ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙলো বিজেপি

১৫ মে, আনন্দবাজার, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া : ভারতের কলকাতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের কেন্দ্রীয় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের এক রোড শো থেকে এই ভাঙচুর চালানো হয়। বিদ্যাসাগর কলেজে চালানো এ তাণ্ডব থেকে বাদ যায়নি কলেজের আসবাবপত্র। তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে শেষমেষ কলেজের অফিস ঘরে বসানো বিদ্যাসাগর-মূর্তি আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে বিজেপি সমর্থকরা। আগামী সেপ্টেম্বরে বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ পূর্তি পালিত হবে। তার আগেই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্বরোচিত এ ঘটনা ঘটলো।

কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। ১৯৭০ সালেও একবার তার মূর্তি ভাঙচুর করে নকশালরা। তবে সেবারের ঘটনায় অতি বামরা যুক্ত থাকলেও এবার তাণ্ডব চালিয়েছে অতি ডান বলয়ের বিজেপি। তবে কোনোভাবেই মঙ্গলবারের ‘নৈরাজ্য’ এবং মূর্তি ভাঙার ঘটনার সঙ্গে ৭০-এর উত্তাল সময়কে মেলাতে রাজি নন সাবেক নকশালপন্থীরা।

গত মঙ্গলবার শুধু বিদ্যাসাগর কলেজেই নয়, এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসেও তা-ব চালায় মারমুখী বিজেপি সমর্থকরা। বাইরে থেকে ক্যাম্পাসে পাথর ও ইট নিক্ষেপ করে তারা। তাদের ছোড়া পাথরের আঘাতে আহত হন বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী। এ সময় ক্যাম্পাসে থাকা বাইকেও আগুন ধরিয়ে দেয় বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

পুরো বিদ্যাসাগর কলেজ এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নিলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানের ঝাঁপ ফেলে পালিয়ে যান। এক পর্যায়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দেখা যায়, কলেজ-চত্বরে বিদ্যাসাগরের ভাঙা মূর্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অফিসঘরের কাচ, দরজা, আসবাব ভাঙা। ভেতরটাও লণ্ডভণ্ড। তৃণমূল সমর্থক শিক্ষার্থী স্বর্ণালী মিশ্র বলেন, ‘‘আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। হামলাকারীদের দেখে পালিয়ে যাই।’’ গোলমালের পরে পুলিশ পোড়া মোটরবাইক সরাতে গেলে বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন। 

এদিকে কলেজে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের নিন্দায় সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলেজে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তির ভাঙা অংশগুলো কুড়িয়ে একটি বাক্সে রাখেন। এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা দেন তিনি। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। আগুন জ্বালানো হয়েছে। এটা ওর ২০০ বছর। কোনও রাজনৈতিক দলের এ রকম হাঙ্গামা কখনও দেখিনি। বিহার-রাজস্থান থেকে গুণ্ডা এনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নিন্দার ভাষা নেই। আমি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। বাংলার মানুষ হয়ে আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান দিতে পারি না বিজেপির গুণ্ডাদের জন্য।’’

নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যেই মূর্তি ভাঙার খবর পান মমতা। তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে কঠোর নির্দেশ দেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। বিজেপির কিছু লোক এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। যে-কোনও মূল্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে।’’ পুলিশ রাতে জানায়, ১৬ দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পুলিশ কমিশনারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আজ বুধবার তার বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘অনেকে বলছে, পুলিশের তরফে নাকি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে গোটা ঘটনায় তৃণমূলের ওপর দায় চাপানো হয়েছে। কিন্তু আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। এমন কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পুরোটাই ভুয়া। তৃণমূল এসব করে না। এত বছর ধরে মিছিল করেছি। আমাদের ছাত্ররা মিছিল করেছে। কোনও দিন এমন ঘটনা ঘটেনি।’’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ