যুৎ, পানি, পয়নিষ্কাশন, রাস্তা-ঘাটসহ নাগরিক সুবিধা লুপ্ত হচ্ছে। পাশাপাশি খুলনা আধুনিক নগর হিসেবে তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রগুলিতে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি ভবিষ্যত খুলনার সম্ভাবনাগুলিও নষ্ট হচ্ছে। সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই শহরে বসবাসকারী মানুষ এবং শহরের আশপাশে বসবাসকারী জনগণের কল্যাণ ও জীবন ধারণের জন্য স্থানিক ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকনির্দেশনা তৈরি করা। কিন্তু খুলনা মহানগরের সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের চিত্রের সাথে বাস্তবতার বিদ্যমান পর্বতপ্রমাণ বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জনসংখ্যার বাড়তি চাপে খুলনাসহ বাংলাদেশের শহর ও নগরসমূহের আকার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তন হচ্ছে যথেচ্ছভাবে-অনিয়ন্ত্রিতভাবে। সূত্রটি এ ক্ষেত্রে খুলনার বিদ্যমান সম্প্রসারণের ধরনকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, খুলনা নগরটি একরৈখিকভাবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ধাবিত হচ্ছে। অক্ষরেখা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই নগরের একীভূতকরণ ডাকবাংলো থেকে শিববাড়ী মোড়ে স্থানান্তরিত হয় এবং ক্রমে উত্তরে এগিয়ে যায়। উপরিউক্ত অক্ষ বিশ্লেষণে এটা পরিষ্কার যে, খুলনা নগর ‘প্রবৃদ্ধি অক্ষ' তত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত। এটি সরল রৈখিকভাবে এগিয়ে গেছে এবং নিকটবর্তী পশ্চাৎভূমিকে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। এর সম্প্রসারণ দক্ষিণ পূর্ব থেকে উত্তর পশ্চিমে ঘটছে। কিন্তু এই সম্প্রসারণ সমন্বিতভাবে হচ্ছে না। নগর সম্প্রসারণের জন্য ভারসাম্যমুক্ত ভূমি ব্যবহার জরুরি হলেও তা' হচ্ছে না। একরৈখিক নগরায়নের বিপরীতে উল্লম্ব ভূমি ব্যবহারের বিকল্প প্রস্তাবনারও অভাব রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। এ ক্ষেত্রে সূত্রটি জনসংখ্যার অভিক্ষেপ পর্যালোচনা করে জানায়, খুলনায় মধ্যম পর্যায়ের জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। যেমন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং আশপাশের এলাকায় ১৯৯১ সালে  যেখানে জনসংখ্যা ছিল ১০,৫২,৪৫১ জন সেখানে ১৯৯৮ সালে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩,৪৪,৬৩৪, ২০০০ সালে ১৪,৫৬,৬২৪, ২০০৫ সালে ছিল ১৭,৮৮,৪৪৩ এবং ২০১০ সালে ২২,০৫,৮৬৯, ২০১৫ সালে ২৬,৯৪,২৫৫ ছিল। জনসংখ্যার এই প্রবৃদ্ধিতে অনুমান করা হচ্ছে খুলনার জনসংখ্যা আগামী ২০২০ সালে হবে ৩২,৫৮,০২৭ জনে। অর্থাৎ মধ্যম পর্যায়ের প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনা করে জনসংখ্যার অভিক্ষেপে দেখা যায়, আগামী ২০২০ সালে খুলনা শহর এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন লোকসংখ্যা যুক্ত হয়ে মোট জনসংখ্যা হবে ৩২ লাখেরও বেশী। অর্থাৎ বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৩ গুণ। খুলনা মহানগরীর জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সূত্রটি আরও জানায়, ১৯৬১ সালে খুলনার ৪৩ শতাংশ নাগরিক ছিল অভিগমনকারী। ১৯৭৪ সালের হিসাব অনুযায়ী অভিগমনকারী পরিবার সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশের মত। ১৯৬১ সালের পর থেকে খুলনার জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্রতিবর্গ কিলোমিটারে মাত্র ১৭৪০ জন সেখানে ১৯৯৮ সালে জনসংখার এই ঘনত্ব গিয়ে দাঁড়ায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৮,৪২৪ জনে। সূত্র জানায়, জনসংখ্যার এই হারের প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় খুলনা শহরে বসবাসকারী মানুষের রকমারী প্রয়োজন যেমন পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ময়লা-আর্বজনাসহ মৌলিক সেবাপ্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন কার্যত হিমশিম খাচ্ছে। এমনি একটি পরিস্থিতিতে ২০২০ সাল নাগাদ যখন খুলনার জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৩২ লাখেরও বেশী তখন নাগরিক সুবিধার অবস্থা কী ভয়াবহ হবে তা' সহজেই অনুমেয়। এমনি একটি অবস্থায় খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের ‘আঞ্চলিক রাজধানী' হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের নাগরিক চাহিদাকে বিবেচনায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। কারণ জনসংখ্যার ঘনত্ব ও ভারসাম্যহীন বিস্তরণ একটি স্বাস্থ্যসম্মত নগর গড়তে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। অত্যধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্থানীয় সম্পদ যেমন পানি ও ভূমির উপরই শুধু চাপ সৃষ্টি করে না এটি নগরীর সার্বিক বাসযোগ্য পরিবেশের ভার বহন ক্ষমতার উপরও চাপ সৃষ্টি করে। এর প্রভাব পড়ে আবাসন ও আশ্রয়ের প্রকৃতিতে এবং প্রদত্ত নাগরিক সুযোগ সুবিধার গুণগত মান ও পরিমাণের ওপর। খুলনা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। খুলনা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর মংলার সাথে সংযুক্ত। এটি একটি শিল্প নগরও। বর্তমানে খুলনা শহরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চিংড়ি রফতানি বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। চিংড়ি এবং সামুদ্রিক মৎস্য রফতানির ক্ষেত্রে খুলনা ইতোমধ্যে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। এমনি একটি অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় নগরীর জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাগরিক সুবিধাসমূহের সমন্বয় করা না গেলে খুলনা ভবিষ্যতে বসবাসের যোগ্য আধুনিক নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যে পারবে না তা' বলাই বাহুল্য। জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি হারের বিবেচনায় খুলনা শহরে বসবাসকারী মানুষের রকমারী প্রয়োজন যেমন নিরাপদ সড়ক, বিশুদ্ধ পানি, পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি, বর্জ পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ময়লা-আর্বজনাসহ মৌলিক সেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন কার্যত হিমশিম খাচ্ছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধে বিল্ডিং কোডিং, বিল্ডিং উচ্চতা অনুসারে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, ওয়াসার সড়ক খোঁড়াখুড়ি মশা নিধনে পদক্ষেপ, পরিবেশ বান্ধব বর্জ্য নিষ্কাশন, সুষ্ঠুভাবে নদী সংরক্ষণ, সরকারি হাসপাতেলের সেবার মান, যাতায়াতের পর্যাপ্ত পরিবহনসহ যাবতীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নেই। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, খুলনার নগরায়ন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট উদাসীনতা রয়েছে। এ কারণে খুলনা মহানগর এলোমেলো এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভারসাম্যহীন ভূমি ব্যবহারের ফলে খুলনা আধুনিক শহরের গুরুত্ব হারাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে নগর বিস্তৃত হলেও তা বৃদ্ধি পাচ্ছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে।
শিল্প ও কল-কারখানা থাকায় খুলনা শহরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। যে কারণে নগরীর বহুতল ভবন বাড়ছে। একই সাথে আবাসিক হোটেল, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে এসব ভবনের নিজস্ব কোন অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা নেই। এখানে বহুতলা ভবন থাকলেও ফায়ার সার্ভিস মাত্র ৬/৭ তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম। আবার বিভিন্ন সময়ে কেডিএ বা কেসিসি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করলেও সেখানে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বসবাস করছে।
নগর ঘুরে দেখা যায়, আবাসিক এলাকার গৃহাস্থলির বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এখনো আদি কায়দায় চলছে। বর্জ্য নিষ্কাশনের এক পর্যায়ে সড়কে উপর স্তুপ করা হয়। মহানগরীর কিছু স্থানে বর্জ্য রাখার জন্য সড়কের উপর তৈরি করা হয়েছে ইট-সুড়কির খোলা ডাস্টবিন। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনে সামান্য বৃষ্টিতে কোমর সমান পানি নগরবাসির এখন নিত্য সঙ্গী। এর মধ্যে নগরবাসির পানির চাহিদা মেটাতে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ। তবে এ কর্মযজ্ঞে অতিষ্ট নগরবাসি। পানির লাইন সরবরাহ করতে ওয়াসা একই সড়কের একই স্থানে ১০ বারের ও অধিক খোঁড়াখুড়ি করেছে। রেললগেট থেকে গোলকধাম রাস্তায় ওয়াসার খোঁড়াখুড়ির কারণে বিগত দেড় বছর ধরে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। উত্তর বণিকপাড়া এলাকায় প্রতি বছর সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাসহ গোটা এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এটি বছরের রুটিন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পাশের ও সামনের সড়কের অবস্থা আরও নাজুক। পশ্চিম পালপাড়া থেকে তেলিগাতি মেইন রোড হয়ে কুয়েট সড়কের বেহাল দশা। কোথাও কোথাও ছোট বড় গর্ত ও ভাঙাচুরার কারণে হঠাৎ ছোট খাটো সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। নগরীর ফারাজীপাড়া প্রধান সড়কে ধীরগতিতে রাস্তা সংস্কারের ফলে জনসাধারণের দুর্ভোগ বাড়ছে। এছাড়া মহানগরীর শামসুর রহমান রোড, পাওয়ার হাউজের মোড়, মিস্ত্রীপাড়া আরাফাত মসজিদের সামনে থেকে দারুলউলুম মাদরাসা পর্যন্ত সড়ক, ৩১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু সড়কের বেহাল দশার কারণে ভোগান্তি বেড়েছে এলাকাবাসীর। নগরবাসির অভিযোগ, একদিকে সড়কে চলছে অনিয়ন্ত্রিত খোঁড়াখুঁড়ি অন্যদিকে বেপরোয়া মাহেন্দ্র, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চাপে মহানগরীতে যানজট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মহানগরীতে মশার উৎপাত এতোটাই বেশি যে, দরজা-জানালা খুলে রাখার উপায় নেই। মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের তৎপরতায় খুশি নন নগরবাসী। অভিযোগ রয়েছে, মশা যেভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে সিটি করপোরেশনের কোনো তৎপরতা নেই। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে সেখানে মশা জন্মাচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নালা, ডোবাগুলো নোংরা পানি দ্বারা ভর্তি থাকায় এবং সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে সেখানে মশা জন্ম নিচ্ছে বলে অভিযোগের শেষ নেই। ইতোপূর্বে খুলনাবাসী মশক নিধনের আন্দোলনও করেছে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতারা বলেন, মহানগরীর কোল ঘেঁষে প্রবাহিত খর¯্রােতা ময়ূর নদী দখলদারদের আগ্রাসনে ক্রমাগত সরু খালে পরিণত হচ্ছে। ফলে নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথটি দখল হওয়ায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নদীর ওপর অপরিকল্পিতভাবে সেতু বানানোয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে এর প্রবাহ। নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখতে আরো কার্যকরি পদক্ষেপ দরকার বলে মনে করেন তিনি। সেই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ফ্লাট এবং প্লট ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে আরও হুমকির মুখে পড়বে এ নগর।
নগর পরিকল্পনাবীদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শহরে বসবাসকারী মানুষ এবং শহরের আশপাশে বসবাসকারী জনগণের কল্যাণ ও জীবন ধারণের জন্য ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু খুলনা মহানগরের সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের চিত্রের সাথে বাস্তবতার বিদ্যমান পর্বত সমান বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জনসংখ্যার বাড়তি চাপে খুলনাসহ বাংলাদেশের শহর ও নগরসমূহের আকার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তন হচ্ছে যথেচ্ছভাবে-অনিয়ন্ত্রিতভাবে। তাদের মতে, খুলনার নগর পরিকল্পনা ও জৈবিক পরিবর্তনকে সমন্বিত উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসার জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এমনি অবস্থায় খুলনা ভবিষ্যতে বসবাসের যোগ্য আধুনিক নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে কি না তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এই কারণে আধুনিক নগর রূপান্তর পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণই সময়ের দাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ