ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিট না হওয়াতে বাঁধাগ্রস্ত বিনিয়োগ

স্টাফ রিপোর্টার: কর্পোরেট সুদ হার কমিয়ে সুবিধা নিলেও ঋণের সুদ কমায়নি ব্যাংক পরিচালকরা। এক অংকে নামিয়ে আনার বদলে উল্টো বাড়ানো হয়েছে ঋণের সুদ হার। এক্ষেত্রে সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রীর) নির্দেশনাও আমলে নেয়নি ব্যাংক মালিকরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণের সুদ নেয়া হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ। ঋণ সুবিধার উল্টো যাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ। অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুদের হার না কমালে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যে দেশ পিছিয়ে পড়বে।
 গেল বছরের জুলাই থেকে ঋণের সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনার কথা ছিলো। এজন্য সরকারি আমানতের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, করপোরেট কর হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমাসহ এক গুচ্ছ দাবি আদায় করে নেয় পরিচালকরা। বিনিয়োগ বাড়াতে তাদের সব দাবি পুরণ করে সরকার। কিন্তু এতো সুবিধা নিয়েও কথা রাখেনি ব্যাংকগুলো। গত বাজেটের আগে ব্যাংক মালিকরা অর্থমন্ত্রীর সাথে একাধিক বার বৈঠক করে। সে সময় তারা এসব দাবি পুলনের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। তারা বলেন, এসব দাবি আদায় হলে আমরা ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনবো। এতে সহজেই বিনিয়োগ করতে পারবে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তা আর হলো না। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীকেও কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সে কথা রাখলেন না। উল্টো কোন কোন ক্ষেত্রে ঋণের সুদ হার বেড়েছে। যা আত্যন্ত দুংখজনক।
গুযোগ সুবিধা নেয়ার আগে তারা বলেছিল, ঋণের সুদ হার অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিট করা হবে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে। এখন তারা উল্টো যুক্তি দাঁড় করিয়েছে যে, আমরা আমানত না পেলে কিভাবে সিঙ্গেল ডিজিটে সুদে ঋণ দিব। তারা আগে এসব যুক্ত এক বারও উপস্থাপন করলেন না।
তারল্য সংকট এবং স্বল্প সুদে আমানত পাওয়াকে কারণ হিসেবে দাবি করছেন ব্যাংকাররা। ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাদের ডিপোজিট ৫০ শতাংশ রাখার কথা সেটি তো হচ্ছেই না, যেটুকু হচ্ছে তা টেন্ডারের মাধ্যমে হচ্ছে। যেখানে আমার ব্যাংকের মূল উপাদান হচ্ছে ডিপোজিট সেই ডিপোজিট যদি আনতে হয় ৬০, ১০, ১১ এমনকি সাড়ে এগারো শতাংশ হারে আছে। সেখানে কিভাবে দিব।
 ঘোষণা দিয়েও ঋণের সুদ হার না কমিয়ে উল্টো বাড়িয়ে দিচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। শিল্প ঋণে ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ গুনতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের ক্ষেত্রে এ হার আরো বেশি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে ঋণের সুদ হার কমানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
এফবিসিসিআই এর বিদায়ী সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে না কারণ আজকের দিনে খুব কম ব্যবসা আছে যাতে ১৫ শতাংশ নেট প্রফিড করতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক জাতীয় সুযোগ তাদের দিতে চাচ্ছে যারা খেলাপি হয়ে গেছে তাদের উঠিয়ে আনার জন্য। এটি হলে মূল্যস্ফীতি কমে যাবে এতে সরকারকে দেয়া কথা তারা রাখতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ