ঢাকা, বুধবার 15 May 2019, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন নিহত

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের তিন জেলায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রগুলো জানায়, পাবনায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ১৬ মামলার আসামী। যশোরে গোলাগুলীর পর এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আর কক্সবাজারে পৃথক ঘটনায় এক রাতেই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে তিন জন।
পাবনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৬ মামলার আসামী নিহত
পাবনার ঈশ্বরদীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৬ মামলার এক আসামী নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত ভোরে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নে ওই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দীন ফারুকী জানান। নিহত হাফিজুর রহমান তিতাস (৩৮) ঈশ্বরদী বাঁশেরবাদা গ্রামের আব্দুল আজিজ মোল্লার  ছেলে।
পুলিশের দাবি, তিতাস ‘তালিকাভুক্ত  ডাকাত ও সন্ত্রাসী’ এবং তার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় ডাকতিসহ ১৬টি মামলা রয়েছে।
ওসি বলেন, সাঁড়া ইউনিয়নের একটি আখক্ষেতে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা গুলী করে। “এক পর্যায়ে তিতাসকে ঘটনাস্থলে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।” এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলী উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওসি জানান।
যশোরে ‘গোলাগুলীর পর’ এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
যশোর সদরে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গুলীবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের খবর দিয়ে পুলিশ বলেছে, ‘দুই দল ডাকাতের গোলাগুলীতে’ তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার নোঙ্গরপুরে মাগুরের সড়ক থেকে গুলীবিদ্ধ লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব জানান। তিনি বলেন, দুই দল ডাকাতের ‘বন্দুকযুদ্ধের’ খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। “তারা দেখতে পায়, রাস্তার ওপর ৪/৫টি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।”ওই ব্যক্তিকে যশোর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এসআই মাহবুব।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শফিউল্লাহ সবুজ বলেন, “কোতোয়ালি থানা পুলিশ ভোরে গুলীবিদ্ধ একটি লাশ নিয়ে আসে হাসপাতালে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এসআই মাহবুব বলেন, নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় তারা সকাল পর্যন্ত জানতে পারেননি। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, তিনটি গুলী, চারটি দা ও তিন জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কক্সাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক রাতেই নিহত ৩
কক্সবাজারে এক রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের দুই ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা। পুলিশ বলছে, নিহতদের মধ্যে একজন ‘ইয়াবার কারবারি’; আর দুই রোহিঙ্গা ‘মানব পাচারে’ জড়িত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী কাটাপাহাড় এবং টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে গোলাগুলীর ওই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য। নিহতরা হলেন- কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার মোহাম্মদ জহিরের ছেলে শহীদুল ইসলাম ভুলু (৩৬) এবং উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রহিম আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫২) ও টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুর রহিমের ছেলে আজিম উল্লাহ (২২)।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খোন্দকার বলেন, নিহত শহীদুল ইসলাম ভুলু একজন ‘চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী’। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন ভুলু। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকালে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি বলেন, থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর ভুলুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে ভোরের দিকে শহরের কলাতলী কাটাপাহাড় এলাকায় ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশের একটি দল।“পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইয়াবা ব্যবসায়ী ভুলুর সহযোগীরা গুলী ছুড়তে থাকে। পুলিশও তখন আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলী চালায়। গোলাগুলী থামার পর ভুলুকে সেখানে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।”
ভুলুকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৪০০ ইয়াবা, একটি দেশে তৈরি বন্দুক ও দুটি গুলী উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভুলুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কথিত বন্দুকযুদ্ধের অন্য ঘটনাটি ঘটে টেকনাফের শামলাপুর এলাকায়।
টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, সাগরপথে পাচারের জন্য কিছু লোককে ওই এলাকায় জড়ো করা হয়েছে বলে ভোর রাতে খবর পায় পুলিশ।“পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে মানব পাচারকারীরা গুলী ছুড়তে থাকে। পুলিশও তখন আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলী করে। পরে ঘটনাস্থলে দুইজনকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।”গুলীবিদ্ধ দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও আজিম উল্লাহ হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে জানান ওসি প্রদীপ। তিনি বলেন, এ অভিযানে পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি বন্দুক এবং পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ