ঢাকা, বুধবার 15 May 2019, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কালীগঞ্জে দরিদ্র কৃষকের দুই বিঘা জমির পান আগুনে পুড়ে গেছে

ঝিনাইদহের কালগিঞ্জে এক কৃষকের দুই বিঘা জমির পান পুড়ে গেছে। ছবিতে বরজের পাশে স্যালো স্থাপন করতে দেখা যাচ্ছে

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক দরিদ্র কৃষকের দুই বিঘা জমির পান বরজ আগুনে পুড়ে গেছে। সোমবার সকালে বরজের পাশে স্যালো মেশিন স্তাপনের সময় প্লাষ্টিকের পাইপ জোড়া দিতে জ্বালানো আগুন থেকে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কৃষক অমল রায় এর আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। ঘটনাটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মেকুরখির্দ্দা গ্রামের।
ওই গ্রামের কৃষক অমল রায় জানান, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে তার বরজের পাশে এক ব্যক্তি স্যালো মেশিন স্থাপনের কাজ করছিলেন। একটি এনজিও কর্তৃপক্ষ এই স্থাপনের কাজ করাচ্ছিলেন। এমন সময় তারা প্লাষ্টিকের পাইপ জোড়া দিতে আগুন জ্বালান। অসাবধানতার কারণে সেই আগুন তার বরজে লেগে যায়। প্রচন্ড তাপদাহ এবং বাতাশ মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোটা বরজে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গোটা বরজ ও বরজে থাকা পান পুড়ে গেছে। এতে তার আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।    
অমল রায় আরো জানান, তারা পিতা-পুত্র কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাঠে তাদের দুই বিঘা জমি আছে। সেখানে ধান চাষ করেন। এই দুই বিঘা জমি চাষ করে খুব কষ্টে চলে তাদের সংসার। তিনি জানান, তাদের এলাকায় প্রচুর পানের চাষ রয়েছে। এই চাষ বেশ লাভজনক। তাই গ্রামের দুই ব্যক্তির নিকট থেকে তারা দুই বিঘা জমি লিজ নেন। বছরে ৪০ হাজার টাকা দিতে হয় এই জমিতে। লিজ নেওয়া এই জমিতে তিন বছর জাবদ পান চাষ করেন। তাদের বরজে পানও হয়েছে খুব ভালো। ইতিমধ্যে ৩ লাখ টাকার পান বিক্রি করেছেন। বর্তমানেও পান বিক্রি চলছিল।
কৃষক অমল রায় জানান, এই পান চাষ করতে তাদের এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যে অর্থের অর্ধেক তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়েছেন। এখনও তারা ৪ লাখ টাকা দেনা আছেন। তিনি বলেন, আশা ছিল পান বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করবেন। পাশাপাশি সংসারে সচ্ছলতা ফেরাবেন। কিন্তু তাদের সব আশা শেষ হয়েগেছ।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কালীগঞ্জ ষ্টেশন অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, ১০ টা ১০ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পান। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্তিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন করেন। তিনি বলেন, পাশে স্যালো মেশিনের পাইপ জোড়া দেওয়ার সময় জ্বালানো আগুন থেকে এই অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন। এতে আনুমানিক ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্যালো স্থাপন কাজে নিয়োজিত প্রধান মিস্ত্রি মকছেদ আলী জানান, তার ধারনা তাদের সঙ্গে থাকা মিস্ত্রিদের কেউ সিগারেট খেয়ে আগুন ফেলেছে। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই কাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাক বর্তমানে চট্টগ্রাম আছেন। তিনি ফিরে এলে এ নিয়ে বসা হবে বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ