ঢাকা, মঙ্গলবার 14 May 2019, ৩১ বৈশাখ ১৪২৬, ৮ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর অভিজাত বিপণি বিতানগুলোতে জমে ওঠেনি ঈদের কেনাকাটা

ইবরাহীম খলিল : গতকাল সোমবার ছিল রমজানের সপ্তম দিন। রোজার এক সপ্তাহ পার হলেও ঈদের কেনাকাটা তেমন একটা জমে ওঠেনি। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে জমে ওঠেনি কেনাকাটা। দোকানিরা বলছেন মূলত রোজার অর্ধেক পার হওয়ার পর নামিদামি শপিংমলগুলোতে কেনাকাটা জমে উঠবে। অধিকন্তু প্রচ- গরম আর যানজটের কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছে না।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি অভিজাত শ্রেণির বিপনি নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানই ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছে। দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের-ঢঙের পণ্য। তারা বলছেন, শবেবরাতের পর থেকে দোকান মালিকরা মালামাল আনতে শুরু করেন, প্রথম রোজার আগেই তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
দোকানিরা বলেন, রোজার প্রথম দিকে শপিংমলগুলোতে ভীড় তুলনামূলকভাবে কম থাকে। রেডিমেট ড্রেস যারা কিনে তারা দেরিতে অভিজাত দোকানগুলোতে আসেন। আর যেসব ক্রেতা নিজের পছন্দমতো ড্রেস বানিয়ে নেয় তারা রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকে দোকানগুলোতে ভীড় জমায়। তবে ঈদের আমেজ বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতাদের ভীড় শুরু হবে বলে আশাবাদী দোকানিরা। এ দিকে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার প্রথম সপ্তাহে তেমন কেনাকাটা হয় না। তারমধ্যে আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় আনেকে গরম ও ভীড়ের কথা চিন্তা করে ঈদের কেনাকাটার জন্য অনলাইনকেই বেছে নিচ্ছেন।
ঈদ কেনাকাটায় যমুনা ফিউচার পার্ক  অভিজাত শ্রেণির ক্রেতাদের পছন্দ। তবে এই মার্কেটও সেই তুলনায় জমে ওঠেনি। বিশেষ করে নামিদামি মার্কেটগুলোতে ঈদ কেনাকাটার জন্য রয়েছে ক্যাশব্যাক, স্পেশাল ডিসকাউন্ট, কুপনসহ বিভিন্ন ধরনের অফার। গাউছিয়া, নিউ মার্কেট ও বসুন্ধরা শপিংমল ঘুরে দেখা য়ায়, স্বল্প সংখ্যক ক্রেতার আনাগোনা শপিংমলগুলোতে।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার ফুটপাতগুলোতে বসছে কাপড়ের দোকানের পসরা। ঈদের ব্যবসা শুরু হয়েছে কি-না জানতে চাইলে নূর ম্যানশন শপিং সেন্টারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ঈদের বেচাকেনা এহন শুরু না অইলে কহন অইব।
বাড্ডা থেকে নিউ মার্কেট এলাকায় পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। কবীর বলেন, ঈদের আগ মুহূর্তে কেনাকাটা করা ঝামেলার। তাই এখনই কেনাকাটা করতে এসেছি।
ব্যবসায়ী  মো. মনির হোসেনের দাবি, ‘ঈদের কেনাকাটা এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। অন্যবার যাও কম-বেশি বেচাকেনা হয়, এবার সেটাও হচ্ছে না। গরম বেশি থাকার কারণেও সেটা হতে পারে। আশা করছি কয়েকদিনেরমধ্যেই ঈদের বেচাকেনা শুরু হবে।
ওয়েস্টনের ম্যানেজার মো. মামুন বলেন, ‘ঈদের প্রভাব পড়েছে হালকা। তবে পুরোদমে ঈদের কেনাকাটা শুরু হবে ১৫ রোজার পর থেকে। ফুটপাত ও সাধারণ মার্কেটের তুলনায় শপিং মলে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
রাজধানীর ওয়ারি থেকে ছেলে নাবিলকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন লতা নামে এক নারী। লতা বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা করতেই এসেছি। এই সময়টাতে দোকানগুলো হালকা ফাঁকা থাকে। সময় নিয়ে ঘুরেফিরে পছন্দের জিনিসটা কেনা যায়। পছন্দ হলে আজকেই অনেক কিছু কিনে নিয়ে যাব। আর না হলে আগামী সপ্তাহে আবার আসব।
ঈদ বাজারে কেনাকাটা কম হওয়ার জন্য অনেকে দায়ী করেছেন বাইরে খরতাপ এবং যানজটকে। গরমে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয়ে ক্রেতারা মার্কেটে আসছেন না। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ঈদের কেনাকাটা তেমন শুরু করেননি, দর-দাম যাচাই করতে এসেছেন। মধ্য রমজানে কেনাকাটা জমে উঠবে। তবে এরই মধ্যে নানা রঙের ফ্যাশনের পোশাকের সমাহার ঘটিয়েছেন দোকানিরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ