ঢাকা, মঙ্গলবার 14 May 2019, ৩১ বৈশাখ ১৪২৬, ৮ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ধর্ষণের বিভীষিকা বেড়েই চলছে, দায় কার?

মো. তোফাজ্জল বিন আমীন : আমরা বড্ড কঠিন এক দানবের সমাজে বসবাস করছি। এই সমাজ দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। অধঃপতিত এই সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ অমানুষে পরিণত হয়েছে। মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের স্রোতে হাবুডুবু খাচ্ছি আমরা সবাই। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে কোথাও এতটুকু জায়গা নেই যেখানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যায়। একটা সমস্যার রেশ কাটতে না কাটতে আরেকটি নতুন সমস্যা জাতির কাঁধে ভর করছে। নিপীড়িত মজলুম মানুষের আর্তনাদ কান পাতলেই শোনা যায়। অথচ যাদের শোনার তাদের শোনার গরজটুকু নেই। বিচারহীনতার সংষ্কৃতি সমাজকে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। প্রতিনিয়ত ধর্ষণের বর্বরতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। পত্রিকার পাতায় চোখ বুলালেই ধর্ষণের বীভৎসতার খবর পাওয়া যায়। ঘরে-বাইরে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে, স্কুল-কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোথাও যেন নারীরা নিরাপদ নন। তিন বছরের শিশু থেকে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গৃহবধূ, বৃদ্ধা কেউ ধর্ষণের মহামারি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গত সোমবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় স্বর্ণলতা যাত্রীবাহী বাসে শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামে তানিয়া ধর্ষণের ঘটনাটি মুদ্রিত হয়েছে। চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনা এটাই প্রথম তা কিন্তু নয়! এর আগে টাঙ্গাইলে রূপা নামে এক শিক্ষার্থীকে চলন্তবাসে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হলেও নারীরা কোথাও নিরাপদ নন। এই নিরাপত্তাহীনতার অবসান হওয়া জরুরী। রাজনৈতিক স্লোগানে নারীর স্বাধীনতার কথা বলা হলেও ভিন্নমতের প্রতীকে ভোট দেয়ার অপরাধে যে দেশে নারী গণধর্ষণের শিকার হয় সে দেশে নারীর নিরাপত্তা কতটুকু বিরাজ করছে তা সহজে অনুমেয়। শরীরের একই জায়গা বারবার কেটে গেলে চামড়া মোটা হয়ে যায় তখন অনুভূতি আর কাজ করে না। আমাদের অবস্থাও তাই হয়েছে। গুম, খুন, অপহরণ আর ধর্ষণের বীভৎসতার ছবি দেখতে দেখতে গা সয়ে যাওয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরি কিংবা শাকিব খানের বিয়ের বিষয় নিয়ে  সমাজ ও রাষ্ট্রে যতটা তোলপাড় হয়, ধর্ষিতা নারীর জীবন নিয়ে এতটা তোলপাড় হয় না।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন বিখ্যাত কবি, গীতিকার ও নাট্যকার। অনেকের কাছে ডি এল রায় হিসেবে পরিচিত। তার একটি দেশাত্মবোধক গান- ‘‘ধন ধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা- এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকে তুমি! এই গানটির কথা বার বার মনে পড়ছে। সত্যিই তো এমন দেশ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে গুম, খুন, অপহরণ ও ধর্ষণের সিরিজ সমানতালে চলে। দেশের মানুষেরা অন্ধকারের অমাবশ্যার রাতে চাঁদের আলো খুঁজতে গিয়ে কখনো আগুনে পুড়ে, কখনো ভিন্নমতের প্রতীকে ভোট দেয়ার কারণে গণধর্ষিত হচ্ছে। তবু থামছে না নারীর প্রতি নিষ্ঠুরতা। ধর্ষিতা নারীর জীবনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রার প্রয়োজন নেই। কারণ উন্নয়নের প্রদীপের নিচে বিদঘুটে অন্ধকার। ধর্ষণ সংক্রামক জীবাণুর মতো ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের রদ্ধ্রে রন্ধ্রে। মানুষ গড়ার কারিগর যাদেরকে বলা হয় তারাই যদি যৌনতার লালসায় নারীর ওপর হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন, তাহলে নারীরা যাবে কোথায়? প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকের কথা না-হয় বাদ দিলাম যখন দেখি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এক শ্রেণীর শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌনতার অভিযোগ উঠে তখন সত্যিই মনে দাগ কাটে। ফেনীর অগ্নিদগ্ধ শিক্ষার্থী নূসরাত জাহানকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না। নুসরাতের ক্ষত শুকাইতে না শুকাইতে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হলেন শাহিনুর আক্তার তানিয়া। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ভৈরব-কটিয়াদী মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে। তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দীনের মেয়ে। পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম তানিয়া ইবনেসিনা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল কল্যালপুরে সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার সাথে রোজা রাখতে গ্রামের বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন তানিয়া। কিন্তু একশ্রেণীর নরপশু তার মনের আশাকে পূরুণ করতে দেয়নি। তানিয়ার বাবা-মা কিংবা পরিবার পরিজনকে সান্ত¡না দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই। কারণ বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কত বেদনার কত কষ্টের তা ভুক্তভোগী পরিবার ব্যতীত অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না।
ধর্ষণের রুট খোলা  রেখে ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ধর্ষণের প্রবণতা বন্ধ করা। রাষ্ট্র এ দায় এড়াতে পারে না। বিচারহীনতার কারণেই শ্রীপুরের কর্ণপুর সিটপাড়া গ্রামের হযরত আলী ও তার কন্যা আয়েশা আক্তার ধর্ষণের বিচার না পেয়ে শ্রীপুর রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাঁর এই মৃত্যু সমাজ ও রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে দিলেও ধর্ষণ থামেনি। গত ২৫ আগস্ট ২০১৭ বগুড়া থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন জাকিয়া সুলতানা রূপা। ধর্ষণের পর ঘাতকেরা রূপাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বনানীর রেইট্রি হোটেলে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা ও বগুড়ার তুফান সরকারের ধর্ষণের ঘটনা কারও অজানা নয়। এমনকি চাপাতি বদরুলের হিং¯্রতার শিকার খাদিজার কথা আজও লোকমুখে শোনা যায়। ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা নামের এক ছাত্রীকে চাপাতি দিয়ে পাশবিকভাবে জখম করে বদরুল। ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে পুলিশ কর্তৃক ইয়াসমিন ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে হত্যার অপরাধে পুলিশের বিচার হলেও  বহু নারী শিশু গণধর্ষণের শিকার হতে পরিত্রাণ পায়নি। ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল গৌরীপুর থানার ব্যারাকে নিজ কক্ষে শরীরে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দেন কনস্টেবল হালিমা। ঘটনাটির লুকায়িত রহস্য ২৫ এপ্রিল সকল জাতীয় দৈনিকে মুদ্রিত হয়েছে। যার সারমর্ম হচ্ছে, ‘আমার মরে যাওয়ার একমাত্র কারণ এসআই মিজানুর আমাকে ধর্ষণ করে। ১৭/০৩/১৭ ইং রাত ২.০০ ঘটিকায়। অথচ আমার অভিযোগ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গ্রহণ করেনি। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। ২০১৫ সালের ২১ মে কুড়িল বিশ্বরোডে ৫ নরপশু এক গারো তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে গণধর্ষণ করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায়। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেওয়া পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে গত ১৯ জানুয়ারি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭৮ জনকে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই শিশু ও কিশোর। ৬ থেকে ১২ বছরের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জরিপ ও পুলিশ সদর দফতরের হিসাবে সেই একই সময়ে ধর্ষণসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ১৯ হাজারের বেশি। গড়ে প্রতিদিন ১১টি মামলা হচ্ছে। কিন্তু মামলার নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত কম। ২০১৮ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৩২ জন, ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার ৬৩ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে ৭ জন।
একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের বড় অংশের মধ্যে যদি মনুষত্বের চেয়ে পশুত্বের পরিমাণ বেশি দেখা যায়  তাহলে সে সমাজ বা রাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্বেগ উৎকন্ঠা এমনিতেই বেড়ে যায়। যে সমাজ বা রাষ্ট্রের মেয়েরা লম্পট চরিত্রহীন পুরুষদের লালসার শিকার হয়,  সে সমাজকে নষ্ট সমাজ ব্যতীত আর কী বলা যেতে পারে?  সমাজ ও রাষ্ট্রের বড় বড় ব্রিজ কালভার্ট আর উঁচু দালান ধ্বংস হয়ে গেলেও পুনরায় তা নির্মাণ করা যায়। কিন্তু নারীর ইজ্জত একবার লুন্ঠিত হয়ে গেলে তা হাজার চেষ্টা করেও ফিরিয়ে আনা যায় না। যে সমাজে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নেই, মানুষের মর্যাদা নেই, ন্যায়বিচার নেই, মিথ্যের ওপরে সত্যের স্থান নেই, সে সমাজ ব্যবস্থাকে নষ্ট সমাজ ব্যতীত সভ্য সমাজ বলা যায় না। ধর্ষণ বৃদ্ধির কারণে রোমান সা¤্রাজ্যের পতন হয়েছিল। অনেকে হয়ত লুক্রেসিয়ার কথা ভুলে গেছি। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কথা। রোমান সা¤্রাজ্যের পতনের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে লুক্রেসিয়ার নাম। রোমান সা¤্রাজ্যের শেষ রাজার গুণধর পুত্র লুক্রেসিয়াকে ধর্ষণ করেছিল। কিন্তু লুক্রেসিয়া বিচার প্রার্থনা করেও বিচার পায়নি। অবশেষে একটা ছুরি নিজের বুকে বসিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুরু হয় রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, রাজনৈতিক বিপ্লব। রোমান সেনাবাহিনীও জনগণের বিদ্রোহকে সমর্থন জানায়। পতন ঘটে রোমান সা¤্রাজ্যের। কুরআন নাযিলের এই মাসে যারা তানিয়াকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের বিচার হয়তো তাঁর পরিবার দুনিয়ার আদালতে নাও পেতে পারে। কিন্তু পরকালের আদালতে ঠিকই পাবে। কারণ মহান আরশের মালিক বিন্দু পরিমাণ কারও প্রতি জুলুম করেন না। তবে এটাও ঠিক রাষ্ট্রে যখন বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে সয়লাব হয়ে যায় তখন নিরীহ অনেক মানুষের জীবন ঝরা পাতার মতো অকালেই ঝরে যায়।
ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে ধর্ষণের যে রুট রয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। একটা সময় তো আমাদের পারিবারিক বন্ধনে মিলন মেলার সুবাতাস বইত। এখন আর তেমনটা দেখা যায় না। পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে গেছে। পরকীয়া এখন অপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। ধর্ষণ প্রতিরোধে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা,অশ্লীল ছায়াছবি, অশ্লীল গান, অশ্লীল বিজ্ঞাপন, অশ্লীল নাটক, পর্নসাহিত্য, ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল বই, অশালীন পোশাক ও তরুণ তরুণীর অবাধ মেলামেশার অবৈধ রুটকে রুদ্ধ করতে পারলে ধর্ষণের সেঞ্চুরী শূন্যের কোঠায় না আসলেও সেঞ্চুরী আর হবে না। ভারত মিয়ানমার থেকে আসা যৌন উত্তেজক ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সামগ্রী কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে। ‘‘ কুরআনের সূরা আন নূর ২ আয়াতে যেনার শাস্তি কী হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যভিচারীণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ^াসী হয়ে থাক। সূরা বনী ইসরাঈলের ৩২ আয়াতে বলা হয়েছে যে, তোমরা যেনার ধারে কাছেও যেয়ো না, নিঃসন্দেহে এটি হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।’’
কুরআনের এই বিধান সমাজ ও রাষ্ট্রে কার্যকর করার মধ্য দিয়ে যৌন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব। আমাদের লিখনী, প্রতিবাদ বা কান্না তানিয়াকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, এটা ঠিক। কিন্তু তানিয়ার হত্যাকারীদের বিচার হলে তানিয়ার স্বজনেরা সান্ত¡নাটুকু পাবেন যে, অপরাধীর হাত আইনের হাত থেকে শক্তিশালী নয়। আর অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে বাকি লম্পটেরা এমনিতেই ঠান্ডা হয়ে যাবে।  রাষ্ট্র এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে, এমনটিই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ