ঢাকা, রোববার 20 October 2019, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে গুটি আম পাড়ার উৎসব

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আজ বুধবার থেকে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু। রোববার জেলা প্রশাসন এই সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে । 

প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী রাজশাহীতে ১৫ মে (আজ বুধবার) থেকে গুটি আম পাড়া যাবে।

দেশবাসীকে বিষমুক্ত ফল দিতে গত তিন বছর ধরে গাছ থেকে আম ভাঙার জন্য সময় বেঁধে দিচ্ছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। কিন্তু তীব্র তপদাহে সময়ের আগে অনেক আম পেকে গাছেই নষ্ট হয়ে যায়। এর ওপর ঝড়-ঝঞ্ঝা আর শিলাবৃষ্টির ধকল যাচ্ছে এবার রাজশাহীর আমের ওপর দিয়ে। তাই কিছুটা আগেই সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়ার অপরাধে ছয়জনকে কারাদ- প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলার বাঘা উপজেলার আম ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা মেনে বুধবার (আজ) থেকে আমরা আম বাজারজাত শুরু করব। গত বছরের চেয়ে এবার পাঁচ দিন আগে বাজারে আম আসতে শুরু করবে। এবারও দেশের সবচেয়ে বড় আমের হাট বসছে পুঠিয়ার বানেশ্বরে। এই হাটে শুরুর দিনে আসবে গুটি জাতের আম। পর্যায়ক্রমে আমের পরিপক্বতা অনুযায়ী আম বাজারে আসবে। আর আম কেনাবেচায় ভরে উঠবে বানেশ্বরের বাজার। ব্যবসায়ী ও আম চাষিরা পুরোদমে প্রস্তুত আম পাড়া নিয়ে।’

রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী জেলার মৌসুমী ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়া হয়। 

সময়সূচি অনুযায়ী, সকল প্রকার গুটিআম বাগান থেকে পাড়া যাবে আজ বুধবার থেকে। আর গোপালভোগ আম পাড়া যাবে ২০ মে, রাণী পছন্দ ২৫ মে, খিরসাপাত ও হিমসাগর ২৮ মে, লক্ষ্মণভোগ ও লখনা ২৫ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৬ জুন, ফজলি ও সুরমা ফজলি ১৬ জুন এবং আশ্বিনা ১ জুলাই থেকে আম পাড়া যাবে।

জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের জানান, নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ আম পাড়লে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কারো বাগানের আম যদি পেকে যায় সেক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে জানাতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঠে গিয়ে যদি তার সত্যতা পান তাহলে তিনি আগেই আম পাড়ার নির্দেশ দিতে পারবেন। তবে আমে কার্বাইড কিংবা ফরমালিন দেয়া হচ্ছে কি না তা দেখভাল করার জন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

আমকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য পাল্টে দিয়েছে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতি। রাজশাহী অঞ্চলের দুটি বড় আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজার মিলিয়ে প্রতিদিন বেচাকেনা হয় প্রায় দুই কোটি টাকার আম। আমের কারবার নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়। গাছের আম নামানোর কামলা থেকে আম পরিবহন, আম চালানের ঝুড়ি বানানো এবং বাজারগুলোয় আমসংশ্লিষ্ট নানা কাজে এসব মানুষ ব্যস্ত সময় কাটায়। রাজশাহীর কুরিয়ার সার্ভিসগুলোও এ সময় আম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ