ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 May 2019, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাজেটের অধিকাংশ ব্যয় ঋণ পরিশোধে -নজরুল

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি আয়োজিত ৪৩তম ফারাক্কা লংমার্চ উপলক্ষে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, একটা সময় দেশের বাজেট বরাদ্দের অধিকাংশ রাখা হতো স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা প্রতিরক্ষা খাতে। বর্তমানে দেশের বাজেটের অধিকাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বিদেশিদের ঋণ পরিশোধ করতে।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ ভাসানী) উদ্যোগে ৪৩তম ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বর্তমান রাজনৈতিক মহাসংকট উত্তরণে মওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের ঋণ বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে পত্রিকায় পড়লাম বর্তমানে একটা শিশু জন্মগ্রহণ করার সাথে সাথে তার মাথাপিছু ঋণ ৬০ হাজার টাকা। এভাবে চলতে থাকলে দেশ একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। এর থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে এ সরকারের পতন দরকার।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম যে গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের শান্তির জন্য, তা আজ আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনের একমাত্র যোগ্য নেতা খালেদা জিয়া। তার মুক্তি শুধুমাত্র একজন নেত্রীর মুক্তি নয়, একজন ব্যক্তির মুক্তি নয়; তার মুক্তি মানে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি। তাই খালেদা জিয়াকে আগে মুক্ত করতে হবে, তাহলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো বলেই স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। আজ আমরা আরেকটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করছি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, দেশে আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, কৃষক তার নিজের ফসলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। কারণ সে জানে, সেই ফসল কেটে ঘরে তুলে আনলে তার লস হবে। শুধু কৃষকের লস হচ্ছে তা নয়। বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে, আন্দোলন করতে হচ্ছে। এ কোন্ দেশে আমরা বাস করছি?
নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই দেশে আগে এত শুনি নাই মা-বোনদের ধর্ষণ ও নির্যাতনের কথা এবং সেই ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচার চাইতে গেলে যাদের কাছে বিচার চাওয়া হয় তাদের কাছে প্রতিদান না পেয়ে আত্মহত্যার কথা। পিতা কন্যাসন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করছে। কী হচ্ছে আমাদের দেশে? বেকার বেড়ে চলেছে, মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। মানুষের কষ্ট বেড়ে চলেছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে।
অথচ আমাদের মন্ত্রীরা বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, জিনিসপত্র দাম কমছে, মানুষ শান্তিতে আছে। আসলে আমার মনে হয়, এসব মন্ত্রীরা কখনো বাজার ঘুরে দেখেন না। মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের কষ্টগুলো বুঝেন না, দেখেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ