ঢাকা, রোববার 12 May 2019, ২৯ বৈশাখ ১৪২৬, ৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাকায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের কার্যক্রম

মুহাম্মদ নূরে আলম : [পূর্ব প্রকাশিতের পর]
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ইংরেজী : আফ্রিকা মহাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে পিসকিপিং ইংলিশ শিরোনামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজী ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি বিদেশ এবং কমনওয়েলথভূক্ত দেশগুলোর কার্যালয় ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সামরিক কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে ইংরেজী ভাষার উপর দক্ষতা নিরূপণে কাজ করছে যা পিসকিপিং ইংলিশ প্রজেক্ট বা পিইপি নামে পরিচিত। এ পর্যন্ত পিইপি'র মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সামরিক ও পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত প্রায় পঞ্চাশ হাজার ব্যক্তিদেরকে শিক্ষা দিয়েছে। তন্মধ্যে এ কার্যক্রম লিবিয়া, ইথিওপিয়া এবং জর্জিয়ায় ও চালু রয়েছে। পিসকিপিং ইংলিশ প্রজেক্ট বা পিইপি ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং যুক্তরাজ্য সরকারের বৈশ্বিক সাংঘর্ষিক প্রতিরোধ তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
অন-লাইন কার্যক্রম : ২০০৭ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের চীন শাখা হংকং এবং চীনের অধিবাসীদের জন্য ইংরেজী শিক্ষায় আগ্রহী ও শিক্ষকদেরকে ঘিরে একটি নতুন ওয়েবসাইট হিসেবে উদ্বোধন করে। ইতোমধ্যেই ত্রিশ হাজার সদস্য এর অধিভুক্ত হয়েছে। অন-লাইনে ইংরেজীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্র হিসেবে কথোপকথনের মাধ্যমে ইংরেজী শেখার ব্যবস্থা রয়েছে।
অন্যান্য কর্মকা-, ক্যাফে সায়েন্টিফিক: যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল ক্যাফে সাইন্টিফিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা অলিখিত ঘটনাগুলোকে বিজ্ঞানের সহযোগিতায় জনগণের মাঝে সৃষ্টিশীল চিন্তাধারার মাধ্যমে মতবিনিময় করছে। ক্যাফে, বার, বইয়ের দোকানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী কিংবা বিজ্ঞান লেখকদের সাথে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তার মাধ্যমেই এ ক্ষেত্র বিরাজমান। এছাড়াও, ভারত এবং মালয়েশিয়া থেকেও সামাজিক, নৈতিক ঘটনা থেকে শুরু করে ডারউইনের মতবাদ, ডিএনএ, বৈশ্বিক উষ্ণতা ইত্যাদি সম্পর্কে আলোকপাত করছে।
জিরো কার্বন সিটি: বিশ্বের প্রধান প্রধান নগরগুলোয় জলবায়ু পরিবর্তন এবং শক্তিজনিত ঘাটতি মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রচারণা হিসেবে জিরো কার্বন সিটি শিরোনামের প্রকল্পে বৃটিশ কাউন্সিল অংশ নিয়েছে। জি-৮ সম্মেলন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নে বৈশ্বিক সমস্যাসমূহ মোকাবেলার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এ কর্মকা-ে অংশ নেয়। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সফর প্রতিযোগিতা, অন-লাইনে বৈশ্বিক বিতর্ক এবং একাধিক সেমিনার ও কনফারেন্স অন্যতম। ইতিমধ্যে ৬২টি দেশের ২৫ লক্ষাধিক লোক সরাসরি এ প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। ২০০৬ সালে পরিবেশ, খাদ্য এবং গ্রামীণ সংক্রান্ত অধিদপ্তরের যুব প্রচারণা সফলভাবে সমাপণের পর ব্রিটিশ কাউন্সিল ১৩ দেশের প্রত্যেকটি থেকে ৩জন করে যুব চ্যাম্পিয়নদেরকে সম্পৃক্ত করে। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যেই হচ্ছে যুব সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব এবং নিজেদের সম্প্রদায়ে এর সমাধানের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিজয়ীরা লন্ডন নগর পরিদর্শন করেন মে, ২০০৮ সালে। সেখানে তারা উদ্দীপনামূলক সমস্যা মোকাবেলার অংশ হিসেবে জি-৮ভূক্ত দেশসমূহের পরিবেশ মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করে। যুবরা বিশ্বব্যাপী প্রধান সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেন। বিজয়ীরা জাপানের কোবে শহরের কোবে সমস্যা উপস্থাপন করে এবং পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প হিসেবে নিজেদের দেশে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় ও এ সংক্রান্ত তথ্যাবলী প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।
আফগানিস্তানে শেক্সপিয়ারের নাটক: ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় শেক্সপিয়ারের নাটক লাভ'স্ লেবার'স্ লস্ট ২০০৫ সালে আফগানিস্তানে ১৭ বছরের মধ্যে ১মবারের মতো মঞ্চস্থ হয়। আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় দারী ভাষায় নাটকটি মঞ্চস্থ হলেও অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক প্রকাশভঙ্গীমা শেক্সপিয়ারের নাটকে প্রকাশ পায়।
উদীয়মান যুব উদ্যোক্তা পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক উদীয়মান যুব উদ্যোক্তা পুরস্কার: উদীয়মান শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্রিটিশ অভিজ্ঞতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল সৃষ্টিশীল যুব উদ্যোক্তাদের জন্য বছরের সেরা - আন্তর্জাতিক যুব প্রকাশক, যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুব প্রকাশক উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক যুব সঙ্গীত উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রদান করে থাকে। এ পুরস্কারকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি হচ্ছে অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে - আন্তর্জাতিকভাবে সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তা এবং অপরটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক - সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তা'র পুরস্কার।
উদীয়মান যুব উদ্যোক্তা কার্যক্রম প্রসঙ্গে: উদীয়মান যুব উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সৃষ্টিশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যুব উদ্যোক্তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। সৃষ্টিশীল অর্থনীতির উন্নয়নের মাধ্যমে তারা সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তার কেন্দ্রস্থল চিহ্নিত করে, সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। যুব সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তা যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর - তাদেরকে দক্ষতা,  প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ, জীবিকার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আমন্ত্রণ এবং সম্পৃক্ততার সুযোগসহ নতুন প্রকল্পে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এটি যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা হিসেবে সৃষ্টিশীল খাত, নতুন খাত এবং মিশ্র খাতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে সৃষ্টিশীল অর্থনীতিতে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতে, এ কার্যক্রমটি তৈরী করার ক্ষেত্রে মৌলিক উপাদান হিসেবে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তা গড়ে তুলছে যারা এ ধরণের সংযোগক্ষেত্র পরিচালনা করবে। প্রতি বছরই ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদেরকে উদীয়মান ও বিকাশমান শিল্পকারখানাগুলো পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যায়। এর ফলাফল হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত্ব নেটওয়ার্কের আওতাধীন সৃষ্টিশীল যুব উদ্যোক্তরা সম্পর্ক, মানোন্নয়ন ও সম্যক বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ করে অগ্রসর হয়। নয়টি বিষয় শ্রেণীতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। যথা : ভিজ্যুয়াল আর্টস, ডিজাইন, ফ্যাশন, পারফরমিং আর্টস, পাবলিশিং, স্ক্রিন, মিউজিক, ইন্টারএকটিভ এবং কমিউনিকেশনস্।
উদীয়মান যুব উদ্যোক্তা সংঘ বা ওয়াইসিই ক্লাব: ওয়াইসিই পুরস্কার প্রদানের ধারণাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং যুক্তরাজ্যে ক্রম অগ্রসরমান। এ পর্যন্ত পঞ্চাশেরও অধিক দেশের ১৫০জন প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়াইসিই ক্লাব এপ্রিল, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ল-নে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রকাশনায় সৃষ্টিশীল এবং সাংস্কৃতিক দক্ষতা এবং কাউন্টারপয়েন্ট খ্যাত থিংক ট্যাংক ২০০৭-২০১০ সালের অর্থনৈতিক সমস্যার ফলে সৃষ্ট সৃষ্টিশীল খাতগুলোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে। ইনজিনিয়াস মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্রিক ম্যাককেনা'র সমাপণী ভাষণের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হয়। নতুন ক্লাব অনেক দেশেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই পোল্যান্ড এবং তুরস্কে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৃষ্টিশীল খাতের চাহিদা ও চাপের মুখোমুখি হয়ে স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সৃষ্টিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নতদেশে উদীয়মান এবং উন্নয়নশীল দেশে মাইক্রো-বিজনেস ও এসএমই হিসেবে চিহ্নিত। ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তার সংজ্ঞা নিম্নরূপভাবে দিয়েছে -সৃষ্টিশীল খাতে কর্মরত ব্যক্তি যিনি ব্যবসায়ের সাফল্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা হিসেবে লাভ, বাজারের অংশ দখল, কর্মীসহ গুণগতমান এবং রূচির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে আশাবাদী হন। সৃষ্টিশীল খাতে যিনি সামাজিক কিংবা অ-লাভজনক প্রতিষ্ঠানে সফলতা লাভ করতে সক্ষম  রয়েছেন। সৃষ্টিশীল খাতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি যদি প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে নেতৃত্বের মাধ্যমে তার দক্ষতা দেখাতে পারেন। প্রদর্শনী, বাণিজ্য মেলা, উৎসবাদিতে যিনি প্রতিষ্ঠানের উন্নতিসহ সৃষ্টিশীল খাতে কর্মরত থেকে বাজার দখল করতে সক্ষম রয়েছেন।
প্যালেস্টাইন সাহিত্য উৎসব: ব্রিটিশ কাউন্সিল ২০০৮ সাল থেকে সাহিত্য উৎসবে মূল অংশীদার হিসেবে যোগ দিয়েছে। ২০০৯ সালে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ উৎসবের শেষ দিকে জোরপূর্বক আয়োজনের স্থান বন্ধ করে দেয় কিন্তু ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ স্মরণীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আয়োজন স্থল অন্যত্র স্থানান্তর করে।
প্রধানমন্ত্রীর বৈশ্বিক ফেলোশীপ : ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ চলমান কার্যক্রমগুলোর যাবতীয় দায়-দায়িত্বের ভাগীদার যদিও এ কার্যক্রমগুলোর ব্যয়ভার যুক্তরাজ্যের শিশু, বিদ্যালয় এবং পরিবার অধিদপ্তর বহন করে। প্রতিবছরই ১০০জন ফেলো এ কার্যক্রমকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে সমন্বয়কের ভূমিকা নেয় এবং তাদের ফেরা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকে।
রাশিয়ায় পরিচালনাগত সমস্যা: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ কাউন্সিল রাশিয়ায় তাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে যুক্তরাজ্য-রাশিয়ার মধ্যেকার চাপা উত্তেজনার দরুন বাঁধার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৪ সালে উভয় দেশের সরকার কর্তৃক শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে বৃটিশ কাউন্সিল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য সরকার রাশিয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনুকরণে নতুন শিক্ষা কেন্দ্রের চুক্তির কথা লক্ষ্য করে ও প্রতিবাদ জানায়। বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিল রাশিয়ায় নিবন্ধনকৃত সংস্থা হিসেবে উপার্জনমুখী কার্যক্রমসমূহ থেকে প্রাপ্ত ফি'র অংশবিশেষ কর হিসেবে প্রদান করে। এছাড়াও, ই-মেইলের মাধ্যমে ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ রাশিয়াকে জানায় যে - তারা রাশিয়ায় নিবন্ধিত করপ্রদানকারী সংস্থা ও নিয়মিত করাদী পরিশোধ করে আসছে এবং রাশিয়ার কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য করাদীও পরিশোধ করছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার আদালত ব্রিটিশ কাউন্সিলের কাছ থেকে দাবীকৃত ২.৩ মিলিয়ন পাউ-ের কর সংক্রান্ত মামলা পুণর্বহাল রাখে যদিও নিম্ন আদালতে যুক্তরাজ্যের কূটনীতিবিদদের আশা ছিল খুব দ্রুত এ বিষয়ে সমাধান হবে।
চীনে ব্রিটিশ কাউন্সিল: ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ ১৯৪৮ সালে হংকংয়ের তাদের কার্যক্রম চালু করে। ইংরেজী শিক্ষা; যুক্তরাজ্য সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য; ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ; হংকং সরকারের সাথে দেশ পুনর্গঠন; বিজ্ঞান, কলা, সাহিত্য এবং ডিজাইন তুলে ধরা ছিল কাউন্সিলের প্রধান কর্মকাণ্ড।
সমালোচনা: মার্চ, ২০০৭ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে-প্রতিষ্ঠানের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার শাখাগুলোয় উত্তোরোত্তর বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা হিসেবে ইউরোপ থেকে লাইব্রেরী এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। জুন, ২০০৭ সালে ১৯৪৬ সালে তেলআবিব এবং জেরুজালেমেও বৃটিশ কাউন্সিলের কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা দেয় ব্রিটিশ এমপিরা। এথেন্সে ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরীসহ বেলগ্রেডেও কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয়েছে। একইভাবে ভারতের ভূপাল ও ত্রিবান্দ্রুমে একই বছরে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কার্যক্রম বন্ধের মুখোমুখি হয়।
[সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ