ঢাকা, বুধবার 15 May 2019, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় বিশাল অংকের সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যেগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনোমি জোন গড়ে তোলা হয়। প্রত্যক্ষভাবে চারটিসহ  মোট ১৭টি মন্ত্রণালয়ের ব্লু ইকোনোমি নিয়ে কাজ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো কাজই হচ্ছে না। কারণ সরকার খুব আগ্রহের সাথে ব্লু ইকোনোমি জোন করলেও তা পরিচালনার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে এসব জোনের কার্যক্রমও অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ার অবস্থা। এমতাবস্থায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, যত দ্রুত  সম্ভব আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের  মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। সমুদ্র সম্পদ আহরণের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আর এ বিনিয়োগ প্রথম সরকারের পক্ষ থেকেই করতে হবে। ফলে ব্লু ইকোনোমির সুফল পেতে বাজেটে বরাদ্দ জরুরী। এখাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় বিশাল অংকের সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরান বাজারের পেট্রোবাংলা ভবনে গ্রীনটেক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘প্রি-বাজেট ডিসকাশন অন ব্লু ইকোনোমি’ নিয়ে আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদের পরিচালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও গবেষক ড. আতিক রহমান। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের আলম, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. দিলরুবা চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্ম সচিব গোলাম শফিউদ্দিন, গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের সিইও লুৎফুর রহমান, সাংবাদিক গাজী আনোয়ার প্রমুখ।  
ড. আতিক রহমান বলেন, আমাদের দেশের সমুদ্র অর্থনৈতিক এরিয়া অনেক বেশি। কিন্তু সমুদ্রের সম্পদ আহরণ আমরা কিভাবে করবো তার জন্য সঠিক গবেষণা হওয়া দরকার। সরকার চারটি মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনোমি সেল গঠন করেছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। মন্ত্রণালগুলোর উচিত ব্লু ইকোনোমি বিষয়ে এবং সমুদ্র সম্পদ নির্ণয়ে গবেষণাধর্মী প্রকল্প হাতে নেওয়া। এতে করে আমরা সমুদ্র থেকে কি পরিমান মৎস্য আহরণ করবো তার সঠিক পরিমাপ করা যাবে। আবার গভীর সমুদ্র থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণেও একটা সমীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, যত দ্রুত  সম্ভব আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের  মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। সমুদ্র সম্পদ আহরণের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আর এ বিনিয়োগ প্রথম সরকারের পক্ষ থেকেই করতে হবে। ফলে ব্লু ইকোনোমির সুফল পেতে বাজেটে বরাদ্দ জরুরী। এখাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় বিশাল অংকের সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।
তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। সে তুলনায় গ্রোথ বাড়ছে না বরং কমে যাচ্ছে। গ্রোথ বাড়াতে হলে আমাদের নিজেস্ব সম্পদ আহরণের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামুদ্রিক সম্পদই হতে পারে আমাদের অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি। 
 মো. জোবায়ের আলম বলেন, সমুদ্র বিজ্ঞান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগ খোলা হলেও তাতে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। ফলে টাকার অভাবে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞানের পরিবর্তে শুধু বইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে করে এ বিভাগের মুল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয়ে আমাদের দেশের মানুষের ধারণা খুব কম। এখন এই বিভাগে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে তাদেরকে সঠিকভাবে গবেষণা করার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। যদি আমরা সেটি করতে পারি তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদের ব্যবহারে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি শক্তিশালী হবে।  
 খোরশেদ আলম বলেন, ব্লু ইকোনোমি আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো এ বিষয়ে চারটি মন্ত্রণালয়ে সেল গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো প্রকল্প তৈরি করতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য বড় ব্যর্থতা। প্রকল্প হাতে না নিলে অর্থ বরাদ্দ আসবে কিভাবে। তিনি বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দের কথা বললে হবে না মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রজেক্ট দাঁড় করাতে হবে। কাজের জায়গায় যেতে হবে। তাহলে অর্থের বরাদ্দ চলে আসবে।
ড. গোলাম শফি উদ্দিন বলেন, ব্লু ইকোনোমির বিষয়ে আমরা ইউনিক আইডিয়া নিয়ে এগোচ্ছি। প্রত্যক্ষভাবে চারটি মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনোমি জোন গঠন করা হলেও প্রত্যক্ষভাবে এর সাথে ১৭টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সরকার মনে করেছে সেল হওয়া দরকার তাই হয়েছে। কিন্তু সেলগুলো টাকার অভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ভালো উদ্যোগও অর্থের অভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়গুলোকে একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ব্লু ইকোনোমির কাজ এগিয়ে নিতে কি পরিমান অর্থ প্রয়োজন। সে অনুযায়ী সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা করতে হবে। সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগাতে হলে আলাদাভাবে বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে।
ড. দিলরুবা চৌধুরী বলেন, ব্লু ইকোনোমির রিসোর্স যেন নষ্ট না হয় সে জন্য বাজেটে বরাদ্দ প্রয়োজন। ব্লু ইকোনোমি সম্পর্কে এখনো দেশের মানুষের মধ্যে স্পষ্ট জ্ঞান নেই। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে ভালো ধারণা দিতে পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে একটি অধ্যায় সংযোজন করা যেতে পারে।
লুৎফুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় বাজেটের অনেক কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমরা জানিনা বাজেটে ব্লু ইকোনোমির বিষয়ে কোনো বরাদ্দ রাখা আছে কি-না। যদি থাকে তো ভালো। আর যদি না থাকে তাহলে যে কোনো একটি হেড তৈরি করে থোক বরাদ্দ দিতে হবে। অন্তত কাজটি যেন শুরু হয়। 
গাজী আনোয়ার বলেন, ব্লু ইকোনোমির গুরুত্ব বুঝাতে গবেষণার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ট্রেন-আপ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবাদিকরা যদি ব্লু ইকোনোমি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারে তাহলে মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক জনমত তৈরিতে ভুমিকা রাখতে পারবে। পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন লেখনির মাধ্যমে ব্লু ইকোনোমির গুরুত্ব বুঝাতে পারলে সরকারও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। সমুদ্র অর্থনীতির সুফল পেতে মিডিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ