ঢাকা, মঙ্গলবার 14 May 2019, ৩১ বৈশাখ ১৪২৬, ৮ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মানুষের বিজয় অনিবার্য

পরিবার নিয়ে অভিযোগ, শিক্ষা নিয়ে অভিযোগ, সমাজ নিয়ে অভিযোগ, সরকার নিয়ে অভিযোগ, রাজনীতি নিয়ে অভিযোগ- এতো অভিযোগ নিয়ে যাদের বসবাস, তাদের মন তো ভারাক্রান্ত থাকবেই। অবশ্য সংশ্লিষ্ট সবাই সমাধানের পথে হাঁটলে মানুষ আশাবাদী হতে পারে। মানুষ নিজেকে এই বলে বোঝাতে পারে যে, এখনই সমাধান না হলেও সবাইতো সমাধানের পথেই চলছে। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই, আমরা সমাধানের পথে চলতে সক্ষম হচ্ছি না কেন? সংকট কোথায়?
এ দেশের মানুষ ধৈর্য্যশীল এবং স্বল্পে তুষ্ট থাকতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষ তা পারে না। তাদের আরো চাই। আরো ক্ষমতা চাই, আরো অর্থ চাই। এরা রাজনীতির প্রয়োজন ও দায়িত্ব উপলব্ধি না করেও রাজনীতিবিদ হতে চান, জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান না রেখেও বড় ধনী হতে চান, জ্ঞানচর্চা না করেও বুদ্ধিজীবী হতে চান, জনমানুষের বোধ-বিশ্বাস ও আশা-আকাঙ্খাকে উপলব্ধি না করেও জাতীয় মননের প্রতীক হতে চান। বিস্ময়ের ব্যাপারে হলো, গণবিরোধী এই চক্রই নানাভাবে দেশী-বিদেশী কিছু কর্তা ও প্রতিষ্ঠানের আনুকূল্যে লাইমলাইটে চলে আসছেন এবং নানা ভঙ্গিতে দেশের মানুষকে উপদেশ খয়রাত করে যাচ্ছেন। এদের প্রতাপও কম নয়। মানুষ সঙ্গত কারণেই এদের মন থেকে সম্মান করতে পারে না। অথচ কি নির্মম পরিহাস, ওদেরকেও সমীহ করে চলতে হচ্ছে।
আমরা মনে করি, এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। দেশে গণমানুষের রাজনীতি চললে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটলে ওই কৃত্রিম প্রতাপের অবসান হতে পারে। এখন জনমনে, তরুণমনে হতাশার যে বাতাবরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাও দূর হতে পারে। যারা আরো চাই, আরো চাই মন্ত্রে মুগ্ধ তাদের আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হতে পারে না। দেশপ্রেমিক শক্তি নৈতিক চেতনায় বলীয়ান হয়ে উঠলে এই খামার বাংলায় মানুষের চাওয়ার বিজয় অনিবার্য। কৃত্রিম রাজনীতি, কৃত্রিম সংস্কৃতি এই জনপদের মানুষ কখনো মেনে নেবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ