ঢাকা, সোমবার 13 May 2019, ৩০ বৈশাখ ১৪২৬, ৭ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঈদকে সামনে রেখে দম ফেলার ফুসরত নেই দর্জি কারিগরদের

ইবরাহীম খলিলল : ঈদকে সামনে রেখে ফ্যাশন-সচেতন আর রুচিশীল ব্যক্তিরা ছুটছেন দর্জি বাড়িতে। আগেভাগেই নিজেদেরে পছন্দসই জামা-কাপড় বানিয়ে রাখছেন তারা। এজন্য দর্জি পাড়ায় বেড়েছে ঈদ কেন্দ্রিক ব্যস্ততা। চাঁদ রাতের আগেই ক্রেতারাদের হাতে পোশাক তুলে দিতে দিন-রাত কাজ করছেন কারিগররা।
দর্জিরা বলছেন, শবে বরাতের পর থেকেই ঈদের পোশাকের অর্ডার নেয়া শুরু হয়েছে দর্জিবাড়িতে। নিজস্ব  বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক বানাতে রাজধানীর টেইলার্সগুলো তাই এখন সরগরম। কাপড় কাটা থেকে শুরু করে সেলাইসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে কারিগরদের। টেইলার্স মালিকরা বলছেন, গ্রাহকদের থেকে তারা অর্ডার নিবেন ১৫ রমজান পর্যন্ত। গরমের সময় যে সুতির কাপড় আছে সেগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ক্রেতারা। একদিকে সেলাই মেশিনের একটানা খটখট আওয়াজ, পাশেই চলছে মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটা; ফরমায়েশ নেওয়া হচ্ছে নতুন পোশাকের। ঈদকে সামনে রেখে দর্জিবাড়ির কারিগরদের এখন তাই দম ফেলার ফুরসত নেই। গ্রাহকদের পছন্দের ঈদ পোশাক তৈরি করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করছেন তারা। রাজধানীর বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা গেলো, কাপড় কিনে শার্ট, প্যান্ট কিংবা পাঞ্জাবি তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন অনেকেই। মেয়েরা জমিনে বাহারি কাজ করা কাপড় বেছে নিচ্ছেন সালোয়ার -কামিজ কিংবা লেহেঙ্গা বানাতে।
রাজধানীর নিউমার্কেট, চাঁদনি চক ও গাউছিয়ার দরজিপাড়া সরগরম। পছন্দ অনুযায়ী নিজের ঈদ পোশাকটি বানাতে ক্রেতারা ছুটছেন দরজির কাছে। চাঁদনি চকের সুশীলা লেডিস ফ্যাশন নামের দরজি দোকানের মাস্টার মো. আতিকুল বলেন, ‘শবে বরাতের পর থেকে অর্ডার নিচ্ছি। ২০ রোজ পর্যন্ত নেব।’ তিনি জানান, এবার লেইস, আলাদা চুমকি, ইয়োক বসানো জামা কেউ বানাচ্ছেন না। এখনকার কাপড়গুলো নেট, কাতান, সিল্ক ধরনের হয়। তাতে চুমকি, পাথর, সুতা বা জরির কাজ করাই থাকে। পোশাকের কাপড়ে ভারী কাজ থাকায় কেউ আলাদা করে কিছু বসায় না।
রাজধানী ঢাকার চাঁদনি চকের সেলাইবিহীন জামার দোকানগুলোয় তুলনামূলক বেশি ভিড়। যারা পোশাক বানিয়ে পরতে পছন্দ করেন, তারা এখনই ছুটছেন মার্কেটে। বায়েজিদ ফেব্রিকস নামের দোকানে কয়েকজন সেলাইবিহীন জামা দেখছেন। সায়মা আক্তার নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি ঈদের পোশাক বানিয়ে পরতেই পছন্দ করেন। এখনই না কিনলে দরজি নিতে চাইবে না। এ দোকানের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম বলেন, সালোয়ার কামিজ, গাউন, আনারকলির পাশাপাশি কাতানের ওপর নানান নকশার জামা এবার বেশ চলছে।
সেলাই সম্পর্কে খোজ নিয়ে জানা গেল ছেলেদের পাঞ্জাবিতে নকশাভেদে মজুরী পড়ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর শার্ট-প্যান্টের মজুরী ৪৫০-৫৫০ টাকা। মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ বানাতে খরচ পড়ছে ৫০০-১০০০ টাকা। একজন বিক্রেতা বলেন, কটন কালারটা এখন বেশি চলছে। প্রতিবছরেই ১০ রমজানের দিনে অর্ডার বন্ধ করে দেই।
গতকাল রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, চাঁদনি চক ও মিরপুর এলাকায় পোশাক তৈরির দোকানগুলোতে ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়র মতো।
জানা গেছে, ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের পোশাকের আদল ও ডিজাইনে পোশাক বানাতে চায়। এজন্য মোবাইলে পছন্দের পোশাকের ছবি নিয়ে অনেকে ছুটে আসছেন তারা। নিজের জন্য পছন্দের ডিজাইনের পোশাকের অর্ডার দিচ্ছেন।
দেখা গেছে, শার্ট-প্যান্টের চেয়ে ছেলেদের বেশি আগ্রহ পাঞ্জাবিতে। মেয়েদের পছন্দ সালোয়ার-কামিজ আর লং ফ্রক। সঙ্গে রয়েছে নানা রঙের বোরকা। এটিও এখন তরুণীদের ফ্যাশনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টপটেনের কাটিং মাস্টার আনেয়ার বলেন, ক্রেতারা আগের মতো এখন আর ক্যাটালগ চাচ্ছে না। বরং তারা নিজেরাই ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে আমাদেরকে দেখায়, ওই হিসেবে আমরা তৈরি করে দেই। এক্ষেত্রে ছেলেদের পোশাক তৈরির দোকানগুলোতে মেয়েদের মতো ততোটা ভিড় না থাকলেও শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি তৈরির সংখ্যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেড়েছে। গরমের কারণে এবার ব্লেজার বা স্যুটের চাহিদা কম।
ইব্রাহীম টেইলার্সের কর্ণধার ইকবাল হোসেন বললেন, তরুণ-তরুণীরা এখন ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতন। সবাই নিজেদের পোশাকে আনতে চান হাল ফ্যাশনের ডিজাইন। রেগুলার কিছু কাস্টমারের অর্ডার পেয়েছি, প্রতিবার নতুন নতুন কাস্টমাররা কাপড় বানাতে আসে। তবে এবারে সে সংখ্যাটা একটু কম।
দর্জিরা জানিয়েছেন, রমজান মাসের দিন যত গড়াবে দর্জিবাড়ির এই ব্যস্ততা তত বাড়বে। শেষদিকে কারিগররা কাজ করবেন দিনরাত এক করে।
এদিকে মার্কেটগুলোয় ক্রেতারা ভিড়তে শুরু করেছেন। তবে বিক্রেতারা আশা করছেন, জমজমাট কেনাকাটা শুরু হবে পরের শুক্রবার থেকে। এখন টুকটাক কেনাকাটা বা বাজারে কী পাওয়া যাচ্ছে, তা দেখতেই ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে। মাইশা ওয়ার্ল্ড নামের দোকানের বিক্রয়কর্মী জানালেন, টুকটাক বেচা-বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চাদের জন্যই কিনছে সবাই। পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকে আগ্রহ অনেক। এ ছাড়া ফ্রক, গাউনও চলছে। সিতারা আমান দুই বাচ্চা নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার গরম অনেক, ভিড় কম থাকতেই বাচ্চাদের পোশাক কিনে ফেলতে চাই।
এলিফ্যান্ট রোডের একটি বিপণি বিতানে দুই মেয়ে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন সুমাইয়া জামান। তিনি বলেন, ঈদের সময় দর্জির দোকানগুলো বাড়তি টাকা আদায় করছে। একটা সুতির ড্রেস এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় কিনে চারশ টাকা মজুরি দিয়ে বানাতে হয়। আর গর্জিয়াস ড্রেসগুলো তো ওরা বানাতে নেয় পাঁচশ থেকে আটশ টাকা। এজন্য অনেকেই রেডিমেড থ্রি-পিস কিনে ঝামেলা এড়ান। তবে এবার আমি দুটি থ্রি-পিস বানাতে দিয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ